ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লিখিত বর্ণমালা ও নিজস্ব পাঠ্যপুস্তকের অভাবে হদি ম্প্রদায়ের ভাষা ঝুঁকিতে

লিখিত বর্ণমালা ও নিজস্ব পাঠ্যপুস্তকের অভাবে হদি  ম্প্রদায়ের ভাষা ঝুঁকিতে
×

নালিতাবাড়ী পৌরশহরের সেঁজুতি অঙ্গনে গতকাল বৃহস্পতিবার হদি সম্প্রদায়ের ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে একুশে পাঠচক্রের আসর বসে সমকাল

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

হদি সম্প্রদায়ের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে নালিতাবাড়ীতে একুশে পাঠচক্রের ১৪৫তম আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘জ্ঞানভিত্তিক সমাজ নির্মাণে 
পাঠ’ স্লোগান সামনে রেখে এই আয়োজন করা হয়। আসরের প্রতিপাদ্য ছিল ‘হদি সম্প্রদায়ের ভাষা ও সংস্কৃতি’।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পৌরশহরের সেঁজুতি অঙ্গনে ছোট কাগজ কণ্ঠস্বর’র প্রধান সম্পাদক জয়জিৎ দত্ত শ্যামলের সভাপতিত্বে এই পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে হদি সম্প্রদায়ের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা করেন গবেষক ও কবি প্রদীপ মুকুল, হদি সম্প্রদায়ের দুই প্রজন্মের প্রতিনিধি বাবু লিটন দেবসেন ও অমা রাণী দেবসেন এবং শিশু শিক্ষার্থী তাসনিম মাশুক। এ সময় হদি সম্প্রদায়ের কৃষ্টি-সংস্কৃতি নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন সম্প্রদায়টির প্রবীণ সদস্য শ্রীমতি মধু রাণী বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও ছোট কাগজ কণ্ঠস্বর’র নির্বাহী সম্পাদক মুঞ্জুয়ারা বেগম, হদি পরিবারের রতন বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক কর্মী মানিক সাহাসহ স্থানীয় সুধীজন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন একুশে দ্যুতি ও চন্দ্রিকা দ্যুতি।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী উপজেলা ও ময়মনসিংহের কয়েকটি এলাকায় এখনো হদি সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করছেন। তবে নিজস্ব কাচারী ভাষার চর্চা কমে যাওয়া, লিখিত বর্ণমালার অনুপস্থিতি এবং মাতৃভাষাভিত্তিক পাঠ্যপুস্তকের অভাবে তাদের ভাষা বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন– হদি সম্প্রদায়ের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সাংস্কৃতিক একাডেমি প্রতিষ্ঠা এবং মাতৃভাষায় শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় এই সম্প্রদায়ের স্বতন্ত্র ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ক্রমেই হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
 

আরও পড়ুন

×