ফেনীতে জয়নাল হাজারীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ
জয়নাল হাজারী- সংগৃহীত ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফেনী
প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২০ | ১০:২২
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য জয়নাল হাজারীর ফেনীর বাড়িতে গুলিবর্ষণ, হামলা ও ভাংচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ও শুক্রবার বিকালে দুই দফায় এ হামলা হয় বলে অভিযোগ করেন জয়নাল হাজারী।
তিনি বলেন, পুলিশের বাধার মুখে এবং প্রতিদ্বন্দি গ্রুপের প্রতিরোধে ১৫ আগষ্টের শোক দিবসের কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, শুক্রবার রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে প্রতিদ্বন্দিরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বাড়িতে অবস্থিত মুজিব উদ্যানে ১৫ আগস্ট জাতির পিতার মৃত্যুবার্ষিকী ও শোক দিবস পালনের জন্য প্রস্তুত চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করে, ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে এবং ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
জয়নাল হাজারী জানান, তিনি অসুস্থ মানুষ। গত দুই রাত তিনি মাইকের অত্যাচারে ঘুমাতে পারছেন না। প্রতিদ্বন্দিরা তার ঘরের দিকে মাইক ঘুরিয়ে দিন রাত এক টানা মাইক বাজিয়ে চলছে। এমনকি তিনি কারও সঙ্গে কথা বলতে পর্যন্ত পারছেন না। এ অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি। মুজির উদ্যান ও তার বাড়িতে কারো পক্ষে প্রবেশ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে তিনি সকালে মোবাইলে বিস্তারিত দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে অবহিত করেছেন বলে জানান।
জয়নাল হাজারী সমর্থক হিসাবে পরিচিত সাবেক জেলা যুবলীগ সভাপতি আজহারুল হক আরজু বলেন, ‘তিনবারের নির্বাচিত এমপি জয়নাল হাজারীর বিশাল সমর্থক গোষ্টি রয়েছে ফেনীতে। জনপ্রিয়তার ভয়ে ভীত হয়ে নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপির সমর্থকরা শুক্রবার রাত থেকে মাষ্টার পাড়ার বাসায় হামলা করেছে। তারা বাড়িতে প্রবেশ করে কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণ ও আসবারপত্র ভাংচুর করে পালিয়ে যায়। হামলার খবর শুনে গভীর রাতে ঢাকা থেকে ফেনীতে ছুটে আসেন জয়নাল হাজারী। এখন যাতে তার সাথে সমর্থকরা দেখা করতে না পারে তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে প্রশাসনের সমর্থনে।’
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় লোকজন জানান, জয়নাল হাজরীর মাষ্টার পাড়ায় অবস্থিত বহুল আলোচিত শৈল কুঠির নিবাসে প্রায় দুই শতাধিক যুবক অবস্থান নিয়ে রেখেছে। একাধিক সূত্র জানায়, হাজারীর বাড়িতে অবস্থিতরা যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম। তবে শোক দিবসে কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে তারা জড়িত হতে চায় না। তবে হামলা হলে প্রতিহত করা হবে।
এ বিষয়ে ফেনী সদর থানার ওসি আলমগীর হোসেন সমকালকে বলেন, নিরাপত্তার কারণে পুলিশ রশির ব্যারিকেট দিয়ে যাতাযাত নিয়ন্ত্রণ করে রেখেছে। তিনি বলেন, ইতিপূবে জয়নাল হাজারীর বাস ভবনের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ ও র্যাবের তৎপরতায় পরিস্থিতি শান্ত করা সম্ভব হয়েছে। প্রায় শতাধিক পুলিশ প্রতিদ্বন্দ্বি দুই গ্রুপের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে তিনি জানান।
জয়নাল হাজারীর বাস ভবনে হামলার অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে ওসি জানান। তিনি বলেন, ঘটনার আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তে পর অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
- বিষয় :
- জয়নাল হাজারী
- আওয়ামী লীগ
- হামলা
- নিজাম হাজারী