পরকীয়ার জেরে নোয়াখালীতে ফোনে ডেকে নিয়ে কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা
প্রতীকী ছবি
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ০৮:৩১
লক্ষ্মীপুর থেকে মোবাইল ফোনে নোয়াখালীতে ডেকে নিয়ে কলেজছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরকীয়া প্রেমের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। রোববার রাতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কলেজ শিক্ষার্থীর নাম জসিম উদ্দিন (১৯)। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ১২ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি রৌশন আক্তার নামে এক গৃহবধূকে গ্রেপ্তার করেছে।
জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার পশ্চিম লতিফপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে ও চন্দ্রগঞ্জ কপিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী জসিম উদ্দিনের সঙ্গে বেগমগঞ্জ উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামের প্রবাসী ফারুকের স্ত্রী রেশমী আক্তার পিংকি ও তার ননদ পারভীন আক্তারের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। তবে তারা দু'জনই নিজেদের গা বাঁচিয়ে একে অন্যের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি নিয়ে রোববার বিকেলে পিংকি ও পারভীনের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে পিংকি মোবাইল ফোনে জসিমকে স্থানীয় আমিন বাজারে আসতে বলেন। পিংকির কল পেয়ে জসিম আমিন বাজারে আসলে মানিক, বাবু, রাফাত, জাবেদ ও রৌশন আক্তারের সহযোগিতায় জসিমকে জাহানাবাদ গ্রামে পিংকির বাবার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যায় বিষয়টি নিয়ে ওই বাড়িতে আলোচনায় বসলে জসিমের সঙ্গে পিংকি ও তার লোকজনের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পিংকির লোকজন জসিমকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি মারে এবং বেধড়ক পিটুনি দেয়। এতে সে অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন জসিমকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সোমবার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
জসিমের বাবা আবুল কাশেম বলেন, 'আমার ছেলেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে।' তিনি ছেলের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানান।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি হারুন উর রশিদ চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।