চলনবিলে কারাম উৎসব
তাড়াশে কারাম উৎসব চলছে। গতকাল সোমবার পশ্চিম আটঘড়িয়ার সমকাল
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৪ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
আকাশে শরতের মেঘ। বিলে শাপলা-পদ্ম। ধান রোপণের পর আদিবাসী সম্প্রদায়ের অফুরন্ত অবসর। ঠিক তখনই আসে সুরের বার্তা। আদিবাসীপল্লিতে বাজে মাদল। নেমে আসে প্রাণের পরব-কারাম। ভাদ্রের একাদশী তিথিতে শুরু হওয়া এই পরব সমতলের আদিবাসীদের শুধু ধর্মীয় আচার নয়, এটি প্রকৃতি ও জীবনের এক বর্ণিল লোকউৎসব।
প্রতিবছরের মতো এবারও আশ্চিন মাসে চলনবিল অঞ্চলের সাতটি উপজেলায় শুরু হয়েছে কারাম বা বৃক্ষপূজা। তাড়াশ, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, সিংড়াসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৪০টি আদিবাসীপল্লির শিশু-কিশোর ও নারী-পুরুষ সোমবার সন্ধ্যা থেকে মাতোয়ারা ঐতিহ্যবাহী এ উৎসবে।
আজ মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত চলবে এই আরাধনা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বয়স্ক নারীদের মুখে উঠে আসে আদিধারার নীতিকথা ও কার্মা-ধার্মার ঐতিহ্যবাহী গল্প। সবশেষে কারাম গাছের ডালকে প্রণাম জানিয়ে নদী বা জলাশয়ে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে আদিবাসীর এই প্রাণের উৎসবের।
কারাম পূজা মূলত প্রকৃতিকে ভালোবাসার এবং পরিবারের মঙ্গলের প্রতীক। কারাম নামক পবিত্র বৃক্ষের ডাল কেটে এনে গ্রামের খোলা মাঠে মাটির নিচে পুঁতে দেওয়া হয়। তারপর ফুল ও আলোর প্রদীপে সাজানো হয় চারপাশ।
পূজার সবচেয়ে আকর্ষণীয় অনুষঙ্গ হলো ‘জাঁওয়া’। জাঁওয়া বলতে বোঝায় মাটি, বালু, মুগ, ছোলা ইত্যাদির মিশ্রণে তৈরি পাত্রে শস্যের চারা গজানো। এটি মূলত উদ্ভিদের অঙ্কুরোদগম এবং প্রকৃতির জীবনচক্রকে সন্তানের মতো স্নেহে আগলে রাখার রূপক। পূজার আগের দিনগুলোতে যারা এই আচারে অংশ নেন, তাদের বলা হয় ‘কেরমেতি’। এই দিনগুলোতে কেরমেতিদের তেল, হলুদ বা আমিষ খাবার এড়িয়ে অত্যন্ত শুদ্ধভাবে থাকতে হয়। তাদের বিশ্বাস, আচারের বিচ্যুতি ঘটলে বীজের চারা ঠিকমতো গজাবে না।
রায়গঞ্জের পশ্চিম আটঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও কুড়মালি ভাষার গবেষক উজ্জ্বল মাহাতোর মতে, সত্তর ও আশির দশকেও চলনবিলে সাত দিন ধরে কারাম উৎসব চলত। এখন পরিসর কমলেও আমেজ কমেনি।
- বিষয় :
- উৎসব মণ্ডল
- চলনবিল