ফরিদপুরে ডিবি কার্যালয়
যুবলীগ নেতাকে নির্যাতনের ঘটনায় দুই ওসিসহ সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা
ফরিদপুর অফিস
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২০ | ১০:২৮
ফরিদপুরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে যুবলীগের এক নেতাকে চোখ বেঁধে নির্যাতন করার ঘটনায় দুই ওসিসহ সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার ফরিদপুরের এক নম্বর আমলি আদালতে এ মামলাটি করেন ওই যুবলীগ নেতা শেখ আরাফাত হোসেন (৩৬)।
আদালতের বিচারিক হাকিম মো. ফারুক হোসেন মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুরকে নির্দেশ দিয়েছেন। এ মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি।
শেখ আরাফাত হোসেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের শেখপুরা গ্রামের শেখ মোশাররফ হোসেনের ছেলে। শেখ আরাফাত ভাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
যে সাত পুলিশ সদস্যকে এ মামলার বিবাদী করা হয়েছে, তারা হলেন ফরিদপুর ডিবি পুলিশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহাদুজ্জামান আহাদ, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুর রহমান, ভাঙ্গা থানার চার উপপরিদর্শক (এসআই) এবাদুল হক মোল্লা, আনিসুর রহমান, শামসুল হক সুমন ও রেজওয়ান মামুন এবং গোয়েন্দা পুলিশের এসআই শাহীন।
এজাহারে বলা হয়, গত ৫ জানুয়ারি রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কাউলিবেড়া বাজার এলাকা থেকে পাঁচ-ছয় পুলিশ সদস্য একটি সাদা রঙের মাইেক্রোবাসে এসে বিনা গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় তাকে জোরপূর্বক গাড়িতে উঠিয়ে নেন। গাড়িতে ওঠানোর পর পুলিশ সদস্যরা তাকে মারধর করতে থাকেন এবং তাকে নিপন চৌধুরীর (ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ মুজিবর রহমান চৌধুরী) রাজনীতি করার কথা বলেন। তা না করা হলে তাকে ক্রস ফায়ারের হুমকি দেওয়া হয়। পরে পুখুরিয়া এসে তাকে গোয়েন্দা পুলিশের গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। ডিবির গাড়িতে তুলে দিয়ে এসআই এবাদুল ভাঙ্গা থানার ওসিকে মোবাইল ফোনে বলেন, 'স্যার আরাফাতকে গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আহাদুজ্জামানের হাতে বুঝাইয়া দিয়েছি।'
এজাহারে আরও বলা হয়, পরে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় গোয়েন্দা পুলিশের দপ্তরে নিয়ে আসে। সেখানে রাত ১১টার দিকে তাকে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। ওই রাতে কয়েক দফা তাকে পেটানো হয়। জীবন রক্ষার জন্য আমি হাত জোড় করে মিনতি জানালে ডিবির ওসি বলেন, 'আমি তোগে লোক না। আমি নিপন চৌধুরীর লোক।'
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. কামালউদ্দিন বলেন, আদালত আরাফাতের দায়ের করা মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। এ মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৭ জানুয়ারি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর ডিবি কার্যালয়ে নির্যাতনের একটি ভিডিও নিজের ফেসবুক আইডিতে আপলোড করেন আরাফাত। এ ঘটনার পর বিষয়টি সারাদেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
এদিকে এ ঘটনার পরপরই ফরিদপুর ডিবি পুলিশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহাদুজ্জামানকে সদরপুরের চন্দ্রপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ থেকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। বর্তমানে আহাদুজ্জামান রাজবাড়ী বদলি হয়েছেন।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বিপিএম বলেন, আদালত এ বিষয়টি তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। পিবিআই তাদের মতো করে তদন্ত করবে। তিনি বলেন, পাশাপাশি আমরাও বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।