ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাছের গাড়ি আটকে টাকা নিচ্ছেন নৈশপ্রহরী

গাছের গাড়ি আটকে টাকা নিচ্ছেন নৈশপ্রহরী
×

 ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

সুনামগঞ্জের ছাতকে প্রতি রাতেই জ্বালানির জন্য ব্যবহারের লাকড়িবাহী (গাছ ও ডালপালা) ট্রাক-পিকআপ চলাচল করে। সুরমা ব্রিজ ও ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কে বিভিন্ন স্থানে গাড়ি আটকিয়ে টাকা নিচ্ছেন বন বিভাগের লোকজন।

বন বিভাগের দুই নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন এক গাড়িচালক। বিষয়টি স্থানীয় বন বিভাগ অবগত থাকলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। 
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলার শ্রীঙ্গলসহ সিলেটের বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কাঠ প্রতিদিন বোঝাই করে অন্তত ২০ থেকে ৩০টি গাড়ি প্রতিদিন ছাতকে ঢুকছে। এসব কাঠবাহী গাড়ি সড়কে থামিয়ে বা মোটরসাইকেল দিয়ে ধাওয়া করে বিভিন্ন অজুহাতে ৫শ টাকা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে দুজনের বিরুদ্ধে। এসব টাকা আদায়কারীরা হলেন–উপজেলা বন বিভাগের নৈশপ্রহরী মহসিন মিয়া ও বনপ্রহরী আজিজুর রহমান।

গত রোববার রাত আনুমানিক ৯টার পর অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে গণমাধ্যমকর্মীরা দেখতে গেলে ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের একটি অন্ধকার স্থানে কাঠবাহী গাড়ি থামিয়ে চালকদের সঙ্গে বন বিভাগের ওই দুই কর্মীকে দীর্ঘ সময় কথাবার্তা বলতে দেখা যায়। পৌরসভার আবর্জনা ফেলার রাস্তার কাছাকাছি ওই স্থানে মোটরসাইকেল নিয়ে অবস্থান করছিলেন মহসিন মিয়া ও আজিজুর রহমান। কিছুক্ষণ পর দুটি কাঠবাহী পিকআপ ওই এলাকা অতিক্রম করলে তারা মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ি দুটির পিছু নেন।
পরে পাগল হাসান চত্বর থেকে দোয়ারাবাজারমুখী সড়কের রেললাইন পার হওয়ার পর অন্ধকার এলাকায় গাড়ি দুটিকে থামানো হয়। এ সময় চালকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথাবার্তা ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। চালকরা মোবাইল ফোনে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করতেও দেখা যায়। ঠিক ওই সময়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গাড়ি আটকের কারণ জানতে চান।
এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে গাড়ির চালকরা বলেন, কাঠ পরিবহনের জন্য তাদের নিয়মিত ৫০০ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গাড়ি আটক, মামলা বা হয়রানির ভয় দেখানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে সিলেট অঞ্চল বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, এভাবে রাস্তায় টাকা আদায় করা অন্যায়। বন বিভাগের কর্মীরা এ ধরনের কাজ করতে পারেন না। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×