ঢাকা রবিবার, ১৯ মে ২০২৪

পাউবোর ২০০ মিটার বাঁধ পশুর নদে বিলীন

পাউবোর ২০০ মিটার বাঁধ পশুর নদে বিলীন

বাঁধ নদীতে বিলীন

দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ০৫:০৫

পশুর নদের প্রবল জোয়ারের তোড়ে খুলনার দাকোপে ২০০ মিটার বাঁধসহ দুটি বসতঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় পাউবোর ৩১ নং পোল্ডারের পানখালী পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই পোল্ডারের পানখালী ইউনিয়ন ও চালনা পৌরসভার ৮টি গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন পাউবোর কর্মকর্তারা। তবে জানমাল রক্ষার্থে নদী শাসনসহ টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দারা।

 ‘আমরা খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান চাই না; আমরা নদী শাসনপূর্বক টেকসই বাঁধ চাই; আমাদের পরিবার নিয়ে বাঁচতে চাই’– কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন উপজেলার পানখালী পূর্বপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ কৃষক অমলেন্দু রায়। তিনি বলেন, পশুরসহ বিভিন্ন নদনদীর ভয়াবহ ভাঙনে একের পর এক পৈতৃক ভিটেমাটি, বসতবাড়ি ও স্থাপনা হারিয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন তারা। পৈতৃক চার বিঘা জমি ছিল তাঁর। ছয় বছর আগে পশুর নদে বিলীন হয়ে গেছে। এখন তিন কাঠা জমির ওপর বসতঘর করে কোনো রকমে বেঁচে আছেন।

এমন কথা শুধু অমলেন্দু রায়ের নয়; নদীভাঙনের ভয়াবহতা বর্ণনা করলেন পানখালী গ্রামের দিনমজুর কোরবান গাজী, ভ্যানচালক আসলাম শেখ, শহিদ শেখ, খলিশা গ্রামের মুদি দোকানদার রমেশ চন্দ্র বাওয়ালী, কৃষক জ্যোতিশংকর রায়, পরিতোষ বিশ্বাসসহ অনেকে। গত ১০ বছরে নদীভাঙনে সহায়-সম্বল হারিয়ে অনেক পরিবার এখন পাউবোর বাঁধে ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় পানখালী ইউনিয়নের পানখালী পূর্বপাড়া গ্রামে মুহূর্তের মধ্যে ২০০ মিটার বাঁধসহ স্থানীয় পরিতোষ ও রবিনের বসতঘর নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বাঁধটি বিলীন হওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে এলাকার আমন চাষিসহ শত শত কৃষক পরিবার। তারা জানায়, বর্তমান নদীর জোয়ার অপেক্ষা রাতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে বাঁধের বাকি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যাবে। এতে প্লাবিত হতে পারে পানখালী ইউনিয়নের পানখালী, মৌখালী, হোগলাবুনিয়া, পানখালী পূর্বপাড়া, লক্ষ্মীখোলা, খোনা, চালনা পৌরসভার ছোট খলিশা, বড় খলিশা ও আনন্দনগর গ্রাম।

এ ছাড়া উপজেলার শিবসা, ঢাকী, ঝপঝপিয়া ও ভদ্রা নদীর প্রবল জোয়ারের তোড়ে ৩১ নং পোল্ডারের পানখালী ইউনিয়নের পানখালী জাবেরের খেয়াঘাটের পাশে ৭০ গজ, লক্ষ্মীখোলা পিচের মাথায় ২৫০ গজ, মৌখালীতে ১০০ গজ, তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বটবুনিয়া বাজারে ১৫০ গজ, কামিনি বাসিয়ায় ৩০০ গজ, ঝালবুনিয়ায় ১৪০ গজ, গড়খালী সরদার বাড়ির সামনে ৮০ গজ ওয়াপদা বেড়িবাঁধে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।

এসব ভাঙন এলাকায় দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়া হলে, যে কোনো মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান নদীতে বিলীন হলে প্লাবিত হতে পারে ৩১ নং পোল্ডারের চালনা পৌরসভাসহ তিলডাঙ্গা ও পানখালী ইউনিয়নের ১৫-১৬টি গ্রাম। প্রায় ১০ হাজার মানুষের পানিবন্দি হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আবুল হোসেন বলেন, ‘পশুর নদে বিলীন বাঁধটি নিয়ে পাউবোর মহাপরিচালকসহ খুলনার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছি।’

পাউবোর খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, পানখালী পূর্বপাড়া গ্রামে পশুর নদে বিলীন হওয়া বাঁধটি পাউবোর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পীযূষ কান্তি কুণ্ডুর নেতৃত্বে আমরা পরিদর্শন করেছি। বাঁধটির বাকি অংশ রক্ষায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ পোল্ডারের উপকূলবাসীকে রক্ষার্থে বাঁধটি টেকসই করার জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ভেঙে যাওয়া বাঁধটির বিপরীত অংশে মাটি ভরাট হওয়ায় এবং নদীভাঙন স্থানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলায় আতঙ্ক কিছুটা কেটেছে। এ পোল্ডারের ঝুঁকিপূর্ণ ৭ থেকে ৮টি বাঁধ সংস্কারে তৎপর রয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন

×