ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছেলে ১১টা দিন আমারে মা কইয়া ডাকে না

জবি শিক্ষার্থী তামিমের মায়ের আহাজারি

ছেলে ১১টা দিন আমারে  মা কইয়া ডাকে না
×

আহসান হাবিব তামিম

 ইমরান হুসাইন, জবি

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৪ | ০১:৩৯ | আপডেট: ৩০ জুলাই ২০২৪ | ০৩:৩৫

‘আমার তামিম আমারে ফাঁকি দিয়া চইলা গেছে বাবা। ১১টা দিন তামিম আমারে মা কইয়া ডাকে না। আমি এই কষ্ট কোথায় রাখব বাবা!’ কাঁদতে কাঁদতে এভাবেই ছেলের জন্য আহাজারি করছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী আহসান হাবিব তামিমের মা রাজিয়া সুলতানা। 

গত ১৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে চলা সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তামিম। তিনি জবির গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ছেলেকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় তার বাবা-মা। 

গতকাল সোমবার মোবাইল ফোন কলে তামিমের পরিবারের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর মা। বিলাপ করতে করতে বলেন, ‘আমার তামিম সব সময় হাসি মুখে থাকত। ভালো চাকরি পেয়ে সংসারের হাল ধরবে– বলত সব সময়। ওই দিন আমি কত করে বললাম নিচে যাইস না; ও শুনল না। ওর স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। তামিম আমারে ফাঁকি দিয়ে চলে গেল।’ 
তিনি বলেন, ঘটনার দিন তামিম বাসার নিচে যাবে বলে বড় ভাইয়ের কাছে টাকা চায়। নিচে সংঘর্ষ চলায় টাকা না দিয়ে বাসায় থাকতে বলে ভাই। তবুও আমার ব্যাগ থেকে ২০ টাকা নিয়ে নিচে যায় তামিম। ওই সময় আমাকে বলে, ‘মা আমি যাব আর আসব। আমি মারামারিতে যাব না। এখনই আসছি।’ কিন্তু তামিম ফিরেছে লাশ হয়ে। 

তামিমের পরিবার জানায়, ছোট থেকেই মেধাবী তামিম রাজনীতি সচেতন ছিলেন। ঢাকাতেই বেড়ে ওঠার কারণে ছিলেন অন্যদের থেকে ভিন্ন। স্কুল জীবন থেকেই যুক্ত ছিলেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। বিশ্ববিদ্যালয়েও যুক্ত হন শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। স্বপ্ন ছিল দেশের জন্য ভালো কিছু করার।

তামিমের বাবা আব্দুল মান্নান সমকালকে বলেন, সেদিন (শুক্রবার) দুপুরে ভাত খেয়ে আমরা সবাই একসঙ্গে শুয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পর ও উঠে চলে গেল। আমার ছেলেটা আর ফিরল না। একজন ফোনে বলল তামিমের গায়ে গুলি লেগেছে। হাসপাতালে গিয়ে যখন ওরে দেখতে পেলাম ততক্ষণে ছেলে আর দুনিয়াতে নেই।
ঢাকায় তামিমের বাবা কাজ করেন মোটর মেকানিকের। পরিবারের সবাইকে নিয়ে থাকতেন একটি ভাড়া বাসায়। দরিদ্র পরিবারে বেড়ে ওঠা তিন ভাইয়ের মধ্যে তামিম ছিলেন দ্বিতীয়। বড় ভাইও বাবার সঙ্গেই করেন মেকানিকের কাজ। ছোট ভাইয়ের বয়স মাত্র ৫ বছর।
এদিকে তামিমের এমন মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয়েও। বন্ধুরা স্মৃতিচারণ করে ফেসবুকে পোস্ট দিচ্ছেন। শিক্ষকরাও শোকে স্তব্ধ। বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, তামিমের অকাল মৃত্যু মেনে নেওয়ার মতো নয়। বিভাগের পক্ষ থেকে তার পরিবারের 
পাশে থাকব। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক জিম আল-আমিন বলেন, তামিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা চলমান। বিভাগ ও প্রক্টরিয়াল বডি থেকে তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম সমকালকে বলেন, গণিত বিভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তামিমের পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা করবে। সেই সঙ্গে হতাহত শিক্ষার্থীর তালিকা করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা 
করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×