‘যুদ্ধের ৪৯ বছর পর মুক্তিযোদ্ধা হলাম’

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২০   

জয়পুরহাট প্রতিনিধি

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা শ্রী বানো পাহান -সমকাল

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা শ্রী বানো পাহান -সমকাল

‘আজ আমার ক্রান্তি লগ্ন। জীবনের সবকিছুই শেষ প্রান্তে। যখন যুদ্ধ করেছিলাম তখন শরীরে ছিল শক্তি, আজ আর তা নেই। তখন শত বাঁধা উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছিলাম। যাওয়ার আগে ইন্ডিয়াতে প্রশিক্ষণও নিয়েছিলাম। কই এতদিন পার হয়ে গেল, সরকার আমাকে মুক্তিযোদ্ধার সনদ এবং ভাতাও দেয়নি। এমনকি খেয়ে আছি, না নাখেয়ে আছি তাও কোনদিন খোঁজও নেয়নি কেউ। যুদ্ধের ৪৯ বছর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযোদ্ধার সনদ প্রদান করলেন আমাকে। এখন আমি মুক্তিযোদ্ধা হলাম।’

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে মুক্তিযোদ্ধার সনদ পেয়ে কান্নাজড়িত কন্ঠে এসব কথা বলেন জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার দোঘড়া গ্রামের নতুন তালিকাভুক্ত আদিবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী বানো পাহান।

তিনি বলেন, আর যাই হউক সনদ পেয়েছি, সরকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে বের করেছে। তাই আমি আজ গর্বিত। আমি হয়তো আর বেশিদিন বাঁচবো না। তবে এই সনদের কারণে নিজের ছেলে-মেয়ে ও নাতিপুতিরা সরকারের অনেক সুযোগ-সুবিধা পাবে। তাতেই আমি খুশি। মরে গিয়েও অন্তত শান্তিতে ঘুমাতে পারবো।

মুক্তিযোদ্ধা শ্রী বানো পাহান বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ছেলে-মেয়েসহ সংসারের সবাইকে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবন-যাপন করে আসছি। সনদ হাতে পেয়ে আজ আমি সবকিছু ভুলে গেছি। ৪৯ বছরের কষ্ট আজ আর আমার নেই।

জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৬৬তম সভার সিদ্ধান্তে প্রকাশিত গেজেটে শ্রী বানো পাহানসহ পাঁচবিবি উপজেলায় ৬ জন নতুন মুক্তিযোদ্ধার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এদের সবাইকে ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে গত দুই মাসের সম্মানি ভাতাও প্রদান করা হয়েছে। 

পাঁচবিবি উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মিছির আলী মন্ডল বলেন, সে সময় ভারতে ট্রেনিং শেষে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বানো পাহান আমার সঙ্গে থেকেই যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিল। আমিই কালের স্বাক্ষী। কেন এতদিন ওর নাম বাদ ছিল তা আসলে আমার জানা ছিল না। তবে বিভিন্ন সময় সুযোগ অনুযায়ী ওর বিষয়ে বিভিন্নজনের কাছে বলেছিলাম। আজ তার ফল এসেছে। এ উপজেলায় নতুন ৬ জনসহ ১৬৪ জন সনদধারী মুক্তিযোদ্ধা আছেন।