ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোনারগাঁ বন বিভাগের কার্যালয়ে মাদকের আখড়া

সোনারগাঁ বন বিভাগের  কার্যালয়ে মাদকের আখড়া
×

ফাইল ছবি

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা বন বিভাগের কার্যালয়টি অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় অবস্থিত ওই কার্যালয়ের প্রধান ফটক সারাক্ষণ তালাবদ্ধ থাকলেও দেয়াল টপকে ভেতরে আসর জমায় মাদকসেবীরা। স্থানীয়রা বলছেন, ছিনতাইকারী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরাই এতে জড়িত।

বারদী রিবর এলাকার বাসিন্দা ওয়াহেদ উল্লাহ বলেন, বন বিভাগে এসে কখনও কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে কার্যালয়টি তাদের কাজে আসছে না। সব সময়ই প্রধান ফটক তালাবদ্ধ পেয়েছেন। মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিস গ্রামের আরিফুল ইসলাম বলেন, অরক্ষিত থাকার কারণে বিকেল থেকে এখানে অপরাধীরা আড্ডা জমায়। যে কারণে স্থানীয়রা আতঙ্কে রয়েছেন।

সোনারগাঁ পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. হোসাইন বলেন, নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ভূমিকা নিতে পারছেন না। বন বিভাগের কার্যালয়টি মাদকসেবী, ছিনতাইকারীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। তাদের ঠেকাতে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৭১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সোনারগাঁ উপজেলার জন্য একজন বন কর্মকর্তা রয়েছেন। অন্য তিন কর্মীর মধ্যে একজন নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। বাকি দু’জন মালী হিসেবে কর্মরত। মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় প্রায় ২ একর জায়গায় সামাজিক বনায়ন নার্সারি, বাগান ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে এ কার্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। অযত্ন ও অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোয়ার্টার। সেখান থেকে জানালা-দরজা চুরি হয়ে গেছে অনেক আগেই। ফলে অপরাধ করার সুযোগ পাচ্ছে অপরাধীরা।

সোনারগাঁয়ের মতো বড় একটি উপজেলায় মাত্র একজন বন কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকে দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেন জামপুর ইউনিয়নের কলতাপাড়া গ্রামের আলী আজগর। তিনি বলেন, এখানে কোনো সেবাই পাওয়া যায় না।

ওই কার্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী সাইফুল ইসলাম বলেন, নিচু সীমানা দেয়ালের অনেক জায়গা ভেঙে গেছে। ফলে মাদকসেবী ও অপরাধীরা এখানে ঢুকে পড়ে। তিনি একা হওয়ায় ভয়ে কিছু বলতে পারেন না। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আতঙ্কে থাকতে হয়।

উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুল মুমিন বলেন, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও জনবল বাড়ানোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন। দ্রুত তারা পদক্ষেপ নেবেন– এমন আশা করছেন। তাঁকে কার্যালয়ে পাওয়া যায় না– এ অভিযোগের বিষয়ে বলেন, ‘পুরো উপজেলায় আমাকে সেবা দিতে হয়। বিভিন্ন স্পটে যেতে হয়। ফলে সব সময় কার্যালয়ে থাকা সম্ভব হয় না।’

আরও পড়ুন

×