ফরিদপুর
ভাতিজার লাঠির আঘাতে প্রাণ গেলো চাচার
প্রতীকী ছবি
মধুখালী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:৩৩
ফরিদপুরের মধুখালীতে গরুর ঘরের পানি বের করা ও পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ভাতিজা শাকিল বিশ্বাসের লাঠির আঘাতে জায়েদুল বিশ্বাস (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন বিশ্বাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জায়েদুল বিশ্বাস ওই এলাকার মৃত বদিয়ার বিশ্বাসের ছোট ছেলে। তিনি কৃষিকাজের পাশাপাশি গরু পালন করতেন। তার স্ত্রী ও তিন মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডুমাইন বিশ্বাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত বদিয়ার বিশ্বাসের তিন ছেলে লিপ্টন বিশ্বাস (৫২), আমুদে বিশ্বাস (৪৮) ও জায়েদুল বিশ্বাস (৪২)। তারা একই বাড়িতে বসবাস করতেন। বাড়িতে জায়গা কম থাকায় এবং জমিজমাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমুদে ও জায়েদুলের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গোয়ালঘরের গোবর ও পানি সরানো নিয়েও কয়েকবার ঝগড়া ও সালিশ হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকালে ঘরের সিঁড়ি নির্মাণ ও বাড়িতে জমে থাকা পানি বের করা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা মারামারিতে রূপ নেয়। একপর্যায়ে আমুদে বিশ্বাসের ছেলে শাকিল বিশ্বাস (২৫) কাঠের বাটাম দিয়ে চাচা জায়েদুলকে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান জায়েদুল। উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ডা. সোহেল রানা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্যা বলেন, তিন ভাই একই বাড়িতে বসবাস করেন। জায়গা-জমি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। এ নিয়ে কয়েকবার সালিশও হয়েছে। শুক্রবার গরুর ঘরের পানি বের করাসহ নানা বিষয় নিয়ে আবারও ঝামেলা হয়। একপর্যায়ে শাকিলের লাঠির আঘাতে জায়েদুল নিহত হন।
নিহতের প্রতিবেশী ও গ্রাম পুলিশ আলিপ বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গোয়ালঘরের গোবর ও পানি সরানো নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার এ নিয়ে ঝগড়া শুরু হলে একপর্যায়ে শাকিল কাঠের বাটাম দিয়ে জায়েদুলকে আঘাত করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এস এম মাসুদুজ্জামান।
মধুখালী থানার ওসি সুকদেব রায় বলেন, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে থানায় এনেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
- বিষয় :
- ফরিদপুর