ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নোবিপ্রবিতে সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৯

নোবিপ্রবিতে সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৯
×

ছবি- সমকাল

নোয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৪:৩৪

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক বহিরাগতকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর নোবিপ্রবি ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল মালেক উকিল হল, ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হল, পকেট গেট ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে আবদুল মালেক উকিল হলের একটি কক্ষের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সিনিয়র ও জুনিয়র কর্মীদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে তা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীদের সঙ্গে সিনিয়র সহসভাপতি সাব্বির হোসেন শান্তর অনুসারীদের বিরোধে রূপ নেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় বহিরাগতরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। আবদুস সালাম ও আবদুল মালেক উকিল হলের কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরে সালাম হল প্রাঙ্গণ থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকপন্থীরা সাব্বির হোসেন শান্তর অনুসারীদের ধাওয়া দেন। সেখানে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে কয়েকজন আহত হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, মঙ্গলবার দুপুরের দিকে আবারও ক্যাম্পাসে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা নিয়ে কয়েকজন বহিরাগত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহতদের মধ্যে ১৫তম ব্যাচের শামিম হোসেন, জাহিদুল ইসলাম হাসান, ১৭তম ব্যাচের সোহাগ চাকমা, মাহমুদুল হাসান অন্তর, কাইফ হাসান, ১৮তম ব্যাচের জহির হোসেন, আনিছুর রহমান সিফাত ও ১৯তম ব্যাচের সামিউল ইসলাম রয়েছে। আহতদের মধ্যে একজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রাজিব আহমেদ চৌধুরী বলেন, ক্যাম্পাসে মারামারির ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী ও একজন বহিরাগত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এবিএস রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দিনকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান এবং সদস্যসচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান। কমিটিকে ১৭ আগস্ট রাত ও ১৮ আগস্ট সংঘটিত ঘটনাগুলো তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

নোবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিয়াকত আকবর বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। এতে ৮-১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের একটি দল ক্যাম্পাসে মোতায়েন রয়েছে।

আরও পড়ুন

×