ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপ্রতিম হত্যা: জড়িতদের দুজন কিশোর গ্যাং ‘কেবিজি’র সদস্য

অপ্রতিম হত্যা: জড়িতদের দুজন কিশোর গ্যাং ‘কেবিজি’র সদস্য
×

অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজন। ছবি: সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:৫২ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৩:৫৩

কুমিল্লায় ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার পর আবারও আলোচনায় এসেছে স্থানীয় বেশ কিছু কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা। দলবদ্ধ হয়ে তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিত। বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালিয়ে এলাকায় ভীতি তৈরি করত। কখনো আবার এই গ্রুপের সদস্যরা একা পেয়ে পথচারী বা শিক্ষার্থীদের আটকে মোবাইল ফোন ও টাকা-পয়সা ছিনতাই করে। অনেকে ঘুরে ঘুরে টিকটক ভিডিও বানায়। কোটবাড়ি সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় মাদকের কেনাবেচা ও সেবনের সঙ্গেও জড়িত তারা। 

অপ্রতিমকে হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে দুজন ‘কেবিজি’ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তারা হলো—মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও মো. কামরুল হাসান (১৫)।

কেবিজির পুরো নাম—‘কোটবাড়ি বাইকার গ্রুপ’। পুলিশ বলছে, অপ্রতিম হত্যার মূল হোতা ১৯ বছরের সাইফুল ইসলাম তুহিন। সেও গ্যাংয়ের সদস্য। অপ্রতিমের ঘটনায় গ্রেপ্তার মোহাম্মদ সিয়ামের (১৫) সঙ্গে তুহিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। স্থানীয় লোকজনের কাছে তুহিন ‘উচ্ছৃঙ্খল’ তরুণ হিসেবে পরিচিত ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানা ও আশপাশ এলাকায় যেসব গ্যাং গ্রুপ সক্রিয়, তার মধ্যে আছে কেএনএফ, ইসমাইল, ‘র’ ও সিবিকে। গত প্রায় ছয় বছর ধরে আরও যেসব গ্যাং গ্রুপ সেখানে সক্রিয় রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—মডার্ন, রকস্টার, রয়েল বেঙ্গল, সিজলিন, জে অ্যান্ড জে, বিগ ব্রাদার, টুইস্ট, ব্ল্যাক স্টার, ডার্ক, ইগল, আরজিএস, র‍্যাক্স, এক্স, এলআরএন, সিএমসি ও ডিস্কো বয়েজ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সদর দক্ষিণ এলাকায় সক্রিয় কেবিজি গ্রুপের দলনেতা হলেন আলী সাইমন। তাঁর দলে আছেন সোহাগ রানা ও মোহাম্মদ হানজালাসহ কয়েকজন। সাইমনের এক মামা ভাগনের এই গ্রুপকে পেছন থেকে সহায়তা করছেন বলে অভিযোগ আছে। ওই মামার বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, গত ২৮ আগস্ট আমির হোসেনের খামারে ফটক ভাঙচুরের চেষ্টা করে ৩০-৩৫ জনের একটি উচ্ছৃঙ্খল গ্রুপ। চাঁদা না দিলে তারা খামারে অগ্নিসংযোগ করার হুমকি দেয়। ১৫-২০টি মোটরসাইকেল ও দুটি মাইক্রোবাসযোগে তারা সেখানে যায়। খবর পেয়ে এলাকাবাসী জড়ো হলে গ্যাংয়ের সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে যায়। মূলত আমির হোসেনের খামারের পাশে এক ব্যক্তির জমি রয়েছে। তাঁর পক্ষ হয়েই ওই গ্রুপ খামারে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় আমির হোসেন সদর দক্ষিণ থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, কুমিল্লার কিশোর গ্যাংয়ের অনেক সদস্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ভাড়ায় খাটে। এ ছাড়া সাইকেল বা মোটরসাইকেল চালানো, রাতবিরাতে বাইরে থাকা ও বেপরোয়া চলাফেরা করে থাকে তারা।

সার্বিক বিষয়ে সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম সমকালকে বলেন, কেবিজি, কেএনএফসহ যেসব গ্রুপের কথা আমরা শুনছি বা তথ্য পাচ্ছি, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গতকাল বুধবার রাতে কিশোর গ্যাংয়ের ৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুচলেকায় ৩২ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দুজনের বিরুদ্ধে আগেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। বাকিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সারা দেশে সক্রিয় কিশোর গ্যাং নিয়ে সম্প্রতি তালিকা করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। সে তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী বাদে দেশের বিভিন্ন মহানগর ও জেলায় ২২৭টি কিশোর গ্যাং সক্রিয়। এসব গ্রুপের সদস্যসংখ্যা ২ হাজার ৫৫০ জন। এসব গ্রুপের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরে আছে ৯৮টি। এ ছাড়া খুলনা মহানগরে ৭, রাজশাহীতে ১৩, সিলেটে ১৫ ও গাজীপুর মহানগরে ১৩টি গ্রুপ রয়েছে। অন্য মহানগর ও বিভিন্ন জেলা শহরেও বেশ কিছু গ্রুপ সক্রিয়। জেলা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি রয়েছে নোয়াখালীতে—২৫টি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য বলছে, রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের ১৫৯টি গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপে সদস্য রয়েছেন ১ হাজার ৮১২ জন। ঢাকার মধ্যে মোহাম্মদপুরে সর্বোচ্চ ২৭টি কিশোর গ্যাং আছে। এসব গ্যাংয়ে সদস্যসংখ্যা অন্তত সাড়ে ৩০০। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬টি পল্লবী থানা এলাকায়। এসব গ্রুপে সদস্যসংখ্যা অন্তত ১৬০ জন।

আরও পড়ুন

×