ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পে দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে

বান্দরবান

সুপেয় পানি সরবরাহ প্রকল্পে দুর্নীতির প্রমাণ মিলেছে
×

 কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৯:০৪ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

বান্দরবানের উপজেলাগুলোতে বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে কয়েকটি প্রকল্প নেওয়া হয়। 
তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নামমাত্র ও নিম্নমানের কাজ দেখিয়ে প্রকল্পে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছে বলে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাত পর্যন্ত বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করে দুদক। অনিয়মের অভিযোগ যাচাই করতে দুদকের কক্সবাজার কার্যালয়ের এনফোর্সমেন্ট দল কুহালং ইউনিয়নের বাকীছড়া পাড়ায় যায়। সেখানে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শন করে কাজের মান ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সরেজমিন যাচাই করা হয়।

দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও আভিযানিক দলের প্রধান আবদুল আল নোমান জানান, বেশ কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত যেসব উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং যেসব প্রকল্প চলমান রয়েছে, সেগুলো সরেজমিন তদন্ত করে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

তবে দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযানকালে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের যন্ত্রাংশ এবং টিউবওয়েল স্থাপনের একই ছবি বারবার ব্যবহারসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। এমনই একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন কক্সবাজার কার্যালয় থেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের অনুমতি চাওয়া হয়েছে কমিশন থেকে।

অভিযান চলাকালে বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে এবং প্রাক্কলনবিদ (এস্টিমেটর) মোহাম্মদ জুলহাস নিজ নিজ অফিসকক্ষে উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বান্দরবান সারা বছরই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় নিরাপদ পানি সরবরাহব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল। এই জেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহের আওতা ৬৩ শতাংশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে ২০২৬ সালে তা ৭৬ শতাংশে উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। ১৩ শতাংশ বাড়ানোর কথা থাকলেও তা হয়েছে মাত্র ৪ শতাংশ। প্রকল্পের আওতাধীন উপজেলাগুলো বান্দরবান সদর, রোয়াংছড়ি, রুমা, থানচি, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি। 

সম্পূর্ণ সরকারি খরচে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছিল ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। মোট খরচ ধরা হয় ৪৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা। প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে বান্দরবান জেলার বিভিন্ন উপজেলার জনগণের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা।

প্রকল্পের প্রধান কাজ ছিল ১০টি নলকূপ, ৮৫টি পাম্পসহ গভীর নলকূপ, পানি সরবরাহ, ৩০টি বিদ্যুৎ সংযোগসহ পাবলিক টয়লেট, ৮৫টি ইলেকট্রিক সংযোগসহ পাম্প হাউস ও ৮৫টি স্ট্যান্ড পোস্ট স্থাপন। এ ছাড়া ৮৫ কিলোমিটার বিভিন্ন ধরনের পাইপের পানির লাইন স্থাপন ও ১২টি জিএফএস সংস্কার, ১৪০টি রিংওয়েল 
এবং রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং কাজও ছিল ওই প্রকল্পের অধীনে।

এ বিষয়ে জানার জন্য বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

আরও পড়ুন

×