টঙ্গীর স্কুলছাত্র ইনজামুল হক হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামি ইব্রাহিম হোসেন সুমন ও সাহেব আলীর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং নাহিদ ইসলাম নাহিদের সাজা কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি এ মামলার পলাতক আসামি মো. হান্নানের সাত বছর কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।

বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি মাহবুব উল ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিলের শুনানি শেষে এ রায় দেন।

আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী একেএম ফজলুল হক খান ফরিদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১৭ অক্টোবর টঙ্গীর আউচপাড়া মোক্তারবাড়ি সড়ক এলাকার সফিউদ্দিন মোল্লার ছেলে উত্তরার সৃষ্টি সেন্ট্রাল স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ইনজামুল হক নিখোঁজ হয়। পরে দুর্বৃত্তরা ইনজামুলের পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ ব্যাপারে ইনজামুলের ভগ্নিপতি মোবারক হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয়দের আসামি করে টঙ্গী থানায় একটি মামলা করেন। এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহজনক কয়েকজনকে আটক করে। পরে আটকদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী ঘটনার ১০ দিন পর পুলিশ ও র‌্যাব ওই এলাকার পরিত্যক্ত একটি বাড়ি থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় ইনজামুলের লাশ উদ্ধার করে। এরপর ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলম চাঁদ দণ্ডপ্রাপ্ত চারজনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট টঙ্গীর চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর বিচারক খালেদা ইয়াসমিন রায় ঘোষণা করেন। রায়ে টঙ্গীর আউচপাড়ার ইউসুফ মিয়ার ছেলে ইব্রাহিম হোসেন সুমন (২৫), একই এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে নাহিদ ইসলাম নাহিদ (২৮) ও মোতালেব হোসেনের ছেলে সাহেব আলীকে (৩০) মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া একই এলাকার আব্দুল আজিজের ছেলে হান্নানকে (২৮) সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।

পরে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল হাইকোর্টে আসে। গতকাল ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট।