ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নদের পার ধস, হেলে পড়েছে মাদ্রাসা ভবন

নদের পার ধস, হেলে পড়েছে মাদ্রাসা ভবন
×

মনিরামপুরে হরিহর নদের তীরে স্থাপিত মাদ্রাসাটি। সম্প্রতি পৌরসভার মোহনপুর এলাকায় সমকাল

মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৫৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

যশোরের মনিরামপুর পৌরশহরে সদ্য পুনর্খনন করা হরিহর নদের পার ধসে মনিরামপুর ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বহুতল ভবন হেলে পড়েছে। পার ধসের সঙ্গে নদের পানির চাপে বেইজের (ভিত্তি) মাটি সরে যাওয়ায় এটি যে কোনো মুহূর্তে নদীতে ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বর্তমানে অন্যত্র পাঠদান করানো হচ্ছে।
মনিরামপুর পৌরশহরের মোহনপুরে হরিহর নদের তীরে ১৯৭৪ সালে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে ফাজিল মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে একটি দোতলা ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হচ্ছিল। পরে শিক্ষার্থী বৃদ্ধির কারণে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর পাঁচতলা ভিত্তিসহ তৃতীয় তলা ভবন নির্মাণ করে। ভবনটির প্রথম তলায় প্রশাসনিক দপ্তর এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এ ভবনের পেছন দিয়েই প্রবাহিত হয়েছে হরিহর নদ। গত জানুয়ারি মাসে নদটি পুনর্খনন করা হয়। 

অধ্যক্ষ মো. শহিদুল্লাহ জানান, নদের পার ভেঙে মাদ্রাসা ভবনের পেছনের বেইজ থেকে মাটি সরে গেছে। ভবনটি ইতোমধ্যে নদের দিকে হেলে পড়েছে। মেঝে, দেয়াল, বিম ও ছাদে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। 
মনিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমীন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত মাদ্রাসা ভবন সম্পর্কে জেলা প্রশাসনকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়েছে।
খবর পেয়ে গত বুধবার জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হাদিউজ্জামান খান মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, মাদ্রাসা ভবনের পেছনে নদের পারটি পর্যাপ্ত ঢালু (স্লোপ) না রেখে খাড়াভাবে খনন করা হয়েছিল। ফলে পানির চাপে পার ভেঙে গিয়ে ভবনের বেইজের মাটি সরে যায়। ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দেওয়ায় এটিকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করা হয়েছে। 
প্রকৌশলী হাদিউজ্জামান আরও জানান, জরুরি ভিত্তিতে প্যালাসাইটিং করে নদের পার পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর আবেদন পাঠানো হয়েছে। মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মুহিবুল্লাহ মনু জানান, নিরাপত্তার কথা ভেবে শিক্ষার্থীদের ওই ভবন থেকে সরিয়ে অন্যত্র পাঠদান চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আশরাফুল আলম জানান, এ মুহূর্তে প্যালাসাইটিং করে ভেঙে যাওয়া পার পুনর্নির্মাণ করাই একমাত্র সমাধান।

আরও পড়ুন

×