ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ হত্যায় বন্ধু পিন্টুর ফাঁসি

নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ হত্যায় বন্ধু পিন্টুর ফাঁসি
×

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ মে ২০১৯ | ১৫:৫৯ | আপডেট: ২৯ মে ২০১৯ | ১৬:২৯

নারায়ণগঞ্জের আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রবীর ঘোষ হত্যা মামলার রায়ে তার বন্ধু স্বর্ণশিল্পী পিন্টু দেবনাথকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আনিসুর রহমান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দণ্ডিত অপর আসামি হলেন- বাপেন ভৌমিক।

তাকে আলামত গোপনে সহায়তার অভিযোগে অভিযুক্ত করে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে হত্যাকাণ্ডে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত আবদুল্লাহ আল মামুনকে। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মাত্র এক বছরের মাথায় রায় ঘোষিত হলো।

ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত পিন্টু দেবনাথ কুমিল্লা জেলার মেঘনা থানার মৃত সতীশ দেবনাথের ছেলে। পিন্টুর বিরুদ্ধে আরেক বন্ধু স্বপন সাহা হত্যা মামলাটিও বিচারাধীন। প্রবীরকে খুন করার দুই বছর আগে একই কায়দায় স্বপন সাহাকেও হত্যা করে পিন্টু। দুটি হত্যাকাণ্ডের মোটিভ ছিল একই। প্রবীর খুনের তদন্ত করতে গিয়েই বেরিয়ে আসে স্বপন সাহা হত্যার রহস্য।

রায়ে পুরোপুরি সন্তোষ প্রকাশ করেননি নিহত প্রবীর ঘোষের ছোট ভাই ও মামলার বাদী বিদ্যুৎ কুমার ঘোষ বিপ্লব। রায়ে পিন্টুর সহযোগী বাপেনের সাত বছর কারাদণ্ড ও আবদুল্লাহ আল মামুন বেকসুর খালাস পাওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে নিহত প্রবীরের বাবা ভোলানাথ ঘোষ দ্রুত পিন্টু দেবনাথের ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

রায় ঘোষণার আগে রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, বন্ধুর হাতে বন্ধু নৃশংসভাবে খুন- এ ঘটনাটি সাম্প্রতিককালে মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের মানুষের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ মামলায় শতভাগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছি। এ বিচারের মাধ্যমে একটি বিষয় প্রতিষ্ঠিত হবে, অপরাধ করে কেউ পার পাবে না।

নারায়ণগঞ্জের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন বলেন, এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষিত হলো। মামলাটি অধিক গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততার সঙ্গে এর বিচারকাজ শেষ করা হয়েছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান বলেন, আমরা পুনরায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আদালতে আপিল করেছিলাম। বিচারক সেটি গ্রহণ করেননি। পুনরায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করা গেলে রায় অন্য রকমও হতে পারত। তবে আমরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।

ফিরে দেখা প্রবীর হত্যাকাণ্ড: নারায়ণগঞ্জ শহরের কালীর বাজার স্বর্ণপট্টি এলাকায় ভোলানাথ জুয়েলার্সের মালিক ছিলেন প্রবীর ঘোষ। তাকে সহায়তা করতেন ছোট ভাই বিদ্যুৎ কুমার ঘোষ। পাশেই পিন্টু স্বর্ণ শিল্পালয় নামের একটি দোকান চালাতেন পিন্টু দেবনাথ। পিন্টু মূলত স্বর্ণশিল্পী। প্রবীরের জুয়েলারির অনেক কাজ করতেন পিন্টু। দক্ষ স্বর্ণশিল্পী হিসেবে পিন্টুর কালীর বাজার এলাকায় বেশ সুনাম ছিল। 

ভালো কারিগর হওয়ায় পিন্টুর কাজ ও রোজগার ভালো ছিল। বেশ কয়েক বছর আগে পিন্টু কালীর বাজার স্বর্ণভবনে ১০ লাখ টাকায় একটি দোকান কেনেন। বর্তমানে ওই দোকানের দাম ৩০ লাখ টাকার ওপরে। অবিবাহিত পিন্টু বেশ টাকা-পয়সার মালিক হওয়ায় তার অর্থের ওপর নজর ছিল কালীর বাজারের অনেকের।

এদিকে, পিন্টু ও প্রবীরের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকলেও পিন্টুর দোকানটির প্রতি নজর ছিল প্রবীরের। কথিত বড় ভাই মামুনের মাধ্যমে পিন্টু জানতে পারে, প্রবীর তার দোকানটি হাতিয়ে নিতে চায়। এ নিয়ে মনে মনে প্রবীরের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন পিন্টু।

ক্ষোভ থেকে প্রবীরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। ২০১৮ সালের ১৮ জুন রাতে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন প্রবীর। ওই সময় ঈদুল ফিতরের বন্ধ চলছিল। শহর ছিল ফাঁকা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রবীরকে বাসায় ডেকে নিয়ে একাই খুন করেন পিন্টু। এরপর লাশ কেটে সাত টুকরা করে প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে বাসার সেপটিক ট্যাঙ্ক ও পাশের ময়লার ড্রেনে ফেলে দেন।


আরও পড়ুন

×