ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৌসুমের শুরুতেই আমনের চারার বাড়তি দাম

মৌসুমের শুরুতেই আমনের চারার বাড়তি দাম
×

বৃষ্টি-বন্যার পর শুরু হয়েছে আমন রোপণ। সাদুল্লাপুর হাটে চলছে আমনের চারা কেনা-বেচা সমকাল

সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

এক বিঘা জমিতে ধান রোপণের জন্য সাড়ে তিন হাজার টাকায় চারা কিনেছি। এর সঙ্গে যোগ হবে পরিবহন খরচ, শ্রমিকের মজুরি, হাল-চাষ, সার-কীটনাশক ক্রয়, আগাছা পরিষ্কারসহ অন্যান্য খরচ। বাড়তি খরচের কারণে এবার আমন আবাদে লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে।
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর হাটে আমন চারার কিনতে এসে কথাগুলো বলেন কিষানি মুক্তা বেগম। তিনি জেলা শহরতলির খানকাশরিফ এলাকার বাসিন্দা।
বৃষ্টি-বন্যার পর শুরু হয়েছে আমন রোপণ। কৃষকরা ব্যস্ত চারা সংগ্রহ এবং রোপণ কাজে। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলায় ৪৭ হেক্টর আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এতে চারার সংকট দেখা দিয়েছে।কৃষকরা বিভিন্ন হাট ঘুরে উচ্চমূল্যে চারা সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সাদুল্লাপুর হাট ঘুরে দেখা গেছে আমন চারা কিনতে বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা এসেছেন। বিক্রেতা হারুন মিয়া জানান, গুটি স্বর্ণা, স্বর্ণা ফাইভ ও মামুন স্বর্ণা জাতের চারায় ফলন বেশি। এ কারণে আমনের এই জাতের চারার দাম বেশি।
ক্রেতা আব্দুর রহমান সরকার বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এবার প্রায় দ্বিগুণ দামে আমন চারা কিনতে হচ্ছে। এভাবে উচ্চমূল্যে চারা কিনে রোপণ করলে আমন চাষাবাদে লোকসান গুনতে হবে।
ধাপেরহাট থেকে আসা পাইকার খয়বার হোসেন  বলেন, প্রতি মণ (৮০ মোটা) বৈলান চারা এক হাজার ১০০ টাকার নিচে বিক্রি করলে লোকসান হবে। হাটে চারাভেদে সর্বনিম্ন ৮০০ শত থেকে শুরু করে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

সাদুল্লাপুর হাটের ইজারাদার আল-আমিন মিয়া বলেন চারা বিক্রির এই হাটটি দীর্ঘ দিনের পুরোনো। দূরদূরান্ত থেকে এখানে ক্রেতা-বিক্রেতা আসেন। সকাল থেকে রাত অবধি কেনাবেচা হয়। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ হাটে যেন কেউ প্রতারিত না হন সেটি নিশ্চিত করা হয়।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কাজীবাড়ী সন্তোলা গ্রামের কৃষক আসাদুল ইসলাম বলেন, সরকারিভাবে কৃষকদের জন্য দ্রুত প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। তা না করলে কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন না। একই কথা বলেন জয়েনপুর গ্রামের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জানান সরকার প্রণোদনার ব্যবস্থা না করলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন না।
এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমন ধান কাটার পর নতুন ধানের উপযুক্ত মূল্য পেলে কৃষকরা লোকসানে পড়বেন না। সরকারি সহায়তার বিষয়ে তাঁর ভাষ্য, এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো প্রণোদনা কিংবা সহযোগিতা আসেনি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×