পাঁচ বছরেই শেষ ১২৭ কোটি টাকার সড়ক
সাইফুল হক মোল্লা দুলু কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ১৩:২২
হাওরে প্রবেশের প্রধান রুট বাজিতপুর-অষ্টগ্রাম সড়কটি নির্মাণের পাঁচ বছর না
যেতেই ভেঙে গেছে। দুটি সেতুর সংযোগ সড়কও ভেঙে গেছে। এ কারণে ভোগান্তিতে
পড়েছে কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রাম ও বাজিতপুরের ১৫টি ইউনিয়নের দুই
লাখ মানুষসহ আশপাশের উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ।
কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ১২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে
২১ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি তিনটি প্রতিষ্ঠান ২০১১ সালে নির্মাণ কাজ শুরু
করে। শেষ হয় ২০১৪ সালে। হাওরের মাঝে এ রাস্তাটি জোয়ারের সময় স্রোতের টানে
নিচের দিকে ভাঙতে শুরু করলেও মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অভিযোগ
রয়েছে, প্রতি বছরই সওজ ও অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের সম্মতিতে বিচ্ছিন্ন
সেতুর সংযোগ রাস্তায় বাঁশের সাঁকো বানিয়ে অবৈধ টোল বাণিজ্য করছে স্থানীয়
প্রভাবশালী মহল। এ ব্যাপারে সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সালেহীন জানান,
চলতি বছরে শুস্ক মৌসুমে সবুরের ভাঙা সেতুতে সওজের উদ্যোগেই সাঁকো নির্মাণ
করে অবৈধ টোল বাণিজ্য বন্ধ করা হবে।
এদিকে কারানল সেতুর উত্তর-পূর্ব পাশের সংযোগ সড়কের প্রায় ৮০ ভাগ ধসে গেছে।
যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বাহাদুরপুর ও কাস্তুল পশ্চিমপাড়া
বক্স কালভার্ট এবং জামে মসজিদের সামনের সেতুর সংযোগ সড়কেও ভাঙন সৃষ্টি
হয়েছে। গত ১৭ আগস্ট স্রোতের টানে অষ্টগ্রাম-বাজিতপুর মহাসড়কের বড়ভাঙা
সেতুটি ধসে পড়লে স্থানীয় সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিকের উদ্যোগে একটি
বেইলি সেতুর নির্মাণ কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বাজিতপুরের ঘোড়াউত্রা নদীর দীঘিরপাড় ঘাটে প্রায় ৮০
মিটার সড়ক স্রোতের টানে ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার পাশে
দেয়াল ধসে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেতু-কালভার্টগুলোর সংযোগ সড়ক
বিচ্ছিন্ন হওয়ার পথে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রকৌশলী এনায়েতুর
রহমান বলেন, গভীর হাওরের এই স্থানে আবুরা সড়ক নির্মাণের আগে সমীক্ষা করা
জরুরি ছিল, কিন্তু সেটা হয়নি। হাওরের পানিপ্রবাহ, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও
প্রতিবেশসহ হাওরের ব্যতিক্রম গতি-প্রকৃতি বিবেচনা করা হয়নি। ভরা বর্ষায়
পানিপ্রবাহের জন্য পর্যাপ্ত কালভার্ট, সেতু কিংবা উড়াল সেতু না থাকায়
কয়েকটি সেতু ও কালভার্টের ওপর পানির চাপ বেড়ে যায়। তাই হাওরের পানিপ্রবাহ
মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
হাওর উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত একাধিক কর্তাব্যক্তি ও প্রকৌশলীরা একই মত প্রকাশ
করে বলেন, সমীক্ষার মাধ্যমে হাওরবান্ধব পরিকল্পনা নেওয়া না হলে সড়কসহ
হাওরের অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অষ্টগ্রাম উপজেলা
চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম জেমস বলেন, হাওরের গতি-প্রকৃতি ও এখানকার সার্বিক
বিষয় আমাদের জানা রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষার তাণ্ডব, আফালসহ আগাম বন্যা ও
শুস্ক মৌসুমে ভাটার টান- সবকিছু মাথায় রেখেই কাজ করতে হবে। সড়ক নির্মাণের
আগে স্থানীয় নেতা ও সওজ কর্তৃপক্ষকে বোঝানোর অনেক চেষ্টা করেছি। তারা আমলে
নেয়নি। তাই ১২৭ কোটি টাকার সড়কটির বর্তমানে এই দুরবস্থা।
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল আলম জানান- অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিটামইন,
আবুরা সড়ক নির্মাণের ফলে পানির গতিপ্রবাহ পরিবর্তন হয়েছে, তাই সড়কটির
অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। আবারও সমীক্ষা করে সেতু ও কালভার্টের
সংখ্যা বাড়ানো হলে সড়কটি দীর্ঘস্থায়ী হবে। শুস্ক মৌসুমে চলাচলের উপযোগী
করার জন্য বেইলি সেতুসহ দুটি সেতুর সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ কিছুদিনের
মধ্যেই শেষ হবে।
- বিষয় :
- সড়ক