‘আমার ফাঁসি চাই’

প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

নাজনীন আলম -ফাইল ছবি

নিজের ফাঁসি চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ময়মনসিংহের গৌরীপুরের নারী নেত্রী নাজনীন আলম। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) সংসদীয় আসনের আলোচিত নারী নেত্রী নাজনীন আলম। তিনি ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। ২০১৪ সালে সংসদীয় আসনটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে হেভিওয়য়েট প্রার্থী প্রয়াত স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকিরের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে পরাজিত হলেও আলোচনায় ছিলেন সর্বত্র। ২০১৬ সালে সাংসদ মজিবুর রহমান প্রয়াত হলে উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন চান বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নাজনীন আলম। কিন্তু আওয়ামী লীগ থেকে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ব্যার্থ হন। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সাংসদ হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চান তিনি। কিন্তু তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

মনোনয়ন না পেয়ে নিজের ফাঁসি চেয়েছেন নাজনীন আলম। শনিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে ‘আমার ফাঁসি চাই’ শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি। নিজের ফাঁসি চাওয়ার কারণ হিসেবে নিজের ১০টি ভুল বা অপরাধ তুলে ধরেছেন নাজনীন আলম। তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘আমার ফাঁসি চাই। কেন হাইকমান্ডের আশ্বাসকে সরল মনে বিশ্বাস করেছিলাম। এলাকাবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থাকার প্রয়োজন কেন অনুভব করেছিলাম। এমপি বা সিনিয়র কোনো নেতার পরিবারের সদস্য কেন আমি হলাম না। কেন দলের নাম ভাঙিয়ে একটি পয়সা রোজগারের ধান্দা করিনি। কেন দলের জন্য কাজ করতে গিয়ে দিনে দিনে নিঃস্ব হতে গেলাম। কেন জনসমর্থন অর্জনের চেষ্টা করেছিলাম। কেন দলের ভোট ব্যাংক সমৃদ্ধ করতে সদা তৎপর ছিলাম। কেন তদবির/তেলবাজি ঠিকমতো করতে পারলাম না। কেন সমর্থকদের বারবার কাঁদাচ্ছি। সম্ভবত এসবই আমার ভুল ও অপরাধ। এজন্য আমার শাস্তি হওয়া উচিত।’ তবে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য নাজনীন আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন জুয়েল বলেন, মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। নেত্রী যাকে যোগ্য ও প্রয়োজন মনে করেছেন তাকেই মনোনয়ন দিয়েছেন। নেত্রীর প্রতি ওই নারী নেত্রীর আস্থা রাখা উচিৎ ছিল। বিষয়টি নিয়ে তারা দলীয় ভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন বলে জানান। তিনি ওই নেত্রীর রাজনৈতিক দূরদর্শীতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন।