দরিদ্রের তালিকা করতে লাগামহীন ব্যয়
×
সবুজ ইউনুস ও ফসিহ উদ্দীন মাহতাব
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২১ | ১২:০০ | আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২১ | ২১:১১
দরিদ্রের তালিকা করার উদ্দেশ্যে 'ডেভেলপমেন্ট অব বাংলাদেশ পভার্টি ডাটাবেজ' নামে একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন করা হয় ২০১৩ সালে। পরে প্রকল্পের নতুন নামকরণ হয় এনএইচডি-'ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডাটা'। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ৪ গুণ। সময় গেছে সাড়ে সাত বছর। তার পরও দেশে দরিদ্রের তালিকা করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।
করোনা পরিস্থিতিতে গত বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রী ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তার ঘোষণা দেন। প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে দরিদ্রের তালিকা তৈরি করা হয়। এ তালিকা এতটাই ত্রুটিপূর্ণ ও বিতর্কিত ছিল, যাচাইয়ে তালিকার ১৫ লাখ নামই বাদ পড়ে। ফলে করোনার সময় প্রকৃত দুস্থ ও অভাবী ১৫ লাখ দরিদ্র পরিবার সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়। টাকা ফেরত যাওয়া এবং ত্রুটিপূর্ণ ও বিতর্কিত তালিকার জন্য সরকারের বদনাম হয়। ইতোমধ্যে আরও সাত মাস চলে গেছে। কিন্তু এ প্রকল্প আজও আলোর মুখ দেখেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিবিএস কর্তৃপক্ষ ব্যর্থতার দায়-দায়িত্ব অন্য সংস্থার ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছে। তবে সমকালকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, খুব শিগগিরই সমস্যা কেটে যাবে এবং দরিদ্রের তালিকা হবে। বিবিএসের মানদণ্ড অনুযায়ী দৈনিক ২২শ কিলো ক্যালোরির কম খাদ্য যারা গ্রহণ করেন তারাই দরিদ্র হিসেবে পরিগণিত হবেন। আর ১৮শ কিলো ক্যালোরির কম খাদ্যগ্রহণকারীরা হলেন অতি দরিদ্র।
সূত্রমতে, করোনার শুরুতে এনএইচডি প্রকল্প সম্পর্কে বিবিএস ছাড়াও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, পরিকল্পনা বিভাগ এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক অবহিত। বিশ্নেষকরা প্রশ্ন তুলছেন- এনএইচডি প্রকল্প কেন সময়মতো বাস্তবায়ন হলো না। কেন কয়েক গুণ ব্যয় বাড়ল। এসব বিষয়ে বর্তমান ও সাবেক প্রকল্প পরিচালক, বিবিএসের মহাপরিচালক কিংবা পরিসংখ্যান ও তথ্য বিভাগের সচিবকে জবাবদিহি করা উচিত। এনএইচডি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যে বলা হয়, প্রকৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অর্থ যথাযথভাবে
পৌঁছানোর জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি খানা বা পরিবারের ডাটাবেজ এবং প্রতিটি খানার ইউনিক নম্বরসহ গরিবের তালিকা করা হবে, যাতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আর্থিক সহায়তা প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে পৌঁছে।
প্রশ্নবিদ্ধ ব্যয় বৃদ্ধি :সূত্র জানায়, এনএইচডি প্রকল্পের আগেও বিবিএস এ রকম অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। ২০০৮ সালে কৃষিশুমারি করে বিবিএস। এতে ব্যয় হয় ৩৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আদমশুমারি ২০১১ করতে ব্যয় হয় ২৩৭ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক শুমারি ২০১৩তে ব্যয় হয় ১৩৭ কোটি টাকা। কৃষিশুমারি ২০১৮তে এ পর্যন্ত ২৭০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকাসহ কৃষিশুমারির ব্যয় দাঁড়াবে ২৮৫ কোটি টাকা। এই ৪ প্রকল্পের কাজের পরিধি, পরিমাণ, কর্মকৌশল এবং এনএইচডির কাজের পরিধি, পরিমাণ ও কৌশল একই ধরনের। এই ৪টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ৭০০ কোটি টাকা। কিন্তু শুধু এনএইচডি প্রকল্পেই ব্যয় বেড়ে বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে ৭২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এই ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে বিশ্নেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন।
সূত্রমতে, আগের ৪ প্রকল্পের কর্মপরিধি ও কর্মকাণ্ডের পরিমাণ এবং ব্যয় বিবেচনায় এনএইচডি প্রকল্পের বাজেট সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা হওয়াই ছিল বাঞ্ছনীয়। অথচ একই ধরনের প্রকল্পের ব্যয় বিবেচনা ও যৌক্তিকতা যাচাই ছাড়াই ২০১৩ সালে ৩২৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করে অনুমোদন করা হয়। ২ বছর বাস্তবায়নকাল যথেষ্ট হলেও সাড়ে ৪ বছর সময় দেওয়া হয়। পরে টিএপিপিটি ৩ দফা সংশোধন করে ব্যয় আরও ৩৮৯ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৭২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। সাড়ে ৪ বছরের মেয়াদকে ৩ দফায় বাড়িয়ে ৮ বছর করা হয়েছে। কিন্তু সাড়ে ৭ বছরেও দরিদ্রের তালিকা করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্প এখনও বাস্তবায়নাধীন।
সূত্র জানায়, যে কোনো শুমারি ও জরিপের মূল কাজ প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ এবং সংগৃহীত তথ্য প্রক্রিয়া করে ফলাফল প্রকাশ। ১৯৭৪ সাল থেকে বিবিএস পরিচালিত ১২টি শুমারির মধ্যে চলমান কৃষিশুমারি ২০১৮ বাদে ১১টি শুমারিসহ সব জরিপের প্রশ্নপত্রের তথ্যই কম্পিউটারে ধারণ ও প্রক্রিয়াকরণ কাজ বিবিএস নিজেই করেছে। এতে সরঞ্জাম কেনার বাইরে তেমন কোনো ব্যয় হয়নি। অথচ বিবিএসের নিজস্ব অত্যাধুনিক ছাপাখানা ও কম্পিউটার বিভাগকে ব্যবহার না করে এনএইচডি প্রকল্পে প্রথমবারের মতো প্রশ্নপত্র মুদ্রণসহ তথ্য প্রক্রিয়াকরণ কাজ আউটসোর্সিংয়ে জেরক্স ইন্ডিয়া, টপ ইমেজ জার্মানি ও দেশীয় আইওই লিমিটেডকে ১১২ কোটি টাকায় নিয়োগ দেওয়া হয়। এনএইচডি প্রকল্পের টিএপিপিতে প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। কিন্তু ২০১৭ সালে টিএপিপি সংশোধন করে প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতে ব্যয় ৪৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বৃদ্ধি করে ১১৮ কোটি টাকা করা হয়। এ ছাড়াও তথ্য ধারণ ও প্রক্রিয়াকরণের একই কাজে আউটসোর্সিংয়ে ৫৬০ জন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করায় এ বাবদ ব্যয় দাঁড়ায় ৫৬ কোটি টাকা। যদিও 'ইন্টেলিজেন্ট ক্যারেক্টার রিডার' (আইসিআর) যন্ত্রে তথ্য ধারণ ও প্রক্রিয়া করা হলে ডাটা এন্ট্রির আর কোনো প্রয়োজনই হতো না। তথ্য প্রক্রিয়াকরণ বাবদ মোট ব্যয় ধরা হয় ১৭৪ কোটি টাকা। তার পরও সাড়ে ৭ বছরে প্রকল্প শেষ করা যায়নি।
সূত্রমতে, ৫৫০ জন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের মাধ্যমে কম্পিউটারে প্রশ্নপত্রের তথ্য ধারণ করে প্রক্রিয়া করা হলেও ৬ মাসের বেশি সময়ের প্রয়োজন হতো না। আর বাজারদরে ডাটা এন্ট্রি করা হলে সর্বোচ্চ ২ টাকা করে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৫৩ হাজার ২৩৫টি প্রশ্নপত্রের তথ্য ধারণে মোট ৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, আর মুদ্রণ বাবদ ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকাসহ মোট ৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয় হতো। এনএইচডির প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণে কোনোক্রমেই ১০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হতো না। অপরদিকে আউটসোর্সিংয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ১২৫ কোটি টাকা প্রদানের পরও কোনো প্রয়োজন না থাকলেও ৫ বছরের জন্য ৫৫০ জন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করে ৫৬ কোটি টাকা বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও ডাটা এন্ট্রি/তথ্য প্রক্রিয়াকরণ বাবদ সর্বমোট ১০ কোটি টাকা প্রয়োজন থাকলেও মোট ব্যয় ১৫৮ কোটি টাকা।
সূত্রমতে, একই সময় বিবিএস পরিচালিত কৃষিশুমারিসহ এ পর্যন্ত পরিচালিত ১২টি শুমারির অভিজ্ঞতায় এনএইচডি প্রকল্পের প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণে প্রকৃতভাবে ব্যয় হওয়ার কথা ১৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রতিটি প্রশ্নপত্র মুদ্রণে ব্যয় ২ টাকারও বেশি ধরে প্রশ্নপত্র মুদ্রণে ৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। কৃষিশুমারির প্রশ্নপত্রের ব্যয় অবশ্য ৮১ পয়সা। আদমশুমারি ২০১১-এর ব্যয়ের আলোকে এনএইচডি প্রকল্পের তথ্য ধারণ/প্রক্রিয়াকরণের প্রকৃত ব্যয় ৪ কোটি ৬ লাখ টাকা।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাড়ে ৪ কোটি প্রশ্নপত্র মুদ্রণ করা হয়েছে তার সঙ্গে সাড়ে ৩ কোটি প্রশ্নপত্র প্রক্রিয়াকরণের চুক্তি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে বাড়তি ২৬ লাখ ৫৩ হাজার ২৩৫টি প্রশ্নপত্র প্রক্রিয়াকরণে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৩৪ টাকা, মন্দমানের ৯৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬৩টি প্রশ্নপত্র প্রক্রিয়াকরণে (রি-ওয়ার্ক) ৮ কোটি ৮৪ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৩ টাকা এবং কাজ শুরুতে বিলম্বের জন্য ৪ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৪৭ টাকাসহ মোট ১৩ কোটি ৩ লাখ ৪ হাজার ৭৩৪ টাকা বেশি দেওয়া হয়েছে। ফলে মূল চুক্তিমূল্য ১২২ কোটি ৪৪ লাখ ২৫ হাজার ৬২২ টাকার স্থলে দেওয়া হয়েছে ১২৫ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজার ৩৫৬ টাকা। ২০১৯-এর জুনে অনুষ্ঠিত কৃষিশুমারির প্রশ্নপত্র প্রক্রিয়াকরণ কাজ একই প্রতিষ্ঠান মাত্র ২৬ কোটি টাকায় করেছে। যদিও দরপত্রে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান এর চেয়ে আরও কম দরে কাজ করার প্রস্তাব দিলেও তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত ১৩ কোটি টাকার অনুমোদন নিতে গত বছর ৪ মার্চ ও ভূতাপেক্ষ বা ঘটনা-উত্তর অনুমোদনের জন্য ১৮ নভেম্বর বিবিএস ২ দফা চেষ্টা করে। কিন্তু সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দেয়নি। তবে তৃতীয় দফায় গত ১৩ জানুয়ারি ক্রয় কমিটির সভায় অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
শুমারি ও জরিপ পরিচালনায় দেশে বিবিএসের চেয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। তার পরও এনএইচডির তথ্য সংগ্রহে গণনাকারীদের প্রথমবারের মতো প্রশিক্ষণ দিতে আউটসোর্সিংয়ে অনভিজ্ঞ একটি এনজিওকে নিয়োগ দেওয়া হয়। গণনাকারীদের প্রশিক্ষণ দিতে ২২ কোটি টাকায় চুক্তি হলেও তাদের প্রশিক্ষণ বাবদ ৩১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।
