লুটপাটের মামলা করার পর পাওয়া গেল গৃহবধূর গলা কাটা লাশ

প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২০     আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২০   

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট

ইতি বেগম

ইতি বেগম

বাগেরহাটের চিতলমারীতে ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলায় করার জের ধরে এক গৃহবধূকে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার নাম ইতি বেগম (২০)। বুধবার দুপুরে উপজেলার কুনিয়া গ্রামে স্বামীর ঘরে তার গলা কাটা লাশ পাওয়া যায়। ঘটনার পর থেকে ইতি বেগমের ভাসুর আমিনুর ইসলাম মীরের ১৪ বছর বয়সী ছেলে সাগর ইসলামও নিখোঁজ রয়েছে।

ইতি বেগম কুনিয়া গ্রামের সদর আলী মীরের ছেলে জাহিদুল মীরের স্ত্রী। দুই মাস আগে তার বিয়ে হয়।

ওই পরিবারের সদস্যরা জানান, চুরির অপবাদ দিয়ে সোমবার দুপুরে সদর আলী মীরের দু’টি বসত বাড়ি ভাংচুর, লুটপাট ও বাড়িতে থাকা নারীদের মারধর করে প্রতিপক্ষরা। ৯৯৯ নাইনে ফোন করে বিষয়টি জানালেও প্রতিকার পায়নি পরিবারটি। পুলিশ ঘুরে যাওয়ার পরেও ওই পরিবারের গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, কবুতরসহ মালামাল লুট করা হয়। এরপর হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে চিতলমারী থানায় মামলা দায়ের করেন সদর আলীর পুত্রবধূ সানজিদা বেগম।

সানজিদা বলেন, 'গ্রামের ইকবাল, সফিক ও ফেরদৌস আলমের নেতৃত্বে আমাদের বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ সময় স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকাসহ সিন্দুক, ৮টি গরু, ১০টি ছাগল, শতাধিক কবুতরসহ অনেক মালামাল লুট করা হয়। এরপরও হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে আসছিল। মঙ্গলবার রাতে থানায় মামলা দায়েরের পর আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা পরিকল্পিতভাবে আমার জা’কে হত্যা করেছে। আমার ভাসুরের ছেলে সাগরও নিখোঁজ।' 

তিনি আরও বলে, 'হামলার পর থেকে আমরা কেউ বাড়িতে ছিলাম না। কিন্তু পুলিশ আমাদের বাড়িতে থাকতে বলেছে। পুলিশের ওপর ভরসা করেই আমার জা ও ভাসুরের ছেলে বাড়িতে ছিল।' 

ইতি বেগমের ননদ সৈয়দা সুলতানা বেগম বলেন, 'আমাদের বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ভারী ও ভাতিজার কাছে শুনে ৯৯৯ এ কল দেই। ৯৯৯ স্থানীয় থানা পুলিশের সঙ্গে কানেক্ট করিয়ে দেয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও সন্দেহজনক কারণে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। সোমবার রাতে তারা আবারও গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী, কবুতর ও মালামাল লুট করে। এরপর মঙ্গলবার রাতে মামলা নেয় পুলিশ।' হামলাকারীদের কাছে পুলিশের ভূমিকা স্পষ্ট হলে গেলে তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে তার অভিযোগ।

এ ব্যাপারে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর শরিফুল হক বলেন, 'ইতি খানম ও তার ভাসুরের ছেলে সাগর ইসলাম বাড়িতে ছিল। রাতের কোনো এক সময় ইতিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। দুপুরে লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।'

দুদিন আগে হামলার ঘটনায় পুলিষের অসহযোগিতা ও নিষ্ক্রিয় থাকার অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, 'হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। আমি নিজেও দুইবার গিয়েছিলাম। পুলিশ যাওয়ার পরে আর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।' ওই পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় বেশকিছু চুরির মামলা রয়েছে। তাই এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওই হামলা করে বলে দাবি করেন তিনি।