জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে জনগণের ‘সহনশীলতা’ চাইলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
ছবি: পিআইডি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:৩৫ | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৬:১৬
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে জনগণের কষ্ট হবে স্বীকার করে এ সময়ে সরকারের প্রতি জনগণের ‘কাইন্ডনেস’ বা সহনশীলতা আশা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো শর্ত নেই।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতার পাশাপাশি দেশে জ্বালানি খাতে সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। ফলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের মাধ্যমে ভর্তুকির চাপ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে গত দুই-তিন দিনে জ্বালানি তেলের দাম ২ থেকে ৩ শতাংশ কমলেও অপরিশোধিত তেলের দাম এখনো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের বেশি। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই উচ্চমূল্য দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও বিশ্ব জ্বালানি পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
জ্বালানি খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দেওয়ার কারণে সরকারের অন্যান্য ব্যয়ও ভারসাম্যের মধ্যে রাখতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জনগণের কষ্ট হচ্ছে, হবে। জনগণের কাছে সহনশীলতা চাই। কারণ, সরকারের পক্ষে কতটা ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব? সরকার সামাজিক নিরাপত্তা (সোশ্যাল সেফটি), শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে অর্থাৎ কল্যাণমূলক (ওয়েলফেয়ার) খাতে ব্যয় করাকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ মনে করে। সবকিছু যদি একসঙ্গে করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে কষ্ট হয়ে যায়। তাই সরকারকে কিছুটা ব্যালেন্স করতে হয়েছে।’
তবে সরকার সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করবে জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবহনে যৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি নিশ্চিত করা এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
গ্যাস সংকটের কারণে বেশি দামে গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এ কারণে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির চাপ দ্রুত বাড়ছে। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অর্থবছরের মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই এর প্রায় অর্ধেক অর্থ দেওয়া হয়েছে। একই হারে ভর্তুকি দিতে থাকলে অর্থবছর শেষে এই ব্যয় সোয়া এক লাখ থেকে দেড় লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
দেশের গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, আগস্ট মাসে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা বর্তমানে কেটে গেছে। সংকটের আগে দেশে যে পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ ছিল, বর্তমানে পরিস্থিতি সেই পর্যায়ে ফিরে এসেছে। একই সঙ্গে গ্যাসের আমদানি নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা সরকার করছে বলেও জানান তিনি।
জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপের মধ্যেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘১০-১১ বছর হলো তাদের বেতন স্কেল পরিমার্জন (রিভাইজড) হয়নি। যে কারণে এটিও সরকারের একটি প্রায়োরিটি।’ তবে একসঙ্গে পুরো বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন না করে সরকার ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকার এ মুহূর্তে কোনো রাজনৈতিক সংকট দেখছে না। বিরোধী দল লংমার্চ করছে, এক দফাও দিয়ে দিচ্ছে। এ সরকার পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় এসেছে এবং থাকবে, বিরোধী দলকে তা মেনে নিয়েই রাজনীতি করা উচিত। আওয়ামী লীগের কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কোনো সংকট তৈরি করা যাবে বলে আমি মনে করি না।’
- বিষয় :
- জাহেদ উর রহমান