ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি খাস জলাশয় দেখিয়ে ইজারা
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:২৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির দাগ সরকারি খাস জলাশয়ের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন তথ্য জানার পর বিপাকে পড়েছেন সুমন মিয়া নামে স্থানীয় ইজারাদার। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইজারামূল্য ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি।
ইজারাদার সুমন মিয়া ওই জলাশয় ইজারা নিয়ে সরকারি কোষাগারে ইজারামূল্য, ভ্যাট ও উৎসে করসহ ৭৫ হাজার টাকাও জমা দিয়েছিলেন।
তিনি তা ভোগ দখল করতে পারেননি। তিনি জমা দেওয়া ইজারামূল্য ফেরত ও বিষয়টি তদন্তের জন্য রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। সুমন উপজেলার বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নের বংশীকুন্ডা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে।
আবেদনে বলা হয়, গত বছরের ২২ এপ্রিল মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিত্যক্ত সরকারি জলাশয় খাস ইজারা দেওয়ার লক্ষ্যে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে কয়েকটি দাগের জমি খাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে পার্শ্ববর্তী ইজারাকৃত বিলের সঙ্গে সংযোগ থাকা একটি দাগের পাশাপাশি কয়েকটি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির দাগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেখানে সুমন নিশ্চিন্তপুর ও গোলাবনগর মৌজায় অবস্থিত কয়েকটি দাগের বিপরীতে ১০ দশমিক ১৭ একর জলাশয় ইজারাপ্রাপ্ত হন।
এর বিপরীতে সরকারি বিধি মেনে ইজারাদার সুমন মিয়া ইজারামূল্য ৬০ হাজার টাকা, ১৫ শতাংশ ভ্যাট হিসেবে ৯ হাজার টাকা এবং ১০ শতাংশ উৎসে কর বাবদ ৬ হাজার টাকাসহ মোট ৭৫ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেন। পরবর্তী সময়ে সরেজমিনে গিয়ে এবং তহশিল অফিসের তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানতে পারেন, বিজ্ঞপ্তিতে খাসজমি হিসেবে উল্লেখ করা দাগগুলোর মধ্যে একটি দাগ পার্শ্ববর্তী ইজারাকৃত বিলের এবং অন্য কয়েকটি দাগ ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির।
এমন পরিস্থিতিতে ইজারা নেওয়া জলাশয় যথাযথভাবে ব্যবহার এবং ভোগদখলের সুযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়ায় সুমন মিয়া টাকা ফেরত চান। একই সময় বিষয়টি তদন্তেরও আবেদন জানান তিনি।
সুমন বলেন, সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি ও তথ্যের ওপর নির্ভর করে তিনি ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা ও অবস্থার কারণে ইজারার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে তিনি তাঁর জমা দেওয়া ইজারামূল্য ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন।
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল বলেন, ভূমি রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা বের করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- ইজারা