ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০২৪

চর কেটে মাটি বিক্রি ঝুঁকিতে প্রতিরক্ষা বাঁধ

চর কেটে মাটি বিক্রি ঝুঁকিতে প্রতিরক্ষা বাঁধ

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে বেলেশ্বরী নদীর চর থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় সৃষ্ট গর্ত সমকাল

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৪ | ২৩:২৩

হবিগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খোয়াই নদীর চর কেটে দীর্ঘদিন ধরে মাটি বিক্রি করে আসছে একটি প্রভাবশালী চক্র। এতে একদিকে যেমন নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে, অন্যদিকে হুমকিতে পড়ছে খোয়াইয়ের প্রতিরক্ষা বাঁধ। এ ছাড়া প্রতিনিয়ত ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে মাটি পরিবহনের ফলে ভেঙে যাচ্ছে এলাকার রাস্তাঘাট। ক্ষতি হচ্ছে ফসলি জমির।

শুধু খোয়াই নদীই নয়, বেলেশ্বরী ও করাঙ্গী নদীসহ সবক’টি নদীর চরেরই একই অবস্থা। যে যার মতো করে মাটির সঙ্গে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন তারা। এ অবস্থায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খোয়াই নদীর চুনারুঘাট অংশ থেকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার শেষ সীমানা পর্যন্ত শতাধিক স্পট থেকে প্রতিনিয়ত মাটি উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র। দিনরাত সমানতালে এসব মাটি এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে কেটে সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। এর মধ্যে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ, মাছুলিয়া পয়েন্ট, মশাজান পয়েন্ট, রামপুর এলাকা, চানপুর, শাহপুর, কাশিপুর, রতনপুর, যশেরআব্দাসহ বেশ কিছু স্পট থেকে সবচেয়ে বেশি নদীর চর কাটা হচ্ছে। এ ছাড়া শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডুরা ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বেলেশ্বরী নদী ও বাহুবল উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া করাঙ্গী নদীর চরও কাটা হচ্ছে অবাধে।

এদিকে, নদীর পাড় ঘেঁষে চর কাটার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে রক্ষা বাঁধ নিয়ে শঙ্কা। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে সংশ্লিষ্ট এলাকা প্লাবিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
বেশ কয়েকটি স্পটে গিয়ে দেখা যায়, এক্সক্যাভেটরের মাধ্যমে বড় বড় গর্ত করে মাটি কেটে নেওয়ায় নদীর লেভেল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার কোথাও কোথাও এমনভাবে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে, কোথায় নদীর পাড় আর কোথায় চর– তা বুঝে ওঠার কোনো উপায় নেই।

চানপুর গ্রামের মাসুক মিয়া নামে এক ব্যক্তি জানান, মাটিখেকোরা নদীর চর কেটে মাটি নিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ট্রাক ও ট্রাক্টর চলাচলের কারণে ভেঙে যাচ্ছে এলাকার রাস্তাঘাট। বেড়িবাঁধও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নদীর পানি বাড়লে বাঁধ ভাঙার আতঙ্কে থাকে গ্রামবাসী। তবে মাটিখেকোরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না কেউ।

তেঘরিয়া গ্রামের ফারুক মিয়া জানান, তারা নদীর পাড়ের মানুষ। নদীর পাড় যদি ঠিক না থাকে তা হলে তাদের সবই ঝুঁকিতে পড়ে যায়। গ্রামের প্রতিরক্ষা বাঁধ নিয়ে তারা সবাই শঙ্কিত। খোয়াইয়ের মতো বেলেশ্বরী নদীর চর কেটে সাবাড় করে দিয়েছে একটি প্রভাবশালী চক্র। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
জেলা প্রশাসক জিলুফা সুলতানা জানান, নদীর চর কাটা, অবৈধ বালু উত্তোলন ও কৃষি জমি থেকে মাটি কাটার বিষয়ে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জনস্বার্থে অভিযান চলমান থাকবে।

আরও পড়ুন

×