জানতে চাইলে এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর বেশ কয়েকটি প্রকল্পের মধ্যে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দ্রুত সম্পন্ন করতে পারছে না ব্যুরো। কারণ ডাটাবেজ প্রস্তুতকরণের কাজ করছে দুর্যোগ ব্যবস্থা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এ প্রকল্পের কাজ করছে একটি আমেরিকান কোম্পানি। ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং ওই কোম্পানির মধ্যে চুক্তি হয়েছে। সুতরাং কোম্পানিকে তাগাদা বা জবাবদিহির বিষয়টি পরিসংখ্যান ব্যুরোর এখতিয়ারে নেই। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। যে কারণে আর্থিক ব্যয় বেড়ে গেছে। এর পরও সারাদেশে দরিদ্রের তালিকা (ডাটাবেজ) প্রস্তুত করতে পরিসংখ্যান ব্যুরো সব সময় সচেষ্ট।
তিনি আরও বলেন, উদ্ভূত ঝামেলা মিটিয়ে দ্রুত ডাটাবেজ সম্পন্ন করার জন্য তাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ কিছুদিন আগেও পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এর আগেও দুই সচিব পর্যায়ে একাধিকবার সভা হয়েছে। খুব শিগগির সমস্যা মিটিয়ে তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী সমকালকে বলেন, ডাটাবেজের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বিশেষ সফটওয়্যারের জন্য দরিদ্রের তালিকা প্রস্তুত করা এখনও সম্ভব হয়নি। মূলত ডাটাবেজ প্রণয়নের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি কোম্পানির চুক্তি হয়েছে। ওই চুক্তিতে যে ফর্মুলা দেওয়া হয়েছে, তাতে কিছু ঘাটতি ছিল। তালিকা করতে হবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে। তাদের বিভাগ থেকে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকছে। সেসব ঘাটতি দূর করে নতুন কিছু সংযুক্ত করতে হবে। তবে শুরুতেই সমন্বয়হীনতা না থাকলে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হতো না।
সচিব আরও বলেন, প্রস্তুতকৃত তালিকা থেকে দরিদ্রের তালিকা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে করা হচ্ছে। শুধু কক্সবাজার জেলায় এটি করা হচ্ছে। বিশেষ সফটওয়্যার সংযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ম্যানুয়াল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে তালিকা প্রস্তুত করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। খুব শিগগির এ সমস্যা কেটে যাবে এবং তালিকা হবে।
করোনা পরিস্থিতিতে গত বছরের জুনে প্রধানমন্ত্রী ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তার ঘোষণা দেন। প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে দরিদ্রের তালিকা তৈরি করা হয়। এ তালিকা এতটাই ত্রুটিপূর্ণ ও বিতর্কিত ছিল, যাচাইয়ে তালিকার ১৫ লাখ নামই বাদ পড়ে। ফলে করোনার সময় প্রকৃত দুস্থ ও অভাবী ১৫ লাখ দরিদ্র পরিবার সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়। টাকা ফেরত যাওয়া এবং ত্রুটিপূর্ণ ও বিতর্কিত তালিকার জন্য সরকারের বদনাম হয়। ইতোমধ্যে আরও সাত মাস চলে গেছে। কিন্তু এ প্রকল্প আজও আলোর মুখ দেখেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিবিএস কর্তৃপক্ষ ব্যর্থতার দায়-দায়িত্ব অন্য সংস্থার ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছে। তবে সমকালকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, খুব শিগগিরই সমস্যা কেটে যাবে এবং দরিদ্রের তালিকা হবে। বিবিএসের মানদণ্ড অনুযায়ী দৈনিক ২২শ কিলো ক্যালোরির কম খাদ্য যারা গ্রহণ করেন তারাই দরিদ্র হিসেবে পরিগণিত হবেন। আর ১৮শ কিলো ক্যালোরির কম খাদ্যগ্রহণকারীরা হলেন অতি দরিদ্র।
সূত্রমতে, করোনার শুরুতে এনএইচডি প্রকল্প সম্পর্কে বিবিএস ছাড়াও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, পরিকল্পনা বিভাগ এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক অবহিত। বিশ্নেষকরা প্রশ্ন তুলছেন- এনএইচডি প্রকল্প কেন সময়মতো বাস্তবায়ন হলো না। কেন কয়েক গুণ ব্যয় বাড়ল। এসব বিষয়ে বর্তমান ও সাবেক প্রকল্প পরিচালক, বিবিএসের মহাপরিচালক কিংবা পরিসংখ্যান ও তথ্য বিভাগের সচিবকে জবাবদিহি করা উচিত। এনএইচডি প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যে বলা হয়, প্রকৃত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অর্থ যথাযথভাবে
পৌঁছানোর জন্য বাংলাদেশের প্রতিটি খানা বা পরিবারের ডাটাবেজ এবং প্রতিটি খানার ইউনিক নম্বরসহ গরিবের তালিকা করা হবে, যাতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আর্থিক সহায়তা প্রকৃত দরিদ্রদের কাছে পৌঁছে।
প্রশ্নবিদ্ধ ব্যয় বৃদ্ধি :সূত্র জানায়, এনএইচডি প্রকল্পের আগেও বিবিএস এ রকম অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। ২০০৮ সালে কৃষিশুমারি করে বিবিএস। এতে ব্যয় হয় ৩৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আদমশুমারি ২০১১ করতে ব্যয় হয় ২৩৭ কোটি টাকা। অর্থনৈতিক শুমারি ২০১৩তে ব্যয় হয় ১৩৭ কোটি টাকা। কৃষিশুমারি ২০১৮তে এ পর্যন্ত ২৭০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ ১৫ কোটি টাকাসহ কৃষিশুমারির ব্যয় দাঁড়াবে ২৮৫ কোটি টাকা। এই ৪ প্রকল্পের কাজের পরিধি, পরিমাণ, কর্মকৌশল এবং এনএইচডির কাজের পরিধি, পরিমাণ ও কৌশল একই ধরনের। এই ৪টি প্রকল্পের মোট ব্যয় ৭০০ কোটি টাকা। কিন্তু শুধু এনএইচডি প্রকল্পেই ব্যয় বেড়ে বর্তমানে এসে দাঁড়িয়েছে ৭২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এই ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে বিশ্নেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন।
সূত্রমতে, আগের ৪ প্রকল্পের কর্মপরিধি ও কর্মকাণ্ডের পরিমাণ এবং ব্যয় বিবেচনায় এনএইচডি প্রকল্পের বাজেট সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা হওয়াই ছিল বাঞ্ছনীয়। অথচ একই ধরনের প্রকল্পের ব্যয় বিবেচনা ও যৌক্তিকতা যাচাই ছাড়াই ২০১৩ সালে ৩২৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করে অনুমোদন করা হয়। ২ বছর বাস্তবায়নকাল যথেষ্ট হলেও সাড়ে ৪ বছর সময় দেওয়া হয়। পরে টিএপিপিটি ৩ দফা সংশোধন করে ব্যয় আরও ৩৮৯ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৭২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়। সাড়ে ৪ বছরের মেয়াদকে ৩ দফায় বাড়িয়ে ৮ বছর করা হয়েছে। কিন্তু সাড়ে ৭ বছরেও দরিদ্রের তালিকা করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্প এখনও বাস্তবায়নাধীন।
সূত্র জানায়, যে কোনো শুমারি ও জরিপের মূল কাজ প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ এবং সংগৃহীত তথ্য প্রক্রিয়া করে ফলাফল প্রকাশ। ১৯৭৪ সাল থেকে বিবিএস পরিচালিত ১২টি শুমারির মধ্যে চলমান কৃষিশুমারি ২০১৮ বাদে ১১টি শুমারিসহ সব জরিপের প্রশ্নপত্রের তথ্যই কম্পিউটারে ধারণ ও প্রক্রিয়াকরণ কাজ বিবিএস নিজেই করেছে। এতে সরঞ্জাম কেনার বাইরে তেমন কোনো ব্যয় হয়নি। অথচ বিবিএসের নিজস্ব অত্যাধুনিক ছাপাখানা ও কম্পিউটার বিভাগকে ব্যবহার না করে এনএইচডি প্রকল্পে প্রথমবারের মতো প্রশ্নপত্র মুদ্রণসহ তথ্য প্রক্রিয়াকরণ কাজ আউটসোর্সিংয়ে জেরক্স ইন্ডিয়া, টপ ইমেজ জার্মানি ও দেশীয় আইওই লিমিটেডকে ১১২ কোটি টাকায় নিয়োগ দেওয়া হয়। এনএইচডি প্রকল্পের টিএপিপিতে প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। কিন্তু ২০১৭ সালে টিএপিপি সংশোধন করে প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতে ব্যয় ৪৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বৃদ্ধি করে ১১৮ কোটি টাকা করা হয়। এ ছাড়াও তথ্য ধারণ ও প্রক্রিয়াকরণের একই কাজে আউটসোর্সিংয়ে ৫৬০ জন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করায় এ বাবদ ব্যয় দাঁড়ায় ৫৬ কোটি টাকা। যদিও 'ইন্টেলিজেন্ট ক্যারেক্টার রিডার' (আইসিআর) যন্ত্রে তথ্য ধারণ ও প্রক্রিয়া করা হলে ডাটা এন্ট্রির আর কোনো প্রয়োজনই হতো না। তথ্য প্রক্রিয়াকরণ বাবদ মোট ব্যয় ধরা হয় ১৭৪ কোটি টাকা। তার পরও সাড়ে ৭ বছরে প্রকল্প শেষ করা যায়নি।
সূত্রমতে, ৫৫০ জন ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের মাধ্যমে কম্পিউটারে প্রশ্নপত্রের তথ্য ধারণ করে প্রক্রিয়া করা হলেও ৬ মাসের বেশি সময়ের প্রয়োজন হতো না। আর বাজারদরে ডাটা এন্ট্রি করা হলে সর্বোচ্চ ২ টাকা করে ৩ কোটি ২৬ লাখ ৫৩ হাজার ২৩৫টি প্রশ্নপত্রের তথ্য ধারণে মোট ৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, আর মুদ্রণ বাবদ ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকাসহ মোট ৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয় হতো। এনএইচডির প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণে কোনোক্রমেই ১০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় হতো না। অপরদিকে আউটসোর্সিংয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ১২৫ কোটি টাকা প্রদানের পরও কোনো প্রয়োজন না থাকলেও ৫ বছরের জন্য ৫৫০ জন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ করে ৫৬ কোটি টাকা বেতন-ভাতা দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও ডাটা এন্ট্রি/তথ্য প্রক্রিয়াকরণ বাবদ সর্বমোট ১০ কোটি টাকা প্রয়োজন থাকলেও মোট ব্যয় ১৫৮ কোটি টাকা।
সূত্রমতে, একই সময় বিবিএস পরিচালিত কৃষিশুমারিসহ এ পর্যন্ত পরিচালিত ১২টি শুমারির অভিজ্ঞতায় এনএইচডি প্রকল্পের প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও তথ্য প্রক্রিয়াকরণে প্রকৃতভাবে ব্যয় হওয়ার কথা ১৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্রতিটি প্রশ্নপত্র মুদ্রণে ব্যয় ২ টাকারও বেশি ধরে প্রশ্নপত্র মুদ্রণে ৯ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। কৃষিশুমারির প্রশ্নপত্রের ব্যয় অবশ্য ৮১ পয়সা। আদমশুমারি ২০১১-এর ব্যয়ের আলোকে এনএইচডি প্রকল্পের তথ্য ধারণ/প্রক্রিয়াকরণের প্রকৃত ব্যয় ৪ কোটি ৬ লাখ টাকা।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, যে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সাড়ে ৪ কোটি প্রশ্নপত্র মুদ্রণ করা হয়েছে তার সঙ্গে সাড়ে ৩ কোটি প্রশ্নপত্র প্রক্রিয়াকরণের চুক্তি করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে বাড়তি ২৬ লাখ ৫৩ হাজার ২৩৫টি প্রশ্নপত্র প্রক্রিয়াকরণে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৩৪ টাকা, মন্দমানের ৯৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬৩টি প্রশ্নপত্র প্রক্রিয়াকরণে (রি-ওয়ার্ক) ৮ কোটি ৮৪ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৩ টাকা এবং কাজ শুরুতে বিলম্বের জন্য ৪ কোটি ২৩ লাখ ৩০ হাজার ৪৭ টাকাসহ মোট ১৩ কোটি ৩ লাখ ৪ হাজার ৭৩৪ টাকা বেশি দেওয়া হয়েছে। ফলে মূল চুক্তিমূল্য ১২২ কোটি ৪৪ লাখ ২৫ হাজার ৬২২ টাকার স্থলে দেওয়া হয়েছে ১২৫ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজার ৩৫৬ টাকা। ২০১৯-এর জুনে অনুষ্ঠিত কৃষিশুমারির প্রশ্নপত্র প্রক্রিয়াকরণ কাজ একই প্রতিষ্ঠান মাত্র ২৬ কোটি টাকায় করেছে। যদিও দরপত্রে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান এর চেয়ে আরও কম দরে কাজ করার প্রস্তাব দিলেও তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত ১৩ কোটি টাকার অনুমোদন নিতে গত বছর ৪ মার্চ ও ভূতাপেক্ষ বা ঘটনা-উত্তর অনুমোদনের জন্য ১৮ নভেম্বর বিবিএস ২ দফা চেষ্টা করে। কিন্তু সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দেয়নি। তবে তৃতীয় দফায় গত ১৩ জানুয়ারি ক্রয় কমিটির সভায় অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।
শুমারি ও জরিপ পরিচালনায় দেশে বিবিএসের চেয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। তার পরও এনএইচডির তথ্য সংগ্রহে গণনাকারীদের প্রথমবারের মতো প্রশিক্ষণ দিতে আউটসোর্সিংয়ে অনভিজ্ঞ একটি এনজিওকে নিয়োগ দেওয়া হয়। গণনাকারীদের প্রশিক্ষণ দিতে ২২ কোটি টাকায় চুক্তি হলেও তাদের প্রশিক্ষণ বাবদ ৩১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।
জানতে চাইলে এ বিষয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর বেশ কয়েকটি প্রকল্পের মধ্যে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও দ্রুত সম্পন্ন করতে পারছে না ব্যুরো। কারণ ডাটাবেজ প্রস্তুতকরণের কাজ করছে দুর্যোগ ব্যবস্থা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এ প্রকল্পের কাজ করছে একটি আমেরিকান কোম্পানি। ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং ওই কোম্পানির মধ্যে চুক্তি হয়েছে। সুতরাং কোম্পানিকে তাগাদা বা জবাবদিহির বিষয়টি পরিসংখ্যান ব্যুরোর এখতিয়ারে নেই। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। যে কারণে আর্থিক ব্যয় বেড়ে গেছে। এর পরও সারাদেশে দরিদ্রের তালিকা (ডাটাবেজ) প্রস্তুত করতে পরিসংখ্যান ব্যুরো সব সময় সচেষ্ট।
তিনি আরও বলেন, উদ্ভূত ঝামেলা মিটিয়ে দ্রুত ডাটাবেজ সম্পন্ন করার জন্য তাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ কিছুদিন আগেও পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এর আগেও দুই সচিব পর্যায়ে একাধিকবার সভা হয়েছে। খুব শিগগির সমস্যা মিটিয়ে তালিকা প্রস্তুত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী সমকালকে বলেন, ডাটাবেজের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বিশেষ সফটওয়্যারের জন্য দরিদ্রের তালিকা প্রস্তুত করা এখনও সম্ভব হয়নি। মূলত ডাটাবেজ প্রণয়নের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একটি কোম্পানির চুক্তি হয়েছে। ওই চুক্তিতে যে ফর্মুলা দেওয়া হয়েছে, তাতে কিছু ঘাটতি ছিল। তালিকা করতে হবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে। তাদের বিভাগ থেকে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকছে। সেসব ঘাটতি দূর করে নতুন কিছু সংযুক্ত করতে হবে। তবে শুরুতেই সমন্বয়হীনতা না থাকলে অন্যের ওপর নির্ভর করতে হতো না।
সচিব আরও বলেন, প্রস্তুতকৃত তালিকা থেকে দরিদ্রের তালিকা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে করা হচ্ছে। শুধু কক্সবাজার জেলায় এটি করা হচ্ছে। বিশেষ সফটওয়্যার সংযুক্ত না হওয়া পর্যন্ত ম্যানুয়াল কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে তালিকা প্রস্তুত করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। খুব শিগগির এ সমস্যা কেটে যাবে এবং তালিকা হবে।