ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউপি চেয়ারম্যানের বক্তব্য ভাইরাল

‘দুইটা মার্ডার হোক, পাঁচটা হোক দায়ভার আমাদের’

‘দুইটা মার্ডার হোক, পাঁচটা হোক দায়ভার আমাদের’
×

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৭:২৩ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:১২

ফরিদপুরের সালথায় স্থানীয় একটি মিটিংয়ে সমর্থকদের অস্ত্র তৈরির নির্দেশ ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক মোল্লার বিরুদ্ধে। তবে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি এডিট করা (সম্পাদিত)। তিনি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি। 

সম্প্রতি সালথা উপজেলার উজিরপুর বাজারে আয়োজিত একটি সভায় যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিও গতকাল সোমবার রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে তার সমর্থকদের উদ্দেশে ‘অস্ত্র বানানোর’ কথা বলতে শোনা যায়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে তিনি তা দেখবেন—এমন বক্তব্যও ভিডিওতে রয়েছে। 

ভিডিওতে তাকে বলতে শুনা যায়, ‘কোনো কিছু যদি করতে হয় আমাদের না জানায়ে যদি করো তার দায়ভার তোমাদের। এটা আমরা কোনো লিডাররা নিবো না। আর আমাদের নেতৃত্বে যদি কিছু হয়, দুইটা মার্ডার হোক বা পাঁচটা মার্ডার হোক, দায়ভার আমাদের।’

তিনি আরও বলেন, ‘আর একটা জিনিস, অস্ত্র গুনি সিপাহী লড়ে। যার যার অস্ত্র বানাইতে হবে। আপনারা যে একদম দুলদুলি গ্রাম যে ফেলাইনা গ্রাম তা না। যেকোনো টাইম যেকোনো লোকের সাথে লাগতেই পারে।’ 

রফিকুল ইসলাম সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া গ্রামের মেসের খানের ছেলে। ৫৫ বছর বয়সী এ ব্যক্তি দীর্ঘ ২২ বছর প্রবাসে থাকার পর দেশে ফেরেন। এরপর ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আবদুর রব মোল্লাকে পরাজিত করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১৭টি মামলা হয়েছিল; বর্তমানে দুটি মামলা চলমান রয়েছে।

চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক মোল্লা দাবি করেছেন, তিনি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দেননি। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি এডিট করা (সম্পাদিত)। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার দলের এক ভ্যানচালককে প্রতিপক্ষের লোকজন মারধর করে ভ্যান রেখে দিয়েছে। চাইলে দলীয় লোকজন নিয়ে ভ্যানটি উদ্ধার করতে পারতাম; কিন্তু তা না করে পুলিশের সহায়তা নিচ্ছি। বর্তমানে এলাকা শান্ত রাখতে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’

এদিকে বিষয়টি সম্পর্কে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, আমি এ বিষয়ে অবগত নই। চেয়ারম্যান সম্প্রতি এ ধরনের কোনো বক্তব্য দিয়েছেন কি না, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, ভিডিওটি দেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে চেয়ারম্যানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়েও আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×