রামুতে শিশু ও বাকপ্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার
কক্সবাজার অফিস
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২০ | ০৭:০৮
কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে চতুর্থ শ্রেণির শিশুশিক্ষার্থী এবং কচ্ছপিয়া ইউনিয়নে বাকপ্রতিবন্ধী এক নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। পৃথক ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রী রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের কাঠির মাথা নতুন বাজার এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয়। অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ (৫৫) একই এলাকার মৃত কাশেম আলীর ছেলে। এ ঘটনায় ওই শিশুর বড় বোন বাদী হয়ে সোমবার রামু থানায় মামলা করেছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ধর্ষণের শিকার শিশুটির পিতা পেশায় কৃষক। বাবার জন্য ক্ষেতে খাবার নেওয়ার পথে প্রায়ই নুর মোহাম্মদ শিশুটিকে উত্যক্ত করত। চলতি বছরের ৫ মে বাবার জন্য খাবার নেওয়ার পথে নুর মোহাম্মদ তাকে ধরে পাহাড়ের পাশে নিয়ে ধর্ষণ করে। এরপর সে ওই পরিবারকে মামলা না করার জন্য হুমকি-ধমকি দেয়। সর্বশেষ গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় শিশুটি বাথরুমের জন্য বাড়ির বাইরে গেলে ওৎ পেতে থাকা নুর মোহাম্মদ শিশুটিকে পার্শ্ববর্তী গোয়াল ঘরে নিয়ে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা করে। শিশুটির চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা এসে নুর মোহাম্মদকে হাতে-নাতে ধরে ফেলে। এ সময় স্থানীয় লোকজন আপোষ-মিমাংসার কথা বলে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এ কারণে তারা নিরুপায় হয়ে সোমবার রামু থানায় মামলা করেছেন।
রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজমিরুজ্জামান জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা (নং ১৬) রুজু হয়েছে। অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে বাকপ্রতিবন্ধী ওই নারী রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের ফকিন্নির চর এলাকায় ধর্ষণের শিকার হন। এ সময় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ার পর অভিযুক্ত আলী হোছন (৩৫) ওই নারীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে স্ট্যাম্পে মুচলেকা দেয়। কিন্তু ঘটনার ১০ দিন পার হলেও সে বিয়ে করতে গড়িমসি করছে।
অভিযুক্ত আলী হোছন ওই এলাকার সর্দার মো. খলিলের ছেলে। এলাকাবাসী জানিয়েছে, বাকপ্রতিবন্ধী ওই নারীর (৩৫) বাড়ি পার্শ্ববর্তী গর্জনিয়া ইউনিয়নে। ফকিন্নির চর এলাকায় মামার বাড়িতে থেকে তিনি কৃষি খামার দেখাশোনা করতেন। গত ৭ অক্টোবর খামার ঘরে একা পেয়ে তাকে ধর্ষণ করে আলী হোছন। পাশের খেতে কর্মরত দিনমজুর শাহজাহান এ ঘটনা দেখে চিৎকার দিলে স্থানীয়রা তাকে হাতে-নাতে ধরে ফেলে। এ সময় আলী হোছন ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ওই নারীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়। এরপর ১০ অক্টোবর সকালে আলী হোছনের বাড়িতে এলাকার মুরুব্বিরা শালিস বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ধর্ষণের শিকার নারীকে বিয়ের করার প্রতিশ্রুতিতে স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দেন আলী হোছন। লিখিত অঙ্গীকার নামায় ৬ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়।
ধর্ষনের শিকার নারীর এক আত্মীয় জানিয়েছেন, নন-জুড়িসিয়াল স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দেওয়ার কয়েক দিন পর থেকে আলী হোছন এ বিয়েতে অস্বীকৃতি জানাতে শুরু করে। এ কারণে তারা ধর্ষণের অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আজমিরুজ্জামান জানান, এ ঘটনায় থানায় এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।