ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভাড়া বাসায় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র

ভাড়া বাসায় মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র
×

ছবি: সমকাল

 সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৩১ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

একদিকে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন আটতলা ভবন পড়ে আছে অসমাপ্ত অবস্থায়, অন্যদিকে একটি ভাড়া বাসায় গাদাগাদি করে চলছে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের সীমিত কার্যক্রম। পর্যাপ্ত কক্ষ নেই, নেই পূর্ণাঙ্গ ওটি, কেবিন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসুবিধা। ফলে প্রসূতি মা, শিশু ও কিশোরীদের জন্য নির্ধারিত ২০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালু করা যাচ্ছে না।

দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন নিম্নবিত্ত ও সাধারণ পরিবারের মানুষ। সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের হাসনগর ময়নার পয়েন্টসংলগ্ন একটি আবাসিক ভবনে চলছে মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম। চারপাশে বনজঙ্গল ও ঝোপঝাড়ে ঘেরা ভবনটির পরিবেশ। একটি ছোট কক্ষে দুটি শয্যা পেতে নরমাল ডেলিভারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আরেকটি কক্ষ ব্যবহৃত হচ্ছে লেবার রুম হিসেবে। ভবনের সিঁড়ির নিচে ডিসপেনসারি এবং থাকার কক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ছোট কক্ষগুলোতে ঠাসাঠাসি করে রাখা হয়েছে চেয়ার-টেবিল, খাতাপত্র ও চিকিৎসাসামগ্রী। চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত বসার জায়গা। একটি কক্ষে চিকিৎসক বহির্বিভাগের সেবা দেন। অন্য একটি কক্ষে কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীকে একসঙ্গে বসে কাজ করতে হয়। রোগীদের অপেক্ষা ও চিকিৎসার জন্যও পর্যাপ্ত জায়গা নেই।

এভাবে প্রায় তিন বছর ধরে চলছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। অথচ ২০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর লক্ষ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন ভবন। নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় নতুন ভবনে সেবা চালু করা যাচ্ছে না। এ কারণে নিজস্ব অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও সেখানে চিকিৎসাসেবা নেই। যেখানে সেবা চলছে সেখানে নেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। 

শহরের ডিএস রোড এলাকায় সুনামগঞ্জ মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ৫ মে। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সিলেটের অধীনে আটতলা ভবনে ২০ শয্যার এ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১৪ কোটি ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৭৫৬ টাকা। দরপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ জুলাইয়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। সাততলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই ও গাঁথুনির কাজ শেষ হলেও অষ্টম তলার ছাদ ও ফিনিশিংয়ের কাজ অসমাপ্ত রয়েছে।

নির্মাণাধীন ভবনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বাঁশ, কাঠের তক্তাসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী। কাজ বন্ধ থাকায় ভবনটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। নতুন ভবনের কাজ শেষ না হওয়ায় সেখানে ২০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা যাচ্ছে না।

রোগীর স্বজন নুরুল আমিন বলেন, একটি রোগী নিয়ে চিকিৎসার জন্য সিলেট ও ঢাকায় ছুটতে হয়। এতে দরিদ্র মানুষের অনেক ভোগান্তি হয়। নতুন কেন্দ্রটি চালু হলে সুনামগঞ্জের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলো উপকৃত হতো এবং দ্রুত প্রতিষ্ঠানটি চালু করা উচিত।  

মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) ডা. প্রিয়াঙ্কা পাল চৌধুরী বলেন, বর্তমান ভবনে আরও কয়েকটি কক্ষ থাকলে আলাদা ওটি, পোস্ট-অপারেটিভ সেবা এবং রোগীদের জন্য পৃথক কেবিনের ব্যবস্থা করা যেত। 

জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী হুসনুল করিম বলেন, সুনামগঞ্জ মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ একটি প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছিল। ২০২৪ সালে ওই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কাজ অসমাপ্ত থেকে যায়। অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে নতুন ডিপিপিটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তা অনুমোদনের পরিপ্রেক্ষিতে টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন।

আরও পড়ুন

×