গায়ের জোরে কিছু না করা ভালো: মান্না
জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কার এবং সংবিধান বিতর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় মাহমুদুর রহমান মান্না। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:৪৩ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:১৩
বিরোধী দলসহ সবাইকে নিয়ে সংবিধান ও রাষ্ট্রের মৌলিক সংস্কার করার জন্য বিএনপি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, ‘গায়ের জোরে কিছু না করা ভালো। সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। এমন কিছু করবেন না, যাতে আরও সংকটে পড়ে যান। জাতি অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে যায়।’ সংবিধান সংশোধন বা সংস্কারে ব্যর্থ হলে সমস্ত দায়দায়িত্ব বিএনপির ওপর পড়ে যাবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রাষ্ট্র সংস্কার এবং সংবিধান বিতর্ক’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমস্ত জায়গায় অত্যাচারের উৎসব লেগেছে। সারাদেশে খুনোখুনি, ধর্ষণ, হামলা, গ্রেপ্তার ও মানুষের নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা ঘটছে। অথচ বড় একটি গণঅভ্যুত্থানের পর এমন পরিস্থিতি হওয়ার কথা ছিল না।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, গতকাল রাতে সালমান মুক্তাদিরের একটি ভিডিও দেখছিলেন তিনি। সেখানে মানুষের স্বপ্ন কীভাবে গুঁড়িয়ে যায়, তার একটি জলজ্যান্ত চিত্র দেখা গেছে। সালমান মুক্তাদির বলছিলেন, তার নিজের শক্তি আছে এবং আবারও স্টুডিওটি দাঁড় করানোর সক্ষমতা আছে। কিন্তু সেখানে যারা চাকরি করেন, তাদের কী হবে? তার স্টুডিওটি দেশের অন্যতম আধুনিক স্টুডিও ছিল, সেটি এভাবে ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি একটি বাড়িও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেখানে একজন মা বলেছেন, তিনি ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। এত বড় অভ্যুত্থানের পর এ ধরনের পরিস্থিতি হওয়ার কথা ছিল কি না-এ প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার প্রশ্ন, সংস্কার কোথায়? একজন শিশু-কিশোরের জীবনের নিরাপত্তাও নেই।
নিজের দলের এক নেতার গ্রেপ্তার প্রসঙ্গ তুলে মান্না বলেন, তার এলাকা শিবগঞ্জ উপজেলা নাগরিক ঐক্যের সেক্রেটারিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি পুলিশকে ফোন করে জানতে পারেন, পুলিশের কাছে কোনো মামলা হয়নি; আদালতে মামলা হয়েছে। এরপর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতও জামিন দেয়নি। আবার জজকোর্টও তিন দিন ধরে বসেনি।
তিনি বলেন, ‘মানে তারা নিম্নআদালতও দখল করে ফেলেছে। কারা? ওই যে সালমান মুক্তাদির বলেছে না, কারা-তারাই। ওই একই লোক।’ তিনি আরও বলেন, তার সাধারণ সম্পাদক গ্রেপ্তার হয়েছেন, কিন্তু মামলার কপি দেওয়া হবে না এবং জজকোর্ট বসবে না-এটা কেমন কথা?
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, দেশজুড়ে কীভাবে খুনোখুনি ও ধর্ষণ চলছে, তা সবাই জানেন। এর মধ্যে গড়পড়তা ২০ টাকা করে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সারা পৃথিবীতে তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে তেলের দাম বেড়েছে। নির্বাচনের পর খাল কাটার হুলুস্থুল হয়েছিল, এখন তা আর দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, এসব কথা বললেই কেউ কেউ ফোন করে বলবেন, ‘ভাই, আপনি বিএনপির বিরুদ্ধে চলে গেলেন?’ তিনি বলেন, ‘আমি তো বিরুদ্ধে যাইনি। সত্য কথা বলছি।’ দেড় বছরের মাথায় বিএনপি ব্যর্থ হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি চান বিএনপি সফল হোক।
দ্রব্যমূল্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে মান্না বলেন, দ্রব্যমূল্য কমানো যাচ্ছে না। সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এত দোষ দেওয়া হলেও তাদের সময় কিন্তু তেলের দাম বাড়েনি।
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্র এমন হতে হবে, যাতে তা গণতান্ত্রিক হয় এবং সংবিধান বাস্তবায়ন হয়। ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের কথা ছিল। কিন্তু ক্ষমতা কি বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে? তা না হলে পুনরায় স্বৈরাচার হয়ে ওঠা স্বাভাবিক।
গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে মান্না বলেন, গণভোটের কথা অনুযায়ী সংবিধান পরিষদ গঠন করার কথা ছিল। সংবিধানের তত্ত্বাবধায়ক কে-সুপ্রিম কোর্ট। এখন সংবিধান সুপ্রিম কোর্ট চাইলেই বাতিল করে দিতে পারে। এই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন নাকি বলছেন, আরেকটি গণভোট লাগতে পারে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ্ কায়সার, প্রেসিডিয়াম সদস্য জিন্নুর আহমেদ চৌধুরী দীপু, দেলোয়ার হোসেন রাজা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিব আনোয়ার, নাগরিক ঐক্যের সদস্যসচিব ফেরদৌসী আক্তার প্রমুখ। সঞ্চালনা করেন নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেন।
- বিষয় :
- বিএনপি
- বিরোধী দল
- মাহমুদুর রহমান মান্না