ঢাকা মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব যক্ষা দিবস আজ

অধিক ঝুঁকি ঢাকায়, কম ময়মনসিংহে

অধিক ঝুঁকি ঢাকায়, কম ময়মনসিংহে
×

প্রতীকী ছবি

রাজবংশী রায়

প্রকাশ: ২৩ মার্চ ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২২ | ০১:৩৪

দেশে যক্ষ্ণা রোগের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। আর সবচেয়ে কম ঝুঁকি ময়মনসিংহে। এরপর পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল বিভাগ ঝুঁকিপূর্ণ। রোগী শনাক্তের বিবেচনায় ঝুঁকির মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ যে বিভাগে রোগী বেশি শনাক্ত হয়েছে, সে বিভাগ তত ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। গত এক বছরে যক্ষ্ণার উপসর্গ আছে এমন ২৮ লাখ মানুষের নমুনা পরীক্ষা করে ৩ লাখ ৭ হাজার ৪৪৪ জনের শরীরে যক্ষ্ণা রোগের সংক্রমণ শনাক্ত করতে পেরেছে জাতীয় যক্ষ্ণা নির্মূল কর্মসূচি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে ৮০ হাজার ১৩৭ জন। এরপর পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম বিভাগে ৬০ হাজার ২২ জন, খুলনা বিভাগে ৩৯ হাজারে ৭৯৬ জন, রংপুর বিভাগে ৩১ হাজার ৭০৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৯ হাজার ৩৩৫ জন, সিলেট বিভাগে ২৫ হাজার ৯১৮ জন, বরিশাল বিভাগে ২১ হাজার ৪৮১ জন এবং সবচেয়ে কম ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯ হাজার ৪৭ জন।

জাতীয় যক্ষ্ণা নির্মূল কর্মসূচির পরিসংখ্যান বলছে, যক্ষ্ণা রোগে আক্রান্ত প্রতি লাখে ২৭ জন মৃত্যুবরণ করছেন। আর প্রতিদিন শনাক্ত হয় ৮৪২ জন। অবশ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যানে বাংলাদেশে প্রতিদিন যক্ষ্ণারোগে আরও বেশি মৃত্যুর তথ্য দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, প্রতি লাখে ১৮৫ জন মারা যান। গ্লোবাল যক্ষ্ণা প্রতিবেদন ২০২০ সালের তথ্যানুযায়ী, যক্ষ্ণা রোগে আক্রান্তের তালিকায় বাংলাদেশ সপ্তম স্থানে রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি বছর বাংলাদেশে ৩ লাখ ৬১ হাজার মানুষ যক্ষ্ণা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতি লাখে ২২১ জন যক্ষ্ণা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আর প্রতি লাখে মারা যান ২৪ জন।
করোনার মধ্যেই আজ বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব যক্ষ্ণা দিবস। এবার দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে 'বিনিয়োগ করি যক্ষ্ণা নির্মূলে, জীবন বাঁচাই সবাই মিলে'। কয়েকজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে যক্ষ্ণা, ম্যালেরিয়া ও এইচআইভি রোগীরা যথাযথ চিকিৎসা পাননি। মহামারির শেষ পর্যায় এসে এখনও প্রভাব থেকে গেছে।

যক্ষ্ণা রোগ চিকিৎসার অন্যতম প্রতিষ্ঠান রাজধানীর শ্যামলীর ২৫০ শয্যা টিবি হাসপাতাল। এ হাসপাতালের উপপরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক ডা. আবু রায়হান বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যক্ষ্ণা রোগীদের একটি বড় অংশের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। এরপর করোনা রোগী ভর্তি কার্যক্রম কিছুদিন বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু মহামারির কারণে রোগী সংখ্যা বাড়তে থাকলে

আবারও করোনা রোগী ভর্তি করা হয়। এতে করে যক্ষ্ণা রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।
যক্ষ্ণা রোগের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইদুল ইসলাম বলেন, যক্ষ্ণা আক্রান্ত রোগীকে দ্রুততম সময়ে শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে করোনার গত দুই বছরে যে ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।
সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে লড়াই চালানো গ্লোবাল ফান্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান করোনা পরিস্থিতির কারণে যক্ষ্ণা, এইচআইভি ও ম্যালেরিয়া রোগ প্রতিরোধের অগ্রগতিতে যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করতে দুই হাজার ৮৫০ কোটি ডলারের প্রয়োজন পড়বে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যক্ষ্ণা নির্মূল কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. খুরশীদ আলম বলেন, করোনার মধ্যেও অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় যক্ষ্ণা নির্মূলে বাংলাদেশ বেশি সফল। আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশে যক্ষ্ণা রোগে মৃত্যুহার শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ চলছে।

কর্মসূচি : দিবসটি উপলক্ষে আজ সকালে রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য ভবন থেকে তিতুমীর কলেজ পর্যন্ত শোভাযাত্রা এবং পরে স্বাস্থ্য ভবন মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×