ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কুমিল্লার আইনজীবীরা

অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না কুমিল্লার আইনজীবীরা
×

অপ্রতিম। ছবি-সংগৃহীত

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:০৮ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:২৭

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের সন্তান ইয়াশাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী লড়বেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমিতির নেতারা।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের চার দিন পর মঙ্গলবার বিকেলে কুবির কনফারেন্স রুমে জেলা আইনজীবী সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সহিদ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুল হক খন্দকার।

সভায় অপ্রতিম হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে কুবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, কুমিল্লা আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে সাংবাদিকদের অ্যাডভোকেট মো. সহিদ উল্লাহ বলেন, ‘আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কেউ অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিদের পক্ষে লড়বেন না।’

আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী না দাঁড়ালে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আসামির পক্ষে কেউ না দাঁড়াই, তাহলে রাষ্ট্র নিজেই আসামির পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করবে। কারণ একতরফা বিচার হলে সেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’

পরে আইনজীবী সমিতির নেতারা কোটবাড়ী এলাকার গন্ধমতিতে অপ্রতিমের বাসায় যান। সেখানে অপ্রতিমের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সান্ত্বনা দেন। অপ্রতিমের মা কুবির বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম বলেন, ‘আমার নিরপরাধ শিশু সন্তানকে হত্যা করা হলো। এখন উল্টো আমাদের নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ঘাতকদের সহযোগীরাও এ অপকর্মে জড়িত।’

এ সময় অপ্রতিমের বাবা-মা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন। আইনজীবীরা তাদের ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরে আর বাসায় ফেরেনি সে। পরদিন দুপুরে লালমাই পাহাড়ের পাশে সানন্দা গ্রামের একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর এবং জড়িত সন্দেহে মো. সিয়ামকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানায়, সিয়াম ছাড়া অপর তিনজন কুমিল্লার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

আরও পড়ুন

×