টেকনাফে অপহরণের ২২ দিন পর মাদ্রাসা ছাত্র উদ্ধার
অপহরণ চক্রের ১৭ জন আটক

কুমিল্লার লালমাই এলাকা থেকে ছোয়াদকে উদ্ধার করা হয়। ছবি- সমকাল
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ মার্চ ২০২৪ | ১৬:২২
কক্সবাজার টেকনাফ থেকে অপহরণের ২২ দিন পর অপহৃত এক মাদ্রাসা ছাত্রকে কুমিলার লালমাই থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার সাথে জড়িত ১৭ জনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে একই পরিবারের আট জন রোহিঙ্গা রয়েছে।
শনিবার (৩০মার্চ) রাতে মাদ্রাসা ছাত্র ছোয়াদ বিন আব্দুল্লাহকে (৬) কুমিল্লার লালমাই থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। রোববার (৩ ১মার্চ) বেলা ১১টার দিকে টেকনাফ মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উখিয়া-টেকনাফ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল আহমেদ। এসময় উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ ওসমান গনি।
এর আগে গত ৯ মার্চ টেকনাফের হ্নীলার পূর্ব পানখালী এলাকা থেকে ছোয়াদকে অপহরণ করা হয়। ছোয়াদ বিন আব্দুল্লাহ টেকনাফের হ্নীলার পূর্ব পানখালীর বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ’র ছেলে। সে ওই এলাকার আবু হুরাইরা (রা.) মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র।
গ্রেপ্তার ১৭ জনের মধ্যে রয়েছে টেকনাফের মোচনী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রয়েছেন নাগু ডাকাত (৫৫), তার ছেলে আনোয়ার সাদেক (২১), সাদেকের স্ত্রী হোসনে আরা (২০), নাগু ডাকাতের ভাই মোহাম্মদ হাশেম (২৭), নাগু ডাকাতের স্ত্রী আয়েশা বেগম (৩২), ওই ক্যাম্পের মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী লায়লা বেগম (৫৫), মোহাম্মদ খানের স্ত্রী উম্মে সালমা (২৪), সৈয়দুল হকের স্ত্রী খাতিজাতুল খোবরা (৩৫), নাগু ডাকাতের এক কিশোর ছেলে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে কক্সবাজার সদরের ঝিলংজা ইউনিয়নের হাজিরপাড়ার পুরাতন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মধ্যে রয়েছেন জাফর আলমের ছেলে নাসির আলম (২৮)।
এছাড়াও গ্রেপ্তার হয়েছেন মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের মাইস্যাঘোনা এলাকার মনছুর আলমের ছেলে সালামত উল্লাহ সোনাইয়া (৪৫), তার ছেলে মো. আমির হোসেন (২৪), একই ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার মৃত কালামিয়ার ছেলে জহির আহমেদ (৬৫), শামসুল আলমের ছেলে হাসমুল করিম তোহা (২০) ও তৌহিদুল ইসলাম তোহা (৩০), সামিরাঘোনা এলাকার ফরিদুল আলমের ছেলে মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ (১৯) এবং তার বাবা ফরিদুল আলম খান (৫২)।
আনোয়ার সাদেকই এই অপহরণ চক্রের প্রধান হিসেবে কাজ করে আসছিলেন বলে দাবি করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল আহমেদ। তিনি জানান, ৯ মার্চ সকালে ছোয়াদ বিন আব্দুল্লাহ প্রতিদিনের মতো টেকনাফ উপজেলার স্থানীয় আবু হুরাইরা (রা.) মাদ্রাসায় পড়তে যায়। দুপুরে মাদ্রাসায় ক্লাস শেষে বাড়ির ফেরার পথে শিশুটিকে থামান বোরকা পরিহিত এক নারী। তিনি সোয়াদকে বলেন, দুর্ঘটনায় তার মায়ের মাথা ফেটে গেছে। পরে ওই নারী শিশুটিকে ফুসলিয়ে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে শিশুর মা নুরজাহান বেগম থানায় লিখিতভাবে অবহিত করেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। এতে দেখা যায় শিশুটিকে অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যাচ্ছে জনৈক নারী। পুলিশ ১০ মার্চ অভিযান চালিয়ে অপহরণ ঘটনায় ব্যবহৃত অটোরিকশার চালক ও সংঘবদ্ধ চক্রের নারী সদস্যসহ চক্রের ৫ জনকে গ্রেফতার করে। এ ৫ জনই রোহিঙ্গা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেল বলেন, পরিবার সদস্য, আত্মীয়দের নিয়ে গঠিত অপহরণ চক্রের প্রধান সাদেকের পরিকল্পনায় উম্মে সালমা সৌদি প্রবাসী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ নিয়েছিল। যেখানে কিছু দিন কাজ করার পর ছোয়াদের সাথে পরিচয় এবং সখ্য তৈরি করে। কিছু দিন পর উম্মে সালমা চলে যায় এবং অপহরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। এরপর রাত-দিন অভিযানে ২২ দিন পর অবশেষে অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধারের পাশাপাশি পুরো চক্রের সদস্যদের আটক করা সম্ভব হয়েছে।
ওসি ওসমান গণি বলেন, পুলিশ অপহৃত শিশুটিকে উদ্ধারের অভিযান শুরু করলে অপহরণ চক্রের সদস্যরা শিশুটি নিয়ে একের পর এক স্থান পরিবর্তন শুরু করে। প্রথমে টেকনাফ থেকে অপহরণের পর শিশুটিকে ঈদগাঁও এলাকায় রাখা হয়। ওখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়ার গহীন পাহাড়ে। যেখানে পুলিশ অভিযান টের পেয়ে শিশুটি নিয়ে যাওয়া হয় কুমিল্লার লালমাই এলাকার একটি ভাড়া বাসায়। এরপর মুক্তিপণের ৪ লাখ টাকা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে শনিবার দুপুরে কুমিল্লার লালমাই এলাকা থেকে ছোয়াদকে উদ্ধার করা হয়।