ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কভিড চিকিৎসায় আশা জাগিয়েছে আইভারমেকটিন: আইসিডিডিআর, বি

কভিড চিকিৎসায় আশা জাগিয়েছে আইভারমেকটিন: আইসিডিডিআর, বি
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২০ | ১০:৩৮

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় বাংলাদেশে অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধ আইভারমেকটিন প্রয়োগ করে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর, বি)। আইভারমেকটিনের পাঁচ দিনের ডোজে ভাইরাসের প্রকোপ হ্রাস পেয়েছে।

মৃদু কভিড সংক্রমণযুক্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের আইভারমেকটিন প্রয়োগের পর আরটিপিসিআর টেস্টে তারা কভিড-১৯ নেগেটিভ হয়েছেন বলে সোমবার রাজধানীর গুলশানে আয়োজিত এক সেমিনারে জানানো হয়। তবে আইসিডিডিআর, বি বলছে, এটা ছোট আকারের গবেষণার ফল। বিস্তৃত পরিসরে ব্যবহার নিয়ে ব্যাপক গবেষণা প্রয়োজন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক এবং ট্রিটমেন্ট প্রটোকল কমিটির সদস্য সচিব ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, ‘এ মুহূর্তে কভিড-১৯ আক্রান্তদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যাবে না এটা। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য ন্যাশনাল গাইডলাইনে যুক্ত করা যেতে পারে।’

১৭ জুন থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মুগদা জেনারেল হাসপাতালে এই গবেষণা চালায় আইসিডিডিআর, বি। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইসিডিডিআরবি, র জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ডা. ওয়াসিফ আহমেদ খান।

তিনি জানান, আইসিডিডিআর, বি গত ১৭ জুন থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও মুগদা জেনারেল হাসপাতালে এই গবেষণা চালায়। গবেষণার আওতায় ৭২ রোগীর মধ্যে ২৪ জনকে পাঁচ দিন দৈনিক ১২ গ্রাম করে শুধু মুখে খাওয়ার আইভারমেকটিন, ২৪ জনকে এক ডোজের আইভারমেকটিনের সঙ্গে ডপিসাইক্লিন (২০০ মিলিগ্রাম প্রথম দিন এবং পরে ১০০ মিলিগ্রাম দিনে দু'বার চার দিন) ও ২৪ জনকে প্লাসিবো দেওয়া হয়েছে।

গবেষণার ফলাফল জানাতে গিয়ে ডা. ওয়াসিফ আহমেদ খান জানান, যাদের শুধু পাঁচ দিনব্যাপী আইভারমেকটিন দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে ৭৭ শতাংশ ১৪ দিনে কভিড-১৯ মুক্ত হয়েছেন। আইভারমেকটিন এবং ডপিসাইক্লিন প্রয়োগ করা ৬১ শতাংশ এবং প্লাসিবো পাওয়া ৩০ শতাংশ রোগী এ সময়ে করোনাভাইরাসমুক্ত হয়েছেন।

গবেষণার ফলাফল উল্লেখ করে আইসিডিডিআর, বি জানিয়েছে, ১৪ দিনের মধ্যে শুধু আইভারমেকটিন নেওয়া ৭৭ শতাংশ কভিড-১৯ জীবাণুমুক্ত হয়েছেন, অর্থাৎ আরটিপিসিআর টেস্টে তারা কভিড-১৯ মুক্ত প্রমাণিত হয়েছেন।

আইভারমেকটিন এবং ডপিসাইক্লিন প্রয়োগ করা ৬১ শতাংশ এবং প্লাসিবো পাওয়া ৩০ শতাংশ রোগী করোনাভাইরাসমুক্ত হয়েছেন। গত ২ ডিসেম্বর ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব ইনফেকশাস ডিজিজেস, আইজেআইডিতে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইসিডিডিআর, বি।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বেপিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান এমপি। অনুষ্ঠানে আইসিডিডিআরবি, র ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক ও নিউট্রিশন অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল সার্ভিসেস বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ড. তাহমিদ আহমেদ, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. জামিল আহমেদ, বাংলাদেশ মেডিকেলের ডা. তারেক আহমেদ, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক আইয়ুব খান, বেপিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাব্বুর রেজা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×