মালয়েশিয়ায় উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা
গোল্ড মেডেল জিতলেন জুড়ীর ইয়াফির
মালয়েশিয়ায় রোবটিকস অ্যান্ড ইনোভেশন চ্যাম্পিয়নশিপে পদক জয়ী ইয়াফি সমকাল
জুড়ী (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা ‘ওয়ার্ল্ড ইনভেনশন কম্পিটিশন অ্যান্ড এক্সিবিশন’ (ডব্লিউআইসিই)-এ অংশ নিয়ে গোল্ড মেডেল অর্জন করেছে বাংলাদেশের তরুণ উদ্ভাবক ওয়াসিক জাহেদ ইয়াফি ও তার দল ‘এসওয়াইটি ইনোভেটরস’। তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্পের নাম ‘এআই মিলিটারি রোভার’।
ইন্দোনেশিয়ান ইয়ং সায়েন্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইওয়াইএসএ) ও মালয়েশিয়ার সেগি ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে ২০ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মালয়েশিয়ার পেটালিং জায়ার সেগি ইউনিভার্সিটিতে প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয়।
ইয়াফি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা। সে ওই ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের নির্বাচিত সদস্য জাহেদ হোসেন তাজিন ও ব্যাংক কর্মকর্তা তাহমিনা ডালিয়া দম্পতির ছেলে। ইয়াফি সিলেট জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান থেকে আন্তর্জাতিক পর্বের জন্য ৫১৭টি দল নিবন্ধন করে। অনলাইন ও অফলাইন মিলিয়ে এতে অংশ নেয় পাঁচ হাজারেরও বেশি তরুণ গবেষক ও উদ্ভাবক। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে ২৩টি দল অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। এর মধ্যে সিলেট থেকে একমাত্র দল হিসেবে অংশ নেয় ‘এসওয়াইটি ইনোভেটরস’।
গত বুধবার প্রতিযোগিতার মঞ্চে যখন ঘোষণা দেওয়া হয় ‘গোল্ড মেডেল গোজ টু ওয়াসিক জাহেদ ইয়াফি– এসওয়াইটি ইনোভেটরস, বাংলাদেশ’ তখন বাংলাদেশ দলের সদস্যদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
আগামী ২ ও ৩ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলের ইলদিজ টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে ‘গ্লোবাল রোবোটিকস অ্যান্ড ইনোভেশন চ্যাম্পিয়নশিপ (জিআরআইসি) ২০২৬’-এর আন্তর্জাতিক ফাইনাল। এতে ছয় মহাদেশের সেরা উদ্ভাবকেরা অংশ নেবেন। সেখানে ‘এআই মিলিটারি রোভার’ প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে ওয়াসিক জাহেদ ইয়াফি ও তাঁর দল ‘এসওয়াইটি ইনোভেটরস’।
মালয়েশিয়ার এই অর্জনের পর তুরস্কের আন্তর্জাতিক ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইয়াফি ও তাঁর দল। তাদের এই সাফল্যে জুড়ীসহ পুরো সিলেট অঞ্চলে আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে।
ইয়াফির বাবা জাহেদ হোসেন তাজিন বলেন, ‘ইয়াফি আমার ছেলে, কিন্তু আজ সে পুরো বাংলাদেশের সন্তান। সে প্রমাণ করেছে, আমাদের দেশের তরুণরা সুযোগ পেলে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে। এটি শুধু একটি মেডেল নয়, এটি আমার ছেলের ঘাম, শ্রম ও নির্ঘুম রাতের ফসল। মালয়েশিয়ার মতো তুরস্কেও সে সাফল্য অর্জন করে দেশের সুনাম বৃদ্ধি করবে বলে আমি আশাবাদী।’
ওয়াফির মা ব্যাংক কর্মকর্তা ওম্মে কুলসুম তাহমিনা বলেন, আমার ছেলে ছোটবেলা বিভিন্ন খেলনা ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ঘরে কিনে আনলে সেটা খুলে কি কি যন্ত্র রয়েছে কিংবা সেখান থেকে ডিভাইস বের করে মটর আবিষ্কার করার চেষ্টা করত। আমরা তার এ ধরনের চিন্তা চেতনা দেখে ২০২২ সালে সাউবার রোবো একাডেমি সিলেটে ভর্তি করি। সেখানে সে বিভিন্ন রকম প্রোগ্রাম পেইথন শিখে। চলতি বছর জানুয়ারিতে সে থাইল্যান্ডেও গোল্ড মেডেল অর্জন করে। আমি একজন মা হিসেবে গর্বিত। দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া চাই। এ অর্জন আমাদের নয়। এ অর্জন দেশবাসীর। এ অর্জন জুড়ী উপজেলাবাসীর।
জুড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক প্রবীণ শিক্ষাবিদ মো. তাজুল ইসলাম তারা মিয়া মাস্টার বলেন, ইয়াফিসহ তাঁর টিম আজ দেশের পতাকা নিয়ে যে অর্জন করেছে তা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। আমাদের জুড়ী উপজেলার মতো ছোট্ট একটি মফস্বল শহরের সন্তান হিসেবে এ অর্জন অত্র এলাকার জন্য সুনাম বয়ে এনেছে। এ জন্য আমরা গর্বিত।
- বিষয় :
- প্রতিযোগিতা