মর্টারশেল নিক্ষেপ
মিয়ানমারের দূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ
মর্টারশেল
কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২২ | ১১:০০ | আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২২ | ১১:০০
বান্দরবান সীমান্তে মিয়ারমান থেকে দুটি মর্টারশেল এসে পড়ার ঘটনায় দেশটির রাষ্ট্রদূত উ আং কিয়াউকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন সোমবার বিকেলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
মিয়ানমার থেকে মর্টারশেল নিক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, আমরা মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকেছি। আমরা নোট ভারবালের মাধ্যমে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছি, এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না হয়। যে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশ তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে।
সূত্র জানায়, বিষয়টিকে বাংলাদেশ আক্রমণ হিসেবে দেখছে না। দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছে। এ ধরনের ঘটনায় আগেও মিয়ানমারকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। এবারও কঠোর বার্তা দিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত জুন-জুলাই থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী দক্ষিণ-পূর্ব কায়াহ এবং কাইন ও উত্তর-পশ্চিম চীন রাজ্যে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানকার গ্রাম ও আবাসিক এলাকায় প্লেন দিয়ে গোলাবর্ষণ জোরদার করছে দেশটির সেনাবাহিনী। একইসঙ্গে রাখাইনেও আরাকান আর্মির সঙ্গে তীব্র যুদ্ধ চলছে। সেখানে বাকি থাকা রোহিঙ্গাদেরও এ যুদ্ধের মধ্যে টেনে আনা হচ্ছে। সেইসঙ্গে রোহিঙ্গা নয় এবং বুদ্ধ ধর্মাবলম্বীর মানুষসহ অন্যান্য ধর্মের মানুষদেরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ফলে বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে বাংলাদেশকে।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, মিয়ানমার তার পশ্চিমের বিভিন্ন অংশে যেভাবে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, তা সেখানে থাকা মানুষগুলোকে রোহিঙ্গাদের মতো আশপাশের দেশগুলোতে পালাতে আবারও বাধ্য করবে। এখন সেখানে রোহিঙ্গার সংখ্যা খুবই কম। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে মিয়ানমারের অন্য জাতিগোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ আশঙ্কা করছে। এ কারণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কঠোর নজরদারি করে।
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্ত রয়েছে প্রায় ২৭১ কিলোমিটার। এর মধ্যে ৫৪ কিলোমিটার জল সীমান্ত। দুই দেশের স্থল সীমান্তের প্রায় অনেক অংশই ইতোমধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করেছে মিয়ানমার। বাংলাদেশে প্রায় সব রোহিঙ্গা পাঠিয়ে দিয়ে সেই বেড়া মেরামতও করেছে দেশটি।