ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম আবাহনীতে অভিযানে 'নাখোশ' হুইপ সামশুল

চট্টগ্রাম আবাহনীতে অভিযানে 'নাখোশ' হুইপ সামশুল
×

হুইপ সামশুল হক চৌধুরী

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১৫:৫১

ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রামেও 'মাদক ও জুয়াবিরোধী' অভিযান চলছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ক্লাব ও জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়েছে র‌্যাব ও পুলিশ। এর মধ্যে অন্য ক্লাবগুলো নিয়ে তেমন কোনো হৈচৈ না থাকলেও আবাহনী লিমিটেডে চালানো অভিযানটি এখন মানুষের মুখে মুখে। ক্লাবটির সভাপতি আরেক সংসদ সদস্য এমএ লতিফ অভিযানে দোষের কিছু না দেখলেও ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযানের সমালোচনা করছেন ক্লাবের মহাসচিব হুইপ সামশুল হক চৌধুরী।

চট্টগ্রামের পটিয়া আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হুইপ সামশুল হক চৌধুরী। আর দলটির বন্দর-পতেঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য হচ্ছেন এমএ লতিফ।

আবাহনীসহ চট্টগ্রামের ক্লাবগুলোতে অভিযান চালানোর বিষয়ে সাংসদ সামশুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, 'চট্টগ্রামে ১২টি ক্লাব রয়েছে। এসব ক্লাব প্রিমিয়ার লীগে অংশ নেয়। তারা যে খেলাধুলা করে সেটা তো বন্ধ করা যাবে না। অভিযানে জুয়া খেলার আলামত পাওয়া যায়নি। কিন্তু এতে তো ক্লাবগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হলো, ক্ষতি হয়ে গেল।'

তিনি বলেন, ঢাকায় যে অভিযান চলছে সেটা ঠিক আছে। যারা মাদকের কারবারি, যারা ক্যাসিনো চালায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযান ঠিক আছে। কিন্তু চট্টগ্রামে তো ঢাকার মতো এ ধরনের ক্লাবে ক্যাসিনো নেই। আড্ডা দিতেই অনেকে ক্লাবে বসে, তাস খেলে। তাস খেলা তো জুয়া খেলা নয়। যেসব ক্লাবে অভিযান চালানো হয়েছে সেগুলো ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করে। তাদের হয়রানি করা হলে খেলাধুলা তো বন্ধ হয়ে যাবে। তাতে তো তারা (খেলোয়াড়) সন্ত্রাসী-ছিনতাইকারী হয়ে যাবে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে উদ্দেশ করে সাংসদ সামশুল হক বলেন, যারা ক্যাসিনো চালায় তাদের ধরেন। যারা জুয়ার ব্যবসা করে তাদের ধরেন। যারা মাদকের ব্যবসা করে তাদের ধরেন। যে ক্লাবগুলো প্রিমিয়ার লীগে খেলে তাদের ধরা হচ্ছে কেন?

গত শনিবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচটি ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব ও পুলিশ। ক্লাবগুলোর মধ্যে রয়েছে নগরীর সদরঘাটে 'মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, আইস ফ্যাক্টরি রোডে 'বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র (চট্টগ্রাম)', হালিশহরে 'আবাহনী লিমিটেড', এস এ খালেদ রোডে 'ফ্রেন্ডস ক্লাব' এবং আসকার দীঘির পাড়ে 'শতদল ক্লাব'। এর মধ্যে র‌্যাবের চালানো অভিযানে মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্র, আবাহনী ও মোহামেডান ক্লাবে জুয়ার আসর বসানোর আলামত পাওয়া যায় বলে অভিযান শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিজাম উদ্দিন আহমেদ।

আবাহনী ক্লাবে অভিযানের পর ক্লাব মহাসিচব সামশুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করলেও অভিযানে দোষের কিছু দেখছেন না ক্লাবটির সভাপতি এমএ লতিফ। তিনি জানিয়েছেন, খেলাধুলার নামে কেউ যদি অন্যায় কিছু করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাতে কোনো আপত্তি নেই। তবে আবাহনী ক্লাবে কখনও জুয়া খেলা হয় না। অভিযানেও তেমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

×