ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গুলিতে নিহত শুভর শেষকৃত্য নিয়ে জটিলতা, ৫ দিন ধরে অ্যাম্বুলেন্সে লাশ

গুলিতে নিহত শুভর শেষকৃত্য নিয়ে জটিলতা, ৫ দিন ধরে অ্যাম্বুলেন্সে লাশ
×

প্রতীকী ছবি

‎নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০১:১৮ | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০১:২৩

নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় গুলিতে নিহত শুভ চন্দ্র দাসের (৩০) মরদেহের শেষকৃত্য নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। নিহতের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধের জেরে মরদেহটি পাঁচ দিন ধরে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সের সংরক্ষিত আছে। ‎বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে আদালতে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

‎নিহত শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, তার ছেলে হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তবে শুভর মা দাবি করছেন, তার ছেলে মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে মরদেহের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়নি। শেষ পর্যন্ত মরদেহ দাহ করা হবে, নাকি দাফন করা হবে সে সিদ্ধান্ত আদালতের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

‎শুভর ভাই ইবরাহিম জানান, তারা দুই ভাই একসঙ্গে মুসলমান হন; সুন্নতে খাতনা করেন। নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকার রওজাতুস সালেহীন মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছেন।
‎তবে বাবা হরি চন্দ্র দাসের দাবি, শুভ হিন্দু ধর্মে জন্মেছেন। তাই, তিনি ছেলের মরদেহ হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করতে চান।

‎‎মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মফিজুর রহমান জানান, শুভর বাবা হরি চন্দ্র দাস ও মা আয়েশা বেগমের ২০০৩ সালে তালাক হয়। এরপর শুভ, তার মা এবং এক ভাই ও এক বোন মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন। শুভ অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করে ‘বিল্লাল’ নাম রাখেন। তিনি মুসলিম রীতি অনুযায়ী কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে করেন। তার স্ত্রী জ্যুথিও মুসলিম। তাদের সন্তানের নাম সুমাইয়া।
‎‎
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শুভ হিন্দু নাকি মুসলিম; এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে। এ কারণে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। বিষয়টি এখন আদালত দেখছেন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুভর মরদেহ দাহ বা দাফনের ব্যবস্থা করা হবে। গত ৫ দিন ধরে সদর মডেল থানায় মরদেহটি লাশবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে রয়েছে।

গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পেছনে দুর্গামহলের সামনের সড়কে শুভকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ, পাঁচটি গুলির খোসা, ১০০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। ‎‎‎হত্যার ঘটনায় সুমন ওরফে মাইগ্যা সুমন (৪৫), সিয়াম আহমেদ সিজান (২১) ও সোহান (২৪) নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

‎‎পুলিশের দাবি, ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেটের বিনিময়ে শুভর এক সহযোগীকে দিয়ে তাকে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে ১০-১২ জনের একটি দল ঘিরে ফেলে। পরে তাকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। পরে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রিমান্ডে থাকা সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নবাব সলিমুল্লাহ রোডের রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে ঝোপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার করে ডিবি।

আরও পড়ুন

×