ঢাকা মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪

সুনসান শিমুলিয়া ঘাটে মাদক জুয়ার আসর

সুনসান শিমুলিয়া ঘাটে মাদক জুয়ার আসর

শিমুলিয়া ঘাট (ফাইল ফটো)

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ২১:১৩

পনেরো মাস আগে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। চলাচল করছে না ফেরি, স্পিডবোট ও লঞ্চ। ফলে চিরচেনা কোলাহলপূর্ণ শিমুলিয়া ঘাট সুনসান হয়ে যায়। তবে এখানে গড়ে ওঠা রেস্তোরাঁগুলো চালু রয়েছে। পর্যটকরা পদ্মা সেতু ভ্রমণ করে এসে শিমুলিয়া ঘাটের রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া করেন।

পর্যটকের ব্যাপক আনাগোনাকে পুঁজি করে স্থানীয় সুমন মাতবর, শামীম মাতবর ও মনা নামে তিনজন শিমুলিয়া ঘাটে মাদক, জুয়া ও যৌনবৃত্তি চালিয়ে যাচ্ছেন। এই বাহিনীর কর্মকাণ্ডে রেস্তোরাঁ মালিক ও পর্যটকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘাট বন্ধ হওয়ার পর থেকে কুমারভোগ গ্রামের সুমন ও শামীম এবং তাদের সহযোগী মনা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তারা ফাঁকা যাত্রীছাউনিতে জুয়ার আসর বসান। হারিকেনের ফিতা দিয়ে বিশেষ জুয়াখেলা আবিষ্কার করে দর্শনার্থীদের ফাঁদে ফেলছেন। তাদের জোর করে জুয়া খেলতে বাধ্য করেন। অনেক দর্শনার্থীর পকেট ফাঁকা করে দেন তারা। অনেকে আবার মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল পর্যন্ত দিয়ে যেতে বাধ্য হন। জুয়ায় হেরে টাকাপয়সা কিংবা মোবাইল ফোন না দিতে পারলে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয় দর্শনার্থীদের। সুমন বাহিনী জুয়ার আসর থেকে প্রতিদিন ১ লাখ টাকা উপার্জন করে বলে স্থানীয়রা জানান।

 গত বছরের অক্টোবরে জুয়া খেলার ছবি তোলায় সমকালের লৌহজং প্রতিনিধি মিজানুর রহমান ঝিলুর ওপর হামলা চালান সুমন, শামীমসহ ৮-১০ জন। এ ঘটনায় পদ্মা সেতু উত্তর থানায় সুমনকে প্রধান আসামি করে ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন সাংবাদিক ঝিলু। পরে সুমনকে আটক করে আদালতে পাঠায় পুলিশ। জামিনে এসে আবার জুয়ার আসর বসান সুমন।

এর কিছুদিন পর ঘাটে সুমনসহ বাহিনীর ছয় সদস্যকে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের এক মাসের জেল দেন। এবারও জামিনে এসে ঘাটে জুয়া ও মাদকের আসর বসায় সুমন বাহিনী। কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণীদের এনে সন্ধ্যার পরে যৌনবৃত্তি চালাচ্ছে এই বাহিনী

 সম্প্রতি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রুপালি ইলিশ নামে রেস্তোরাঁর মালিক শামীম শেখ ও শ্রমিকদের শারীরিক নির্যাতন করেছে সুমন বাহিনী। তিন সপ্তাহ আগে রাতে লৌহজং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইলিয়াস শিকদার তাঁর সহকর্মী কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে শিমুলিয়া ঘাটের একটি রেস্তোরাঁয় যান। হঠাৎ সেখানে জুয়াড়িরা টাকার ভাগাভাগি নিয়ে মারামারি শুরু করে।

ইলিয়াস শিকদার জানান, এক পর্যায়ে তারা রেস্তোরাঁর কাবাব বানানোর লোহার শিক কেড়ে নিয়ে নিজেদের মধ্যে মারামারি করতে থাকে। এ দৃশ্য দেখে তাঁর বন্ধুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ এলে জুয়াড়িরা সটকে পড়ে।
 শিমুলিয়া ঘাট রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি মুরাদ খান বলেন, সুমন বাহিনীর দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে। এতদিন তারা দর্শনার্থীদের হেনস্তা করেছে। এখন রেস্তোরাঁ মালিক-শ্রমিকরাও তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। তিনি আরও বলেন, শিমুলিয়া ঘাটে রেস্তোরাঁ শিল্পে মালিকরা প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। ৫০০ শ্রমিক এখানে কাজ করেন। দুর্বৃত্তদের কারণে দর্শনার্থী ও রেস্তোরাঁ মালিকরা নিরাপত্তাহীনতা বোধ করলে এ ব্যবসা গুটিয়ে নিতে হবে।
 সর্বশেষ মঙ্গলবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিক্রমপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাসুদ খান ও লৌহজং প্রেস ক্লাবের সভাপতি মিজানুর রহমান ঝিলু সুমন বাহিনীর কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন। তারা সভায় জানান, শিমুলিয়া ঘাট এলাকায় সুমন বাহিনী জুয়া খেলা, মাদক বিক্রি ও পর্যটকদের হেনস্তা করছে।
পুলিশের নীরবতা ও ছত্রচ্ছায়ায় সুমন
বাহিনী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে
অভিযোগ রয়েছে। পদ্মা সেতু উত্তর থানার কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার প্রশ্রয়ে জুয়ার আসর, মাদক বিক্রি ও পতিতাবৃত্তি চলছে বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েক স্থানীয় বাসিন্দা জানান।
পদ্মা সেতু উত্তর থানার ওসি আলমগীর হোসাইন নিজেই বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার কয়েকজন অফিসারের কারণে শিমুলিয়া ঘাটের অপরাধীদের দমন করা সম্ভব হচ্ছে না।’

আরও পড়ুন

×