ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সঙ্কট মোকাবিলায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কৃষি গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

সঙ্কট মোকাবিলায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কৃষি গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী
×

ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক- ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২০ | ১০:৫৩

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের জোগান দেওয়া এ মুহূর্তে বড় চ্যালেঞ্জ। নানা কারণে সৃষ্ট খাদ্য ব্যবস্থার সঙ্কট মোকাবিলায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কৃষি গ্র্যাজুয়েট তৈরি করতে হবে। যুগোপযোগী, আধুনিক ও প্রায়োগিক কারিকুলামের মাধ্যমেই সেটি সম্ভব।

মন্ত্রী শনিবার তার সরকারি বাসভবন থেকে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমনিতেই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনা মহামারি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতেও দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি কলেজ এবং কৃষিবিদগণ কৃষি উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, কৃষিতে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ। উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে পুষ্টি চাহিদা মিটিয়ে বর্তমান প্রজন্মকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। চ্যালেঞ্জিং হলেও সরকারের মূল লক্ষ্য এটিই।

ওয়েবিনারে কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, কৃষির ইতিহাস ও গ্রামীণ ক্ষমতা কাঠামোকে কারিকুলামে নিয়ে আসতে হবে। কৃষির উন্নয়ন করতে হলে এর বিবর্তন সম্পর্কে জানা জরুরি। এর সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কৃষক ও কৃষি গ্র্যাজুয়েটরা কি করে সফলভাবে মোকাবিলা করবে তাও সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

সাবেক শিক্ষাসচিব এন আই খান বলেন, শুধু কারিকুলাম পরিবর্তন করলেই হবে না। শিক্ষকদের জন্য উচ্চতর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে। শিক্ষক নিয়োগের নিয়মে পরিবর্তন আনতে হবে। কারণ, শিক্ষকেরাই কারিকুলাম অনুযায়ী ছাত্রদেরকে পড়ান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, কৃষিকে কিভাবে নিরাপদ ও পরিবেশসম্মতভাবে টেকসই করা যায় তার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। কারিকুলামে প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর বিশেষ করে ইন্টার্নশিপের ওপর অত্যন্ত গুরুত্ব দিতে হবে।

কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ বলেন, কৃষি দ্রুত বাণিজ্যিকায়নের দিকে যাচ্ছে। দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলকে এসব জায়গায় সম্পৃক্ত না করতে পারলে, এগুলো বিদেশি বিশেষজ্ঞদের হাতে চলে যাবে। এ ছাড়া কৃষিপণ্যকে কিভাবে বিভিন্ন পণ্যে রূপান্তর করে ভ্যালু অ্যাড করা যায়, সেটি বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফুল হাসান বলেন, সিলেবাসে প্রতিনিয়তই নতুন বিষয় সংযোজন করা হচ্ছে, তবু কিছুটা দুর্বলতা আছে। সময়ের সাথে সাথে অবশ্যই এটিকে পরিবর্তন করে যুগোপযোগী করতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক অধ্যাপক সাত্তার মণ্ডলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামাল উদ্দিন আহম্মেদসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন

×