কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
কথা-কাটাকাটি গড়াল দফায় দফায় সংঘর্ষে
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:২১
পরিচয় না দেওয়াকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুরু হওয়া কথা-কাটাকাটি গড়িয়েছে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও দফায় দফায় সংঘর্ষে। এতে অন্তত ১২ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ঘটনার সূত্রপাত। পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক, আইসিটি বিভাগ ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল এলাকায়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রক্টর কার্যালয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসা করা হলেও পরে ফের সংঘর্ষে জড়ান শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের মূল ফটকে তালা দেন। এতে বিকেল ৪টায় ছুটির পরও অন্তত ৪০ মিনিট বিশ্ববিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন শহরমুখী বাস ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, আইসিটি বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সালমান পাটোয়ারী আবীর ও তাঁর সহপাঠী ওমর লাইব্রেরিতে পড়ছিলেন। এ সময় পাশে থাকা নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাকিব তাদের আস্তে কথা বলতে বলেন। পরে তিনি তাদের ব্যাচ জানতে চাইলে আবীর কোনো উত্তর না দিয়ে ‘সরি’ বলে চলে যান। পরে আবীরের বন্ধু সামিন মজুমদার লাইব্রেরি থেকে বের হলে সাকিবের বন্ধু শাকিল তাঁকে লাথি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি বিষয়টি মীমাংসা করে। প্রক্টর কার্যালয়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ছবি তুলে রাখেন সাকিলের বন্ধু রাফসান এবং তাঁর অন্য বন্ধুরা মারধরের হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর আইসিটি বিভাগের দুই শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ছাড়তে গেলে মূল ফটকের সামনে তাদের ওপর লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়। এতে শাকিল, তাহসিন, আবীর, এহসান, রাফসান, সাকিব ও প্রান্তসহ কয়েকজন জড়িত ছিলেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। পরে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা হামলাকারীদের ধাওয়া করলে তারা ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের সামনে আশ্রয় নেন। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের একটি অংশও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থী সামিন মজুমদার বলেন, কয়েকজন তাদের ডেকে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন। আত্মরক্ষায় তিনিও পাল্টা আঘাত করেন।
ইফতেকার জানান, কয়েকজন তাদের ঘিরে ধরে মারধর করেন। তাদের বাঁচাতে আসা অন্য শিক্ষার্থীরাও হামলার শিকার হন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলের ডেপুটি চিফ মাহমুদুল হাসান সোহাগ বলেন, ১২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে আটজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একজনের হাত ভেঙে গেছে।
প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেনের ভাষ্য, শুরুতেই দুই পক্ষকে বসিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল। পরে কী নিয়ে আবার ঝামেলা হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি এবং পুরো ঘটনা তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। হলে হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জড়িতদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
- সংঘর্ষ