ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্র আফ্রিকার মরুভূমিও

ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্র আফ্রিকার মরুভূমিও
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:০০ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:১২

ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংঘাত শুধু পূর্ব ইউরোপের মানচিত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, এই যুদ্ধ এখন আফ্রিকার সাহারা মরুভূমি, মধ্যপ্রাচ্য, এমনকি বৈশ্বিক কূটনৈতিক অঙ্গনেও ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশ দুটির মধ্যে যুদ্ধ অবসানের আশার কথা জানালেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র দেখে সে সম্ভাবনা কঠিন মনে হয়। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতকে বিপর্যস্ত করতে কিয়েভ, জাপোরিঝিয়া, দিনিপ্রো, ক্রিভি রিহ ও ওডেসার বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া।

তবে সিএনএনের খবর জানাচ্ছে, ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের চার বছরের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে রাশিয়ার বৈশ্বিক প্রভাব ও সামরিক ভিত্তি দুর্বল করার কৌশল গ্রহণ করেছে। এমনকি পূর্ব ইউরোপের বাইরে আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলসহ উত্তর মালির তীব্র প্রতিকূল পরিবেশে অবস্থান করছে ইউক্রেনের বিশেষ সামরিক দল।

আফ্রিকায় কিয়েভের কৌশলগত উপস্থিতি
আফ্রিকার খনিজসমৃদ্ধ সাহেল অঞ্চলে একটি শক্তিশালী পক্ষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে রাশিয়া। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অঞ্চলটি থেকে ফরাসি ও অন্যান্য পশ্চিমা বাহিনী চলে যাওয়ার ফলে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করেছে তারা। প্রায় ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ও প্রচণ্ড ধুলোবালির মধ্যেও মালির তোয়ারেগ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী আজওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্টকে (এফএলএ) প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার কাজ করছে ইউক্রেনীয় সেনারা।

মূলত রাশিয়ার সমর্থনপুষ্ট আফ্রিকা কর্পসের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য অঞ্চলটিতে তাদের সহায়তা করছে ইউক্রেন। অবশ্য ইউক্রেনীয় ড্রোন পরিচালকরা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে না নেমে ইন্টারনেটের সাহায্যে সিগন্যাল পর্যবেক্ষণ ও রেডিওর মাধ্যমে বিদ্রোহীদের রণকৌশল পরিচালনা করছেন। গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে সিএনএন জানায়, মালি ছাড়াও সুদান, লিবিয়া, চাদ, নাইজার ও বুরকিনা ফাসোর সৈন্যদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইউক্রেন সেনারা।

মধ্যপ্রাচ্যেও সক্রিয়
চলতি বছরের শুরুতে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের ওপর আক্রমণ শুরু করলে ইউক্রেন মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত পাঁচটি দেশে সামরিক বিশেষজ্ঞ পাঠায়। তারা ইরানি শাহেদ ড্রোন ভূপাতিত করার বিষয়ে স্থানীয় বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেয়, যে ড্রোনগুলো রাশিয়া কয়েক বছর ধরে ইউক্রেনকে তটস্থ রাখতে ব্যবহার করে আসছে। এর বিনিময়ে কিয়েভ নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং গোলাবারুদ সরবরাহের প্রতিশ্রুতি পায়।

ইউক্রেনের শিল্প খাতে রুশ আগ্রাসন জোরদার
ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা খাতকে বিপর্যস্ত করতে রাশিয়া কিয়েভ, জাপোরিঝিয়া, দিনিপ্রো, ক্রিভি রিহ ও ওডেসার কৌশলগত কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সাধারণ পেট্রোল পাম্পগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ‘জেটচালিত ড্রোন’ দিয়ে হামলা জোরদার করেছে। ক্রিভি রিহের আর্সেলোরমিতাল ইস্পাত কারখানা ও জাপোরিঝিয়ার জাপোরিজস্তাল সরাসরি হামলার শিকার হয়েছে। গত শুক্রবার রাতেও রুশ হামলায় ক্রিভি রিহ ও জাপোরিঝিয়ায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন।

আগামী শীতে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা
জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ, পানি ও তাপ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ফলে ইউক্রেন ২০২২ সালের যুদ্ধের পর সবচেয়ে ভয়াবহ ও কঠিন শীতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। শীতকালে তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গেলে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ইউক্রেনে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

পুতিন ও জেলেনস্কি বৈঠকের সম্ভাবনা
মস্কো ও কিয়েভে মার্কিন প্রতিনিধিদের বৈঠকের পর কূটনৈতিক স্তরে নতুন বার্তা পাওয়া গেছে। ফ্লোরিডার মিয়ামিতে অনুষ্ঠেয় আসন্ন জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসতে সম্মতি প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুদ্ধ সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য উভয় নেতার সাক্ষাৎ হওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন

×