বরগুনা
বিদ্যালয়ে ঢুকে ছাত্রীর মুখে লাথি, উপড়েছে তিন দাঁত
পথে উত্ত্যক্ত, বাড়িতে ঢুকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা নিয়ে সালিশের জের
ছবি-সংগৃহীত
বরগুনা ও বেতাগী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৪৫
শুরুতে প্রেমের প্রস্তাব, এতে রাজি না হওয়ায় শ্লীলতাহানির চেষ্টা। সেই ঘটনা নিয়ে সালিশ। এর জেরে বরগুনার বেতাগীতে বিদ্যালয়ে ঢুকে পঞ্চম শ্রেণির (১০) এক ছাত্রীর ওপর নির্মম হামলা চালিয়েছে এক বখাটে। গত সোমবার বিকেলে উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে এ ঘটনা। বখাটের লাথিতে উপড়ে গেছে শিশুটির তিনটি দাঁত, ভেঙেছে দুটি।
সোমবার রাতেই ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে বেতাগী থানায় মামলা করেন। এতে পুলিশ প্রধান আসামি মো. ফয়সাল মৃধা (২২), তার ছোট ভাই মো. সিফাত মৃধা (২০) ও মা মোসা. শিরিন বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়। তারা গাবতলী গ্রামের বাসিন্দা।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠে বসে চিৎকার করে কাঁদছে শিশুটি। তার মুখ থেকে অনবরত রক্ত ঝরছে। মাঠের একাংশেও রক্ত দেখা গেছে।
গুরুতর অবস্থায় শিশুটি এখন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মেয়েটির স্বজন ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, ফয়সাল মৃধা এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। বেশ কিছুদিন ধরে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে মেয়েটির পথ আটকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল সে। এতে রাজি না হওয়ায় উত্ত্যক্ত করা শুরু করে ফয়সাল। ১৯ সেপ্টেম্বর মেয়েটি বাড়ির বাইরে শৌচাগারে গেলে ফয়সাল উঁকি দিয়ে শরীরে হাত দেওয়ার চেষ্টা করে। শিশুটির চিৎকারে স্বজনেরা এগিয়ে এলে সে পালিয়ে যায়।
পুলিশ এলেও হয় সালিশ
এ ঘটনার পর মেয়েটির মা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) কল করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও বিশিষ্টজনের উপস্থিতিতে সালিশ বসে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সালিশের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ফয়সাল। সে মেয়েটিকে মারধরের হুমকি দেয়। এতে তাকে বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দেওয়া হয়। সোমবার এক শিক্ষক তাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যান।
মেয়েটির মা বলেন, ‘ফয়সালের ভয়ে মেয়েকে ঘরে আটকে রেখেছি। আমিও পালিয়ে থেকেছি। ওর বাবা নেই, আমরা গরিব।’ তাঁর ভাষ্য, কয়েকদিন আগে থেকে মেয়েকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল ফয়সাল। এমনকি তার চলাফেরায়ও বাধা দিচ্ছিল। তাঁর মেয়ে রাজি না হওয়ায় ফয়সাল এই হামলা চালায়। সে এলোপাতাড়ি চড় ও লাথি দেয়। মুখে লাথি দেওয়ায় তিনটি দাঁত ভেঙে গেছে।
গাবতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেনের অভিযোগ, প্রায় তিন বছর আগে থেকে তাঁর বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল ফয়সাল। এমনকি কয়েকজনের শ্লীলতাহানির চেষ্টাও করে সে। সোমবার বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ করে ফয়সাল বিদ্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় মেয়েটিকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এতে তার কয়েকটি দাঁত উপড়ে যায়। তারা দ্রুত উদ্ধার করে মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন-অর-রশীদ হাওলাদারের দেওয়া তথ্যমতে, শিশুটির ওপর হামলার পরপরই পুলিশ ফয়সালের মা শিরিন বেগমকে আটক করে। রাতে মেয়েটির মা মামলা করলে ফয়সাল ও তার ছোট ভাই সিফাতকেও আটক করা হয়। তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার বরগুনা আদালতে পাঠানো হয়েছে।
- বিষয় :
- শিক্ষার্থী
- শ্লীলতাহানি