ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রতিশ্রুতি নয়, প্রত্যাবাসনে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চান রোহিঙ্গারা

প্রতিশ্রুতি নয়, প্রত্যাবাসনে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চান রোহিঙ্গারা
×

ছবি: সমকাল

কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:২৬ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২০:৩৩

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে সামনে রেখে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজারের উখিয়ার আশ্রয়শিবিরে থাকা রোহিঙ্গারা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুত জীবনের অবসানে শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বা আন্তর্জাতিক সহমর্মিতা নয়, প্রত্যাবাসনের জন্য সুনির্দিষ্ট, সময়ভিত্তিক ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ প্রয়োজন।

ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গার (ইউসিআর) উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুরে উখিয়ার জামতলী ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি এ আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, ২০১৭ সালের পর প্রায় নয় বছর ধরে বাংলাদেশে বাস্তুচ্যুত জীবন কাটাচ্ছেন তারা। এই সময়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও সংহতি পেলেও প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। ফলে রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

রোহিঙ্গা নেতাদের দাবি, তাদের নিজ দেশে ফেরাতে এবার কার্যকর ও সময়বদ্ধ উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের মতে, রোহিঙ্গা সংকটের মূল উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর স্থায়ী সমাধানও সেখানে করতে হবে। তবে প্রত্যাবাসনের আগে নিরাপত্তা, অধিকার, নাগরিক মর্যাদা ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

ইউসিআরের নেতারা বলেন, অতীতে সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। ভবিষ্যতে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না- এমন বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা ছাড়া প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না।

ইউসিআরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মৌলভী সৈয়দ উল্লাহ বলেন, ‘রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছেন। এখন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। অনির্দিষ্টকাল শিবিরে রেখে এই সংকটের সমাধান করা যাবে না।’

রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মো. সোয়েব বলেন, ‘আমরা আলোচনা নয়, কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চাই। এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরতে পারেন।’

তিনি জাতিসংঘ, সদস্যরাষ্ট্র, আঞ্চলিক পক্ষ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ রফিক বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ঘরে ফেরার অধিকার নিয়ে বহুবার কথা হয়েছে। কিন্তু নয় বছর পরও আমরা শিবিরে। এবার প্রত্যাবাসনের একটি সুনির্দিষ্ট ও সময়ভিত্তিক রোডম্যাপ প্রয়োজন।’

সমাবেশে রোহিঙ্গা নারী নেত্রী সাজিদা বেগম বলেন, দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুত জীবনে রোহিঙ্গা নারীদের নানা সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি না হলে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হবে।

১৫ নম্বর আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা নুরুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের আশ্রয় দিয়েছে, এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু আমরা নিজেদের দেশ, ঘরবাড়ি ও স্বজনদের কাছে ফিরে যেতে চাই। নিরাপদে ফেরার ব্যবস্থা করা হোক।’

রোহিঙ্গা নেতা মো. সালেহ বলেন, দীর্ঘদিন শিবিরে বসবাসের কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও খাদ্যসহ মৌলিক চাহিদা পূরণে সংকট তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও পড়ছে। তাই দ্রুত প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

আরেক রোহিঙ্গা নুর আলম বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের প্রভাব শুধু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর আঞ্চলিক প্রভাবও বাড়তে পারে। তাই নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

×