এক দিনে ভেঙেছে ৫০ মিটার
বেড়িবাঁধ ভেঙে কপোতাক্ষ নদে, ১২ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা
ভাঙনরোধে স্বেচ্ছাশ্রমে বালুর বস্তা ও মাটি ফেলছেন এলাকাবাসী
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:০৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধে নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে প্রতাপনগর, আনুলিয়াসহ আশপাশের ১০ থেকে ১২টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এদিকে ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ভাঙন ঠেকাতে স্বেচ্ছাশ্রমে বালুর বস্তা ও মাটি ফেলা শুরু করেন।
জানা গেছে, গতকাল সোমবার ভোররাতের জোয়ারে বেড়িবাঁধের লিকেজ থেকে ভাঙনের সূত্রপাত হয়। পরে সকাল ৭টার দিকে তা তীব্র আকার ধারণ করে। এতে বেড়িবাঁধের প্রায় ৫০ মিটার কপোতাক্ষ নদে ধসে পড়ে। ভাঙনস্থলটি লঞ্চঘাটের পাশে অবস্থিত হওয়ায় ওই পথ দিয়ে লোকজনের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রতাপনগর এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, ‘সারা বছর আমাদের নদীর সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচতে হয়। মনের মধ্যে সবসময় ভয় কাজ করে– কখন যেন ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়! পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবহেলার কারণে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারি না। এলাকায় সবেমাত্র গাছপালা ও ফসল হতে শুরু করেছিল; আবার প্লাবিত হলে সব শেষ হয়ে যাবে। বাঁধ রক্ষা করা না গেলে হাজার হাজার মৎস্যঘের পানিতে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
একই এলাকার বাসিন্দা নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘সকাল থেকে আমরা স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে ভাঙন ঠেকাতে কাজ করছি। দ্রুত বালুর বস্তা ফেলে জায়গাটি মেরামত করা না গেলে ভাঙন আরও বিস্তৃত হয়ে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।’
কুড়িকাহুনিয়ার মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘বাঁধ ভাঙতে শুরু করলে কেবল পানি উন্নয়ন বোর্ডের সচেতনতা দেখা যায়। আগে থেকে তারা কার্যকর কোনো টেকসই ব্যবস্থা নেয় না।’
নুরুল আফছার জানান, সকাল থেকে হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙন মোকাবিলায় কাজ করছে। যে স্থানে বাঁধ ভেঙেছে, ঠিক তার সামনে একটি খাল রয়েছে। এই বাঁধটি পুরোপুরি ধসে গেলে প্রতাপনগর ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী আনুলিয়া ইউনিয়নও প্লাবিত হতে পারে।
প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী জানান, সকালে জোয়ারের পানিতে বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কারকাজ শুরু করেন। পরে পাউবোর লোকজনও কাজ শুরু করেছেন। লোকালয়ে পানি প্রবেশের আগে বাঁধটি দ্রুত মেরামত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।
আশাশুনির ইউএনও শ্যামানন্দ কুণ্ডু বলেন, ‘স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ভাঙনরোধে প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডকেও জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে পাউবোর লোকজন ঘটনাস্থলে এসে কাজ শুরু করেছে।’
সাতক্ষীরা পাউবো-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রায় ৫০ মিটারের মতো বাঁধ ধসে গেছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় মেরামতের কাজ চলছে। আশা করছি খুব দ্রুত এলাকাটি বিপদমুক্ত হবে।’
- বিষয় :
- নদী