ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মনোনয়ন পেলেই এমপি মরিয়া আ'লীগ নেতারা

মনোনয়ন পেলেই এমপি মরিয়া আ'লীগ নেতারা
×

তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৯:২০

এখন আর কোনো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। ফলে তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নির্বাচনে জয় পাচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। দলের মনোনয়ন পেলেই জয় সুনিশ্চিত। এ কারণে ভোটারের কাছে যাওয়ার চেয়ে দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের উপনির্বাচন সামনে রেখেও এমন মনোনয়ন 'যুদ্ধে' অবতীর্ণ হয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। সহজ জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না কেউ। গতকাল বুধবার এ উপনির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৭ এপ্রিল ইভিএমে নতুন সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতা জানিয়েছেন, এবার নির্বাচনে সহজ জয়ের সুযোগসহ তিন কারণে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যিনি উপনির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাবেন, তিনি চলতি মেয়াদের অবশিষ্ট সময় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তো পাবেনই, এমনকি পরবর্তী নির্বাচনেও তাঁর মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে বেশি। এই সুযোগ যাতে হাতছাড়া না হয়, সে জন্য কেউ কাউকে ছাড় দিতে চাইছেন না। তবে দল শুধু এবার নয়, পরবর্তী নির্বাচনের বিষয়টিও মাথায় রেখে জনপ্রিয় ও যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়।

একটি আসনে দু'দফা উপনির্বাচনের ঘটনা বিরলই বলা যায়। এবার সেটাই হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম-৮ আসনে। এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ। গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করলে আসনটি শূন্য হয়। দীর্ঘদিন ধরে অন্ত্রের ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি। এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আসনটি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একাংশের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দীন খান বাদল। ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর ভারতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে সে সময় আসনটি শূন্য হয়েছিল। তখন অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন মোছলেম উদ্দিন।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসনটিতে তপশিল ঘোষণা করার আগে থেকেই আগ্রহী আওয়ামী লীগ নেতারা দলের মনোনয়ন পেতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তাঁরা। চেষ্টা করছেন তাঁদের মন গলানোর। এ জন্য তাঁরা ছোটাছুটি করছেন ঢাকা-চট্টগ্রামে।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত যাঁর ভাগ্যে জুটবে, তিনিই সংসদ সদস্য হবেন। এ সুযোগ কাজে লাগাতে এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে নবীন-প্রবীণ এক ডজনেরও বেশি আওয়ামী লীগ নেতা দলের মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে হঠাৎ করেই মাঠে সরব হয়ে উঠেছেন চট্টগ্রামের সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনও। এ নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন তিনি। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে বেশ জনপ্রিয় মুখ বহুল আলোচিত এই আওয়ামী লীগ নেতা। দলের মনোনয়ন চান চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামও। তাকে নিয়েও বেশ আলোচনা রয়েছে। এ ছাড়া মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির জ্যেষ্ঠ ছেলে তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা ও শিল্পপতি মুজিবুর রহমান, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি এসএম আবুল কালাম, তাঁর ছোট ভাই গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি এসএম আবু তৈয়ব। এর বাইরেও রয়েছেন প্রয়াত সংসদ সদস্য মইনউদ্দীন খান বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান বাদল এবং আরেক প্রয়াত সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিনের স্ত্রী শিরিন আকতারও। আবার মহাজোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করতে চান বিএনএফ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। তাঁর গ্রামের বাড়িও বোয়ালখালীতে। দলের মনোনয়ন পেতে তাঁদের পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা নানাভাবে নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তাঁদের বেশিরভাগই প্রায় সময় ঢাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে মনোনয়ন চাওয়ার পক্ষে নিজেদের অবস্থান ও যুক্তি তুলে ধরছেন।

সমকালের সঙ্গে কথা হয় মনোনয়নপ্রত্যাশী কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে তাঁরাও স্বীকার করে বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তেমন একটা হবে না। তবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও কোথাও কোথাও পরোক্ষভাবে কোনো কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে ভোটের মাঠে থাকছে। তাই তাঁরা দলের মনোনয়ন নিশ্চিতে চেষ্টা যেমন চালাচ্ছেন, তেমনি নির্বাচনকেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, 'চট্টগ্রাম-৮ আসনে এক মেয়াদেই আমরা দু'জন সংসদ সদস্যকে হারিয়েছি। এ আসনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চয়ই যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেবেন। আমরাও চাই, উপনির্বাচনের পাশাপাশি পরের নির্বাচনের বিষয়টিও মাথায় রেখে যাতে দলের জনপ্রিয় মুখকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।'

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা, নগরীর চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ থানার আংশিক এলাকা নিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসন গঠিত। এ কারণে জেলার পাশাপাশি নগরীর আওয়ামী লীগ নেতারাও এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন।

তপশিল অনুযায়ী ভোট ২৭ এপ্রিল : আগামী ২৭ এপ্রিল চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ করা হবে। আর ভোট হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। তবে ভোটকক্ষে সিসি ক্যামেরা থাকবে না। গতকাল নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে এ নির্বাচনের তপশিল চূড়ান্ত করা হয়। সভা শেষে ইসি সচিবালয়ের সচিব জাহাংগীর আলম সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

তপশিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ২৭ মার্চ। মনোনয়নপত্র বাছাই ২৯ মার্চ। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ৫ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ৬ এপ্রিল।

আরও পড়ুন

×