ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাত নামলেই ডাকাত আতঙ্ক

রাত নামলেই ডাকাত আতঙ্ক
×

ম্যাপ

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ | ০৫:৪০

আতঙ্কে পাহাড়ি এলাকার মানুষ। প্রায়ই ঘটছে ডাকাতির ঘটনা। অস্ত্র ঠেকিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল লুট করে নিয়ে যাচ্ছে মালপত্র। মারধরের শিকার হচ্ছে নিরীহ মানুষ। এমন ডাকাতির ঘটনা ঘাটাইলের পাহাড়ি এলাকায় এক মাসে ঘটেছে পাঁচটি। ভুক্তভোগীরা জানান, ডাকাত আতঙ্কে রাত কাটছে তাদের। থানার ওসির দাবি, একটি ঘটনা ছাড়া কিছুই জানেন না তিনি।

গত ২৪ নভেম্বর লক্ষিন্দর ইউনিয়নের বেইলা গ্রামে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতি হয়। রাত আড়াইটার দিকে ১০-১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়ির ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে রশি দিয়ে ঘরের সবার হাত-পা বেঁধে ফেলে। ডাকাতরা আলমিরা ভেঙে লুট করে নিয়ে যায় ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার, প্রায় ৫০ ভরি রুপার অলংকার, দেড় লাখ টাকা ও একটি স্মার্টফোন। ডাকাত দল লুটপাট করে নিয়ে গেলে ভুক্তভোগীদের ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে হাত-পায়ের বাঁধন খুলে দেন। এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম ২৮ নভেম্বর থানায় মামলা করেন। রফিকুলের ভাষ্য, থানার ওসির কাছে মামলার অগ্রগতি জানতে চাইলে তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

গত ১ নভেম্বর রাত ৩টার দিকে বাইরের গেট, কেচিগেট, বারান্দার তিনটি তালা এবং ঘরের দরজা ভেঙে দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের পাকুটিয়া এলাকায় নিতাই আদিত্যের ঘরে ঢোকে ডাকাত দল। নিতাই বলেন, তাঁর মাথায় আঘাত করলে মাথা ফেটে যায়। ডাকাতরা ভেঙে ফেলে তাঁর হাত। পরে তাঁর স্ত্রীর ডাক-চিৎকারে কিছু নিতে না পেরে পালিয়ে যায় ডাকাত দল। আট দিন ময়মনসিংহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। মাথায় দেওয়া হয় চারটি সেলাই। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, এখনও রাতে ঘুম ভেঙে গেলে আতঙ্কে আর ঘুম আসে না। 

শহর গোপিনপুর জোরবহচালা গ্রামের আব্দুল কাদের ৯ ডিসেম্বর তাঁর খামারের মুরগি এবং বাগানের কলা বিক্রির ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ঘরে রাখেন। ওই রাতেই ডাকাত দল হানা দেয় তাঁর বাড়িতে। তাঁর ভাই সেন্টু মিয়া জানান, শুধু টাকাই নেয় নাই, তিন ভরি স্বর্ণের গহনাসহ ৭টি কম্বল, শার্ট, লুঙ্গি সব নিয়ে গেছে ডাকাতরা। থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ করা হয়নি, তবে পুলিশ গিয়ে সবকিছু লিখে নিয়েছে।

একই রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী রফিকুল ইসলামের বাড়িতে। ভয়ে তাঁর স্ত্রী মর্জিনা বেগম এখন আর বাড়িতে থাকেন না। সাত বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে গেছেন। ভয়ে ভয়ে সে রাতের বর্ণনা দিলেন মর্জিনা। তাঁর ভাষ্য, বারান্দার গ্রিলে লাগানো তালা এসিড দিয়ে খুলে সিটকিনি ভেঙে ঘরে ঢোকে ডাকাত দল। তাদের দলে ছিল ১০ জন। আলমিরার চাবি চেয়ে নেয় তাঁর কাছ থেকে। আলমিরা খুলে এক লাখ টাকা, আড়াই ভরি স্বর্ণ, পাঁচটি কম্বল এবং একটি স্মার্টফোন নিয়ে যায় তারা। মর্জিনা জানান, পরদিন সকালে পুলিশ এসে সব লিখে নিয়ে গেছে। থানায় অভিযোগ বা কোনো মামলা করেননি। 

এর আগে ৫ ডিসেম্বর রাত ১টার দিকে ডাকাতির ঘটনা ঘটে শহর গোপিনপুর গ্রামের আমির হামজার বাড়িতে। হামজা বলেন, ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল। দা, রড, কিরিচ ঠেঁকিয়ে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং দেড় ভরি স্বর্ণ নিয়ে যায়। পরদিন ধলাপাড়া ফাঁড়ি থেকে পুলিশ এসে লুট হওয়া মালপত্রের বিবরণ লিখে নিয়ে যায়।

পূর্ব ঘাটাইলে রয়েছে কলা, ড্রাগন ও পেঁপের অনেক বড় চাষি। রয়েছে বড় ব্যবসায়ীও। প্রবাসীর সংখ্যাও উপজেলার অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেশি। ডাকাতির ওই ঘটনা নিয়ে শহর গোপিনপুর এলাকার আষারিয়াচালা বাজারে কথা হয় অনেকের সঙ্গে। তাদের ভাষ্য, নিরাপত্তাহীনতায় আছেন তারা। ডাকাত আতঙ্কে রাত কাটছে তাদের। এখন জোসনা রাত। কুয়াশাও তেমন নেই। অন্ধকার রাত আর কুয়াশা দেখা দিলেই ভয়টা বেড়ে যায়।

ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম সমকালকে বলেন, লক্ষিন্দর ইউনিয়নের একটি ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন। এ ছাড়া উপজেলায় অন্য কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে কিনা জানা নেই।

আরও পড়ুন

×