বন্দি আট পরিবার, দেয়াল টপকে বাইরে চলাচল
যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেয়াল টপকে পার হচ্ছেন এক ব্যক্তি সমকাল
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ মার্চ ২০২৪ | ০০:১০
বাড়ি থেকে বের হওয়ার কোনো রাস্তা নেই আটটি পরিবারের। মই বেয়ে ৬ ফুট উঁচু দেয়াল টপকে বাইরে যাতায়াত করতে হয় তাদের। তবে দেয়াল টপকানোর কাজে ব্যবহৃত মই ও বালুর বস্তা সরিয়ে ফেলতে বলেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। ২৪ বছর ধরে এমন বন্দি জীবন বলে দাবি তাদের।
দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশের এলাকাটিতে গিয়ে দেখা গেছে, হাসপাতালের সীমানা প্রাচীর টপকে বের হওয়া ছাড়া বাইরে যাতায়াতের পথ নেই আটটি পরিবারের।
বন্দি পরিবারের সদস্যরা জানান, এক সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতর দিয়ে তাদের যাতায়াত উন্মুক্ত ছিল। ৩০-৩৫ বছর আগে যখন সীমানা প্রাচীর দেওয়া হয়, তখনও তাদের কথা ভেবে দুটি ফটক রাখা হয়। যেখান দিয়ে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারতেন তারা। এরপর হঠাৎ করেই ফটক দুটি ভেঙে সেখানেও সীমানা প্রাচীর তুলে দেয় কর্তৃপক্ষ, বন্দি হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। উপায় না পেয়ে বালুর বস্তা ফেলে ও মই দিয়ে দেয়াল টপকে বাইরে যাতায়াত শুরু করেন তারা। কিন্তু সম্প্রতি সেটাও বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
দেয়ালে বন্দি বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ মৃধা বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাসপাতালের দেয়াল টপকে বাইরে আসা-যাওয়া করছি। যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে এসে এখন নিজেই একটা বন্দি জীবন পার করছি। এই এলাকার ছোট ছেলেমেয়েরা নির্বিঘ্নে স্কুলে যেতে পারছে না। আমি নামাজ পড়তে মসজিদে যেতে পারছি না। এই বয়সে দেয়াল টপকে আসা-যাওয়া করতে কষ্ট হচ্ছে। আমরা আটটি পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছি।’
নিজেদের দুর্ভোগের কথা জানালেন দেয়াল বন্দি বদিউল আলম বাবুল ও অমূল্য চন্দ্র সূত্রধর। তাদের ভাষ্য, তাদের বাড়ির কারও মৃত্যু হলে লাশ বাইরে নিতে হয় হাসপাতালটির দেয়াল টপকে। এখন সেটাও আর পারবেন না। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে লিখিত অনুমতি নিয়ে এত বছর বালুর বস্তা ও মই দিয়ে দেয়াল টপকে চলাচল করেছেন কিন্তু বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা এসে দেয়ালের পাশের মই ও বালুর বস্তা সরিয়ে ফেলতে বলেছেন।
বন্দি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আহম্মদ কবীর হাসপাতালের পশ্চিম পাশ হয়ে এসএ সরকারি কলেজ রোড পর্যন্ত একটি নালা নির্মাণের আবেদন করেছিলেন। পৌর কর্তৃপক্ষ নালাটি নির্মাণ করে দিলে তার ওপর দিয়ে চলাচল করতে পারবেন তারা। হাসপাতালের ভেতরেও বর্ষায় জলাবদ্ধতা থাকবে না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা আলী এহসান বলেন, দেয়াল টপকে বহিরাগতদের আসা-যাওয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটে। বাইরের লোকজন ভেতরে এসে আড্ডা মারে, হট্টগোল করে। মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় এ নিয়ে আলোচনার পর দেয়াল টপকে আসা-যাওয়া বন্ধ করা হয়েছে।
আটটি পরিবারের বন্দি থাকার বিষয়ে জানতে কথা হয় দেবিদ্বার পৌর মেয়র সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তাঁর ভাষ্য, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনের বাসিন্দাদের অনেকেই বিল্ডিং কোড না মেনে ইচ্ছামতো আবাসন গড়ে তুলেছেন। যার কারণে রাস্তা নির্মাণ করা যাচ্ছে না। তবে দ্রুতই যাতে তাদের জন্য রাস্তা নির্মাণ করে দেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
বাসিন্দারা জায়গা ছেড়ে সহযোগিতা করলে কাজটি সহজ হবে।
- বিষয় :
- দেয়ালে রুদ্ধ পরিবার