ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাদীদের নম্বর সংগ্রহ করে পুলিশ কর্মকর্তা সেজে প্রতারণার অভিযোগ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

বাদীদের নম্বর সংগ্রহ করে পুলিশ কর্মকর্তা সেজে প্রতারণার অভিযোগ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
×

চট্টগ্রাম ব‍্যুরো

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:২৪ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৩:৩৬

কখনো পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তা, কখনো সিআইডি কিংবা ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা-এভাবে পরিচয় দিয়ে মামলার বাদীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মুহুরীর বিরুদ্ধে। আদালতে মামলা হওয়ার পর বাদীদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তাদের ফোন দিতেন তিনি। এরপর মামলার তদন্তের কথা বলে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টাকা দাবি করতেন।

এ ঘটনায় মোজাম্মেল হক ওরফে কবির নামে ওই মুহুরীকে নোয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ডিভাইসও জব্দ করা হয়েছে। শনিবার তাকে চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়।

পিবিআই সূত্র জানায়, ফটিকছড়ির একটি মারামারি মামলার বাদী জিসম উদ্দিনকে ফোন করে নিজেকে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার এসআই আবু সুফিয়ান হিসেবে পরিচয় দেন মোজাম্মেল। মামলার তদন্ত শুরু করতে অর্থ প্রয়োজন জানিয়ে দ্রুত বিকাশে টাকা পাঠাতে বলেন। বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই জিসম উদ্দিন ৫ হাজার ৩০০ টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে ওই টাকা তুলে নেন মোজাম্মেল।

একইভাবে রাউজানের বাসিন্দা রিন নামে এক সিআর মামলার বাদীকেও ফোন করেন তিনি। এবার নিজেকে সিআইডির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মামলার তদন্তের কথা বলে টাকা চান। তার দেওয়া নম্বরে রিন ৩ হাজার টাকা পাঠান। এভাবে আরও একটি সিআর মামলার বাদীর কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে।

পিবিআই সূত্র আরও জানায়, গত দুই বছর ধরে একটি প্রতারক চক্র মোবাইল ফোনে পিবিআই, সিআইডি ও ডিবির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মামলার বাদীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। বিষয়টি পিবিআইয়ের নজরে এলে চট্টগ্রাম জেলার এসআই আবু সুফিয়ান বাদী হয়ে রাউজান থানায় একটি প্রতারণার মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নোয়াখালী থেকে মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নোয়াখালীর সুধারাম থানার বশরত উল্লাহর ছেলে।

পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আদালত থেকে সিআর মামলা তদন্তের জন্য পিবিআই কার্যালয়ে পাঠানো হয়। কোর্টে মুহুরী হিসেবে কাজ করার সুবাদে মামলার বাদীদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতেন মোজাম্মেল। পরে কখনো পিবিআই, কখনো সিআইডি বা ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাদের ফোন করে অর্থ হাতিয়ে নিতেন।

তিনি বলেন, বাদীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর পিবিআই অনুসন্ধান শুরু করে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর এসআই আবু সুফিয়ান রাউজান থানায় মামলা করেন। মামলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মোজাম্মেলকে নোয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার সহকারী পুলিশ সুপার এ জে এম ওমর ফারুক বলেন, কয়েকটি সিআর মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পিবিআই কর্মকর্তারা জানতে পারেন, তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে একটি প্রতারক চক্র মামলার বাদীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানোর পর অনুসন্ধান শুরু হয়। পরে চক্রটির মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, মোজাম্মেল পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে মামলার বাদীদের টার্গেট করে প্রতারণা করতেন। প্রতারণার অভিযোগে এর আগে ইউনিলিভার থেকেও তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
 

আরও পড়ুন

×