আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা
অভিযানে পুলিশের গুলিতে আহত ২, গ্রেপ্তার ৪
সংগৃহীত ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১:৫২ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২:৫৮
রাজধানীর আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের গুলিতে দুই আসামি আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে চাপাতি, সামুরাই ও কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—রাজিব হাওলাদার, সাগর ওরফে ছোট বিগার, শাকিব ও রাশেদ। তাদের মধ্যে রাজিবের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুরের বাবু হত্যা মামলায় অভিযোগ রয়েছে। সাগরের বিরুদ্ধে আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় আটটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া শাকিব ও রাশেদের বিরুদ্ধে পাঁচটি করে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এর আগে এ মামলায় আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এ নিয়ে এ মামলায় মোট ১০ জন গ্রেপ্তার হলেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, আদাবর থানায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর দায়ের করা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছিল। সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজারসংলগ্ন মেলার মাঠের পেছনে খালপাড়ের ফাঁকা জায়গায় মামলার কয়েকজন আসামি অবস্থান করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালায় আদাবর থানা-পুলিশ।
অভিযানের বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে সাত থেকে আটজনকে দেখা যায়। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করলে তারা চাপাতি নিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন। এ সময় আত্মরক্ষার্থে কনস্টেবল মোশরেকুল ইসলামের হাতে থাকা শটগান দিয়ে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এতে রাজিব ও সাগর পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয় এবং অন্যরা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে স্টিলের ধারালো চাপাতি, সামুরাই ও কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে।
আহত রাজিব ও সাগরকে চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর আদাবরের শ্যামলী হাউজিং এলাকায় একটি বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় রামদা, চাপাতি ও পিস্তলসহ ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল বাড়িটিতে হামলা চালায়।
বাড়ির মালিক আমিনুর রহমান খানের ভাতিজা মো. রাজু জানান, হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির মূল ফটক খুলে সবাইকে বের হয়ে যেতে বলে। ভেতর থেকে কেউ বের না হওয়ায় তারা বাইরে থেকে ‘টাকা দে। বাড়িতে থাকিস, টাকা দিস না। বের হ।’ বলে হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে চাপাতি ও রামদা দিয়ে গেটে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে।
রাজু বলেন, হামলাকারীরা বাড়ির গেটের সামনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ও জানালার কাচ ভাঙচুর করে। পরে ইটের টুকরা দিয়ে দ্বিতীয় তলার আরও দুটি জানালার কাচও ভেঙে ফেলে।