ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিয়ানমার পরিস্থিতি

বাংলাদেশকে নরম হলে চলবে না

বিশেষ লেখা

বাংলাদেশকে নরম হলে চলবে না
×

অধ্যাপক শাহাব এনাম খান

অধ্যাপক শাহাব এনাম খান

প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ০১:২০ | আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ | ১৩:০৭

বাংলাদেশকে আর নরম থাকলে চলবে না। কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কিছু করতে হবে। কারণ কূটনৈতিক শিষ্টাচার যা রয়েছে, সে জায়গায় বাংলাদেশ সর্বোচ্চ করেছে। 

তবে এখানে সমস্যা হচ্ছে– মিয়ানমার এমন একটি দেশ, যারা কূটনৈতিক শিষ্টাচার বোঝে না। কূটনৈতিক শিষ্টাচারগুলোকে সম্মান করার মতো সক্ষমতা দেশটির নেই। কারণ এটি একটি সামরিক দেশ। আর এ দেশের শক্তির পেছনে রয়েছে মাদক থেকে শুরু করে মানব পাচারকারী ও অস্ত্র ব্যবসায়ীরা। যে কারণে বাংলাদেশের কূটনৈতিক শিষ্টাচারগুলো দেশটির কর্তৃপক্ষ বুঝছে না।

এখন বাংলাদেশকে কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে গিয়ে কিছু একটা করতে হবে। এখন প্রশ্ন আসছে, কূটনৈতিক শিষ্টাচারের বাইরে কী আছে। সেটি হচ্ছে, বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত করা এবং সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন। এটি কিন্তু যুদ্ধ নয় বা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি নয়। এ ক্ষেত্রে বিষয়গুলোতে বাংলাদেশকে বেইজিং, ওয়াশিংটন এবং জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। কারণ আমার সমস্যা দ্বিপক্ষীয় হলেও এটিকে আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে আনতে হবে।

বাংলাদেশকে এখন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে মনোযোগী হওয়ার কিছু নেই। কারণ এ মুহূর্তে প্রত্যাবাসন অসম্ভব। এখন মিয়ানমারে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে অনেকগুলো ফ্যাক্টর তৈরি হয়েছে। সুতরাং, প্রত্যাবাসনকে দ্বিপক্ষীয় দৃষ্টিকোণে দেখলে হবে না। প্রত্যাবাসনের জন্য রাখাইনের অন্য যে ফ্যাক্টরগুলো রয়েছে, তাদের বাংলাদেশকে প্রস্তুত করতে হবে। এদের সঙ্গে এখনই যোগাযোগ স্থাপন করা না গেলেও তাদের সম্পর্কে সম্মুখ ধারণা থাকতে হবে, রাখাইনে কোন গোষ্ঠীর কী ভূমিকা রয়েছে।

মিয়ানমারের বিদ্রোহী সশস্ত্র দল আরাকান আর্মিসহ অন্য ফ্যাক্টরগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ স্থাপন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাখাইনকে স্থিতিশীল করা বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কূটনৈতিক, কৌশলগত ও রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশ কীভাবে রাখাইনকে স্থিতিশীল করবে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতি নিতে হবে। প্রত্যাবাসন তখনই সম্ভব, যখন রাখাইন স্থিতিশীল হবে। আর স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে নরম ও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাংলাদেশ যত কথাই বলুক না কেন, মিয়ানমার কোনো কথা শোনে না। এ কারণে সামরিক বাহিনীকে ব্যবহার করতে হবে। বিশ্বের যে শক্তিগুলো রয়েছে– চীন, জাপান বা যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যেকের সঙ্গে এ নিয়ে কূটনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে আলোচনা শুরু করা উচিত। আগামী ২ থেকে ৩ বছরের জন্য এর বাইরে বাংলাদেশের আর কিছু করার নেই।

আরও পড়ুন

